| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

ছায়া মন্ত্রিসভা কী, এখতিয়ারে কী থাকে?

reporter
  • আপডেট টাইম: ফেব্রুয়ারী ১৫, ২০২৬ ইং | ১২:৩৯:১০:অপরাহ্ন  |  ৬৮২৬১৬ বার পঠিত
ছায়া মন্ত্রিসভা কী,  এখতিয়ারে কী থাকে?

রিপোর্টার্স ডেস্ক: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে যখন নতুন সরকার ও মন্ত্রিসভা গঠন নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে, তখন নতুন করে আলোচনায় এসেছে ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ ধারণা। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর নেতা ও আইনজীবী শিশির মনির এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া পৃথকভাবে ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের ঘোষণা দেওয়ার পর বিষয়টি জনমনে কৌতূহল তৈরি করেছে।

ছায়া মন্ত্রিসভা কী?

“ছায়া মন্ত্রিসভা” (Shadow Cabinet) মূলত ওয়েস্টমিনস্টার ধারার সংসদীয় গণতন্ত্রে প্রচলিত একটি কাঠামো। এটি সাধারণত প্রধান বিরোধী দল গঠন করে। সরকারের প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের বিপরীতে বিরোধী দল একজন করে “ছায়া মন্ত্রী” মনোনীত করে।

উদাহরণ হিসেবে, যুক্তরাজ্য-এ বিরোধী দলের ছায়া মন্ত্রিসভা অত্যন্ত সক্রিয়। একইভাবে অস্ট্রেলিয়া-তেও এই প্রথা চালু রয়েছে।

তাদের কাজ কী?

ছায়া মন্ত্রীদের প্রধান দায়িত্ব হলো- সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের নীতি, বাজেট ও কার্যক্রম বিশ্লেষণ করা, সংসদে প্রশ্ন তোলা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা, সরকারের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করা, বিকল্প নীতি ও পরিকল্পনা প্রস্তাব করা, অর্থাৎ, তারা সরাসরি প্রশাসনিক ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারেন না; বরং পর্যবেক্ষক ও সমালোচক হিসেবে কাজ করেন।

এখতিয়ার কীরকম?

ছায়া মন্ত্রিসভার কোনো সাংবিধানিক বা নির্বাহী ক্ষমতা থাকে না। তারা- সরকারি সিদ্ধান্ত বাতিল করতে পারেন না, প্রশাসনিক আদেশ জারি করতে পারেন না, রাষ্ট্রীয় অর্থ বরাদ্দ নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না। তাদের ভূমিকা সম্পূর্ণ রাজনৈতিক ও নীতিগত। মূল লক্ষ্য হলো সরকারের ওপর নজরদারি এবং বিকল্প নেতৃত্ব হিসেবে নিজেদের প্রস্তুত রাখা।

রাজনৈতিক গুরুত্ব

বিশ্লেষকদের মতে, ছায়া মন্ত্রিসভা শুধু সরকারের সমালোচনার জন্য নয়; এটি বিরোধী দলের জন্য এক ধরনের রাজনৈতিক প্রশিক্ষণ কাঠামো। এতে ভবিষ্যৎ মন্ত্রীরা প্রশাসনিক প্রক্রিয়া, বাজেট ব্যবস্থাপনা ও নীতিনির্ধারণ সম্পর্কে বাস্তব ধারণা লাভ করেন। একই সঙ্গে জনগণের কাছে একটি ‘প্রস্তুত বিকল্প সরকার’ হিসেবে নিজেদের উপস্থাপন করা যায়।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট

বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের নজির নেই। সংবিধান বা আইনেও এর বাধ্যবাধকতা নেই। তবে সংসদীয় গণতন্ত্রকে আরও কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক করতে বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের কাঠামোর পক্ষে মত দিয়ে আসছেন।

সাম্প্রতিক ঘোষণাগুলো বাস্তবে রূপ নিলে বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এটি নতুন অধ্যায় সূচনা করতে পারে- বিশেষ করে বিরোধী রাজনীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক ও নীতিনির্ভর ধারায় আনতে।

রিপোর্টার্স২৪/আরকে

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪