স্টাফ রিপোর্টার: দীর্ঘ প্রস্তুতি ও সংস্কার প্রক্রিয়ার পর আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে দেশের ২৯৯টি সংসদীয় আসনে ভোটগ্রহণ হবে। জামায়াতে ইসলামীর এক প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন স্থগিত রয়েছে।
এবারের নির্বাচন ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলন-পরবর্তী বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় ভোট। একই দিনে সংবিধান সংস্কারসংক্রান্ত প্রস্তাবের ওপর জাতীয় গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে। ফলে ভোটাররা দুটি ব্যালটে ভোট দেবেন;একটি সংসদ সদস্য নির্বাচনের জন্য (সাদা ব্যালট) এবং অন্যটি গণভোটে ‘হ্যাঁ/না’ মতামতের জন্য (গোলাপি ব্যালট)।
তফসিল ও প্রস্তুতি
শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে পুনর্গঠিত নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকা হালনাগাদ, সীমানা নির্ধারণসহ প্রস্তুতিমূলক কাজ শেষ করে ১১ ডিসেম্বর তফসিল ঘোষণা করে। মনোনয়নপত্র দাখিল, বাছাই ও প্রত্যাহার প্রক্রিয়া শেষে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হয়।
ভোটার ও প্রার্থী
নির্বাচনে ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৩ জন ভোটার অংশ নেওয়ার কথা। সারা দেশে ৪২ হাজার ৭৭৯টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ৫০টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের মোট ২ হাজার ২৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন;এর মধ্যে দলীয় ১ হাজার ৭৫৫ জন এবং স্বতন্ত্র ২৭৩ জন।
ঢাকা-১২ আসনে সর্বোচ্চ ১৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, আর পিরোজপুর-১ আসনে সর্বনিম্ন দুইজন।
আওয়ামী লীগ ছাড়া নির্বাচন
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এবারের নির্বাচন আওয়ামী লীগবিহীন। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় সংঘটিত সহিংসতার অভিযোগে দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ ও নিবন্ধন স্থগিত থাকায় তারা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না।
প্রচার-প্রচারণা ও আচরণবিধি
২০ দিনের প্রচারণা শেষে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল থেকে সব ধরনের সভা-সমাবেশ বন্ধ হয়। আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে একাধিক প্রার্থীকে সতর্ক ও জরিমানা করেছে নির্বাচন কমিশন। রঙিন পোস্টার ও দেয়াল লিখন নিষিদ্ধ থাকায় প্রচারণায় সাদা-কালো পোস্টারই বেশি দেখা গেছে।
পোস্টাল ভোট ও প্রবাসীদের অংশগ্রহণ
প্রথমবারের মতো প্রবাসীদের জন্য পূর্ণাঙ্গ পোস্টাল ভোটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, ১৫ লাখের বেশি ভোটার পোস্টাল ব্যালটে নিবন্ধন করেছেন। ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে, যা মূল গণনার সময় যুক্ত হবে।
নির্বাচনী জনবল ও নিরাপত্তা
ভোটগ্রহণে প্রায় ৮ লাখ কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করবেন। মাঠপর্যায়ে ৪২ হাজার ৭৭৯ জন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা, ২ লাখ ৪৭ হাজারের বেশি সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা এবং প্রায় ৫ লাখ পোলিং কর্মকর্তা নিয়োজিত থাকছেন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত রয়েছেন প্রায় ৯ লাখ ৫৮ হাজার সদস্য। এর মধ্যে সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিজিবি, র্যাব, আনসার ও অন্যান্য বাহিনীর সদস্যরা রয়েছেন। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে বাড়তি নিরাপত্তা, ড্রোন ও সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়েছে।নির্বাচনী অপরাধ মোকাবিলায় দুই হাজারের বেশি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ৬৫৭ জন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে থাকবেন।
পর্যবেক্ষক ও বিধিনিষেধ
দেশি ৫৫ হাজারের বেশি এবং আন্তর্জাতিক প্রায় ৪০০ পর্যবেক্ষক নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবেন। ভোটের দিন যানবাহন চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
সব প্রস্তুতি শেষ করে এখন ভোটের অপেক্ষায় দেশ। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করার জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি