| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

ভ্যালেন্টাইনস ডে নয়, গ্যালেন্টাইনস ডে: বন্ধুত্ব ও আত্ম-ভালোবাসা

reporter
  • আপডেট টাইম: ফেব্রুয়ারী ১৪, ২০২৬ ইং | ০৩:৪১:৩৮:পূর্বাহ্ন  |  ৭০৯১৭৯ বার পঠিত
ভ্যালেন্টাইনস ডে নয়, গ্যালেন্টাইনস ডে: বন্ধুত্ব ও আত্ম-ভালোবাসা

স্টাফ রিপোর্টার: ভালোবাসা, ফুল আর চকলেট—সব অনুভূতি একদিনেই প্রকাশের চাপ কেন নেবেন? ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি চিরাচরিত ভ্যালেন্টাইনস ডে-র বিকল্প হিসেবে এখন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে তুলনামূলক চাপমুক্ত এক উদযাপন—‘গ্যালেন্টাইনস ডে’। এটি এমন একটি দিন, যেদিন প্রেমিক-প্রেমিকার বদলে বন্ধুদের সঙ্গে এবং নিজের সঙ্গে ভালোবাসা ভাগ করে নেওয়াকেই গুরুত্ব দেওয়া হয়।

এই ধারণার সূচনা জনপ্রিয় মার্কিন সিটকম Parks and Recreation থেকে। ২০১০ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি প্রচারিত এক পর্বে অভিনেত্রী Amy Poehler অভিনীত চরিত্র লেসলি নোপ তার প্রেমজ জীবনের হতাশা সামাল দিতে গিয়ে প্রচলিত ভ্যালেন্টাইনস ডে-র বাইরে নতুন এক দিন ঘোষণা করেন—‘গ্যালেন্টাইনস ডে’। প্রেমিক-নির্ভর উদযাপনের পরিবর্তে বান্ধবীদের সঙ্গে সময় কাটানো এবং নিজেকে উদযাপন করাই ছিল এর মূল বার্তা।

গ্যালেন্টাইনস ডে পালিত হয় ভ্যালেন্টাইনস ডে-র আগের দিন। যুক্তরাষ্ট্রে এক-তৃতীয়াংশের বেশি নারী সঙ্গীহীন—তাদের জন্য যেমন এটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, তেমনি সম্পর্কে থেকেও যারা ব্যক্তিগত সময় ও পরিসর চান, তাদের কাছেও দিনটি আকর্ষণীয়। সাধারণত বন্ধুদের সঙ্গে ব্রাঞ্চ, আড্ডা, হাসি-ঠাট্টা ও খানিকটা পানাহারের মধ্য দিয়ে দিনটি উদযাপন করা হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি টেলিভিশনের পর্দা ছাড়িয়ে সামাজিক ও বাণিজ্যিকভাবে স্বীকৃত এক উপলক্ষে পরিণত হয়েছে।

তবে গ্যালেন্টাইনস ডে শুধু বন্ধুদের সঙ্গে আনন্দ-উৎসবের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি আত্ম-ভালোবাসা ও আত্ম-যত্ন চর্চারও একটি উপযুক্ত সময়। নিউইয়র্কভিত্তিক ডেটিং ও সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ র‍্যাচেল ডি-আল্টো বলেন, নিজেকে ভালোবাসা একটি সুস্থ সম্পর্কের ভিত্তি। তার মতে, নিজের জীবনে কারা আপনাকে অনুপ্রাণিত করছে আর কারা আত্মবিশ্বাসে আঘাত করছে—সেটি খেয়াল করা জরুরি। আত্ম-ভালোবাসা ভেতর থেকে শুরু হলেও আশপাশের মানুষ আমাদের আত্মমর্যাদায় প্রভাব ফেলতে পারে।

লস অ্যাঞ্জেলেসভিত্তিক ক্লিনিক্যাল মনোবিজ্ঞানী লরেন কুকের পরামর্শ, নিজেকে আলাদা একজন মানুষ হিসেবে কল্পনা করে তার প্রতি সদয় আচরণ শুরু করা যেতে পারে। যেমন আপনি অন্য কাউকে উপহার দেন বা আন্তরিক চিঠি লেখেন, তেমনি নিজের জন্যও তা করুন। আমরা অনেক সময় অন্যদের তুলনায় নিজের সঙ্গে কম সহানুভূতিশীল আচরণ করি। এই দিনটি সেই অভ্যাস বদলানোর সুযোগ, বলেন তিনি।

পরিবার ও সম্পর্কবিষয়ক থেরাপিস্ট ডেমন এল. জ্যাকবস মনে করিয়ে দেন, মানুষ জন্মগতভাবেই নিজেকে ভালোবাসতে জানে। শিশুরা নিজেদের সুন্দর ও শক্তিশালী মনে করে—তাদের আলাদা স্বীকৃতির প্রয়োজন হয় না। তার মতে, আত্ম-ভালোবাসা গভীর করতে হলে একান্তে সময় কাটানো, আনন্দদায়ক কাজে যুক্ত হওয়া এবং নিজের ভেতরের অনুভূতিগুলো বোঝার চর্চা জরুরি।

তিনি আরও বলেন, নিজের প্রতি যত বেশি যত্ন ও মনোযোগ দেওয়া যায়, ততই আত্মবিশ্বাস বাড়ে এবং তা অন্যদের কাছেও ইতিবাচকভাবে প্রতিফলিত হয়। নেতিবাচক চিন্তার বদলে ইতিবাচক গুণগুলোর দিকে মনোযোগ দেওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। এতে ধীরে ধীরে মস্তিষ্ক নিজের সম্পর্কে সহমর্মিতাপূর্ণ ধারণা তৈরি করতে শেখে।

জ্যাকবসের ভাষায়, নিজের মূল্যায়ন করতে হবে বাস্তব প্রমাণের ভিত্তিতে—অন্তর্গত সমালোচকের কঠোর ও বিকৃত ধারণার ওপর নয়। জীবনে করা ভালো কাজ, অন্যকে সহায়তা করা, অর্জন ও সাফল্য—এসবই হোক আত্মমূল্যায়নের মানদণ্ড।

তার সংক্ষিপ্ত পরামর্শ, ভালোবাসা অনুভব করতে চাইলে ভালোবাসাময় কাজ করুন।

একটি বিশ্বে, যেখানে অনেক সময় ভালোবাসা ও সহমর্মিতা কমে আসছে বলে মনে হয়, সেখানে গ্যালেন্টাইনস ডে কেবল ভ্যালেন্টাইনস ডে-র বিকল্প নয়—এটি আত্ম-যত্ন, বন্ধুত্ব এবং নিজের প্রতি মমত্ববোধ উদযাপনের এক ইতিবাচক উপলক্ষ।

রিপোর্টার্স২৪/বাবি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪