বগুড়া প্রতিনিধি: বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনের পারশুন গ্রামে সোমবার রাতে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন। এতে মাঝগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি মাসুদ রানা মজিদের ডান চোখ লাঠির আঘাতে গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই খবর পেয়ে তার মা মাজেদা খাতুন স্ট্রোক করে মারা গেছেন।
সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে রয়েছে মাসুদের ভাই রবিউল ইসলাম ও ছাত্র শিবিরের স্থানীয় নেতা আসাদুল্লাহ হিল গালিব। প্রথমে মাসুদ ও রবিউলকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় মাসুদকে ঢাকায় জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে স্থানান্তর করা হয়।
বিএনপি অভিযোগ করেছে, জামায়াত কর্মী বেলাল হোসেন ও ফারুক আহম্মেদ পারশুন গ্রামে ভোটারদের মধ্যে টাকা বিতরণের জন্য গেলে বিএনপি নেতাকর্মীরা তাদের আটক করে পুলিশে খবর দেন। পুলিশ আসার আগে জামায়াতের আরও নেতাকর্মী এসে বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর লাঠি-প্রহার চালায় এবং মাসুদের বাড়িঘর ভাঙচুর করে। এক পর্যায়ে লাঠির আঘাতে তার ডান চোখ প্রায় উপড়ে যায়।
জামায়াতের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, পারশুনে বিএনপির মিছিল থেকে তাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। তাদের একজনকে মারধর করা হয়েছে এবং আরও দুই কর্মীকে আটকে রাখা হয়েছে। আহত গালিবকে শজিমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
নন্দীগ্রাম থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, এখনও থানায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আসেনি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নন্দীগ্রামের ইউএনও ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা শারমিন আরা জানিয়েছেন, উভয় পক্ষকে সতর্ক করে পুলিশ ও এসিল্যান্ড পাঠানো হয়েছে এবং ঘটনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সংঘর্ষের এই ঘটনায় নির্বাচনী এলাকায় উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। উভয় রাজনৈতিক দলের নেতারা একে অপরকে দায়ী করছেন, এবং পরিস্থিতি শান্ত করতে প্রশাসন তৎপর রয়েছে।