স্টাফ রিপোর্টার: অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টাসহ উপদেষ্টা পরিষদের সব সদস্য, বিশেষ সহকারী ও বিশেষ দায়িত্বপ্রাপ্তদের সম্পদের বিবরণী প্রকাশ করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। মঙ্গলবার প্রকাশিত এ বিবরণীতে গত অর্থবছরের শেষ দিন, অর্থাৎ ২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত তাঁদের সম্পদের তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের মোট সম্পদের পরিমাণ ১৫ কোটি ৬২ লাখ ৪৪ হাজার ৬৫ টাকা। এক বছর আগে যা ছিল ১৪ কোটি ১ লাখ ৩৯ হাজার ৬৭৩ টাকা। সে হিসাবে এক বছরে তাঁর সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৬১ লাখ ৪ হাজার ৩৯২ টাকা। সঞ্চয়পত্র নগদায়ন, ব্যাংক আমানত বৃদ্ধি ও উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত শেয়ারের কারণে এই সম্পদ বেড়েছে বলে বিবরণীতে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টার আর্থিক সম্পদের পরিমাণ ১৪ কোটি ৭৬ লাখ টাকার বেশি, নন-ফাইন্যান্সিয়াল সম্পদ ২১ লাখ টাকার বেশি এবং বিদেশে সম্পদ রয়েছে ৬৪ লাখ টাকার বেশি। তাঁর কোনো দেনা নেই। তবে তাঁর স্ত্রী আফরোজী ইউনূসের মোট সম্পদ কমে দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ২৭ লাখ টাকায়, যা আগের অর্থবছরে ছিল ২ কোটি ১১ লাখ টাকার বেশি। তাঁর দায় রয়েছে ১৬ লাখ ৯৬ হাজার টাকা।
অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদের মোট সম্পদ ৭ কোটি ১৬ লাখ টাকার বেশি। তাঁর কোনো দায় নেই। তাঁর স্ত্রী পারভীন আহমেদের সম্পদ ৫ কোটি ৩৮ লাখ টাকার বেশি, তবে ব্যবসায়িক দায় রয়েছে ৩ কোটি ১২ লাখ টাকার বেশি।
পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদের মোট সম্পদ ১৬ কোটি ২২ লাখ টাকার বেশি, যা আগের বছরের তুলনায় বেড়েছে। ব্যাংক আমানতের মুনাফা ও ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি থেকে আয় বৃদ্ধির কথা তিনি উল্লেখ করেছেন।
আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের মোট সম্পদ ১ কোটি ৬০ লাখ টাকার বেশি। তাঁর স্ত্রী শীলা আহমেদের সম্পদ ২ কোটি ৪৪ লাখ টাকার বেশি।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের মোট সম্পদ ২ কোটি ৯৩ লাখ টাকার বেশি। তাঁর স্ত্রীর সম্পদ ৩ কোটি ৬৬ লাখ টাকার বেশি।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলমের মোট সম্পদ ২ কোটি ৭৭ লাখ টাকার বেশি। তাঁর স্ত্রী লায়লা আরজুর সম্পদ ১ কোটি ১৩ লাখ টাকার বেশি।
গৃহায়ণ ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান এক বছরে সম্পদের বড় ধরনের বৃদ্ধি দেখিয়েছেন। তাঁর মোট সম্পদ ২ কোটি ৫২ লাখ টাকার বেশি, যেখানে আগের বছর ছিল ৯৮ লাখ টাকার কিছু বেশি। তাঁর স্ত্রীর সম্পদ ৫ কোটি ৮৩ লাখ টাকার বেশি।
শিক্ষা উপদেষ্টা সি আর আবরারের মোট সম্পদ ৭ কোটি ৫৭ লাখ টাকার বেশি। তাঁর স্ত্রীর সম্পদ ৮ কোটি ২৯ লাখ টাকার বেশি।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানের সম্পদ ৬ কোটি ৭২ লাখ টাকার বেশি।
স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমের সম্পদ ৬ কোটি ২৪ লাখ টাকার বেশি।
বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীনের সম্পদ সবচেয়ে বেশি,৯১ কোটি ৬৫ লাখ টাকার বেশি। তাঁর স্ত্রীর সম্পদ ২ কোটি টাকার বেশি।
সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর মোট সম্পদ কমলেও তাঁর স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩ কোটি টাকায়।
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী জেনারেল (অব.) আবদুল হাফিজের মোট সম্পদ ১৩ কোটি ৫৭ লাখ টাকার বেশি।জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানের সম্পদের বড় অংশ বিদেশে ৪৬ লাখ মার্কিন ডলার ও ২২ লাখ টাকা। তাঁর ১২ লাখ ডলারের দায় রয়েছে।
২০২৪ সালের আগস্টে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান তুলে ধরে সব উপদেষ্টার সম্পদের বিবরণী প্রকাশের ঘোষণা দেন। দীর্ঘদিন পর সেই ঘোষণার বাস্তবায়ন হওয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির প্রশ্নে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি