আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক (ডিএনআই) তুলসি গ্যাবার্ড জানিয়েছেন, গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মধ্যে ‘রাজনৈতিক প্রভাব’ দূর করার ঘোষিত লক্ষ্য নিয়ে গত বছর যে বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করেছিলেন, সেটি তিনি গুটিয়ে নিয়েছেন। সমালোচকদের অভিযোগ ছিল, এটি ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষপাতমূলক আক্রমণের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল।
গ্যাবার্ড রয়টার্সকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানান, ‘ডিরেক্টর’স ইনিশিয়েটিভস গ্রুপ’ (ডিআইজি)–এর সদস্যদের তার দপ্তরের (ODNI) অন্য বিভাগে পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে অবগত দুইটি সূত্র জানায়, কিছু ‘ভুল পদক্ষেপের’ অভিযোগের পর টাস্কফোর্সটি বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তবে ওডিএনআই–এর এক মুখপাত্র এসব ‘ভুল পদক্ষেপের’ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ডিআইজি শুরু থেকেই সাময়িক উদ্যোগ হিসেবে পরিকল্পিত ছিল গ্যাবার্ডও একই কথা বলেন।
গ্যাবার্ড বলেন, ডিরেক্টর’স ইনিশিয়েটিভস গ্রুপ ছিল অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ও স্বল্পমেয়াদি প্রকল্প বিশেষ করে প্রেসিডেন্টের নির্বাহী আদেশ বাস্তবায়নে দ্রুত সম্পদ মোতায়েনের একটি সাময়িক উদ্যোগ।
তিনি আরও বলেন, ডিআইজিতে অস্থায়ীভাবে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে আমরা তাদের ওডিএনআই–এর বিভিন্ন দলে পুনর্বিন্যাস করেছি, যাতে আমাদের মিশন বাস্তবায়ন অব্যাহত থাকে।
কংগ্রেসের নজরদারি
ডিআইজি গঠনের পর থেকেই কংগ্রেসের সদস্যরা এর কাঠামোকে ‘গোপনীয়’ বলে সমালোচনা করে আসছিলেন। গত ডিসেম্বরে কংগ্রেস একটি আইন পাস করে, যাতে গ্যাবার্ডকে ডিআইজি–র নেতৃত্ব, জনবল ও নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে শ্রেণিবদ্ধ (ক্লাসিফায়েড) প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়।
নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও ওডিএনআই মুখপাত্র বলেন, সংস্থাটি কংগ্রেসকে তথ্য সরবরাহ করবে।
সংবেদনশীল সময়ে সিদ্ধান্ত
ডিআইজি গুটিয়ে নেওয়ার খবরটি এসেছে এমন এক সময়ে, যখন ডেমোক্র্যাটরা ২৮ জানুয়ারি জর্জিয়ার একটি কাউন্টির নির্বাচন সংরক্ষণাগারে এফবিআই অভিযানে গ্যাবার্ডের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। ওই অভিযানে ব্যালট বাক্সসহ বিভিন্ন নির্বাচন–সংক্রান্ত উপকরণ জব্দ করা হয়।
রয়টার্স গত সপ্তাহে জানায়, গ্যাবার্ডের দপ্তর গত বছর পুয়ের্তো রিকোর ভোটিং মেশিন নিয়েও একটি তদন্ত তদারকি করেছিল এবং কিছু মেশিন নিজেদের হেফাজতে নিয়েছিল।
হোয়াইট হাউস গ্যাবার্ডের ভূমিকা সমর্থন করলেও কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাট নেতারা অভিযোগ করেন, তিনি গোয়েন্দা সংস্থার এখতিয়ার অতিক্রম করেছেন এবং ভবিষ্যতে নির্বাচনে হস্তক্ষেপের আশঙ্কা রয়েছে।
সাফল্য নাকি পক্ষপাত?
ডিআইজি–র সমর্থকেরা সাবেক প্রেসিডেন্ট জন এফ. কেনেডির হত্যাকাণ্ড–সংক্রান্ত নথি অবমুক্তকরণ এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একাধিক নির্বাহী আদেশ দ্রুত বাস্তবায়নকে সাফল্য হিসেবে তুলে ধরেন।তবে সমালোচকদের মতে, গোয়েন্দা মহলে ‘রাজনৈতিক প্রভাব’ খুঁজে বের করার উদ্যোগটি ছিল পক্ষপাতদুষ্ট।
ওডিএনআই দাবি করেছিল, তারা এমন নথি অবমুক্ত করেছে যা গ্যাবার্ডের অভিযোগকে সমর্থন করে অর্থাৎ সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ২০১৬ সালের নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ নিয়ে গোয়েন্দা মূল্যায়ন ‘তৈরি’ করিয়েছিলেন, যা ট্রাম্পের পক্ষে গিয়েছিল।
তবে ২০২৫ সালের সিআইএ পর্যালোচনা, ২০১৮ সালের দ্বিদলীয় সিনেট গোয়েন্দা কমিটির প্রতিবেদন এবং বিশেষ কৌঁসুলি রবার্ট মুলারের তদন্ত গ্যাবার্ডের এই অভিযোগের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। মুলার ২৫ জন রুশ নাগরিককে অভিযুক্ত করেছিলেন। ওবামা কোনো অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেন।
সিনেট গোয়েন্দা কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট মার্ক ওয়ার্নার গত বছর রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, তিনি সন্দেহ করেন ডিআইজি ট্রাম্প–বিরোধী বা ‘অবিশ্বস্ত’ বলে বিবেচিত গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ‘উইচ হান্ট’ চালাচ্ছিল।
‘ভুল পদক্ষেপ’ নিয়ে বিতর্ক
সূত্র দুটি জানায়, ডিআইজি ভুল করে এক ফেডারেল নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল দাঙ্গার আগের রাতে ওয়াশিংটনে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান পার্টির কার্যালয়ের বাইরে পাইপ বোমা স্থাপনের সঙ্গে যুক্ত বলে চিহ্নিত করেছিল।
তবে ওডিএনআই মুখপাত্র বলেন, সংস্থাটি কেবল এক হুইসেলব্লোয়ারের অভিযোগ আইনগত বাধ্যবাধকতার কারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়েছিল এবং এতে তাদের আইনি পরামর্শক যুক্ত ছিলেন।
আরেকটি সূত্র জানায়, ৩৭ জন বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তার নিরাপত্তা ছাড়পত্র বাতিল করার সময় ডিআইজি অনিচ্ছাকৃতভাবে বিদেশে আন্ডারকভার দায়িত্বে থাকা এক সিআইএ কর্মকর্তার নাম প্রকাশ করে ফেলে।ওডিএনআই মুখপাত্র এ অভিযোগও অস্বীকার করেন, বলেন কোনো সংস্থার নাম উল্লেখ করা হয়নি।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি