| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

প্রিয়াঙ্কা, মাসুদ ও রাশেদুল—ত্রিমুখী হাড্ডাহাড্ডি লড়াই শেরপুর-১ আসনে

reporter
  • আপডেট টাইম: ফেব্রুয়ারী ১০, ২০২৬ ইং | ০২:২৩:০৫:পূর্বাহ্ন  |  ৭৩৬৭১২ বার পঠিত
প্রিয়াঙ্কা, মাসুদ ও রাশেদুল—ত্রিমুখী হাড্ডাহাড্ডি লড়াই শেরপুর-১ আসনে

শেরপুর প্রতিনিধি: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ মুহূর্তে শেরপুর-১ (সদর) আসনে ত্রিমুখী হাড্ডাহাড্ডি প্রতিদ্বন্দ্বিতা দৃশ্যমান—বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. শফিকুল ইসলাম মাসুদ (মোটরসাইকেল প্রতীক) ও জামায়াত মনোনীত হাফেজ রাশেদুল ইসলাম (দাঁড়িপাল্লা প্রতীক) এই আসনের মূল প্রার্থী হিসেবে উদ্ভুত আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আছেন। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে এ আসনে সাত বা ছয় জন প্রার্থী নাম লেখিয়েছেন, মাঠ পর্যায়ে লড়াইও তৈরি হয়েছে মূলত তিন জনকে কেন্দ্র করে।

ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের অন্যতম কণিষ্ঠ ও একমাত্র নারী প্রার্থী হিসেবে বিশেষভাবে আলোচিত। পেশায় চিকিৎসক এবং বয়সে তরুণ তিনি নতুন প্রজন্ম ও নারী ভোটারদের মধ্যে আশার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন। ২০১৮ সালের নির্বাচনে নিজের প্রতিভা ও গতিশীল প্রচারণার মাধ্যমে প্রিয়াঙ্কা ত wtedy পরিচিত হন; ওই নির্বাচনে তিনি শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন—ফলাফল ভিন্ন হলেও তিনি রাজনীতিতে এক পরিচিত নাম হয়ে ওঠেন। বর্তমানে তিনি দলের সবচেয়ে কণিষ্ঠ প্রার্থী হিসেবে জেলা রাজনীতিতে এক নতুন দিগন্ত খুলেছেন।

স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. শফিকুল ইসলাম মাসুদ জেলা বিএনপির প্রাক্তন যুগ্ম আহ্বায়ক ও জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি; মনোনয়ন না পাওয়ার পর তিনি স্বতন্ত্রভাবে মাঠে নামেন। স্থানীয়ভাবে তিনি ব্যক্তিগতভাবে শক্ত ফলোয়িং ও চরাঞ্চলের কিছু ভোট-বিভাগে প্রভাবশালীভাবে উপস্থিত আছেন। বিএনপির কিছু স্তরের অস্বস্তি ও ভেতরিয় বিভেদের প্রেক্ষাপটে মাসুদের সমর্থকরা তাকে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখতে শুরু করেছেন।

জামায়াত মনোনীত হাফেজ রাশেদুল ইসলাম দলীয় সংগঠনের শক্ত হাতে সংগঠিত ক্যানডিডেট; তিনি ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা ও জামায়াতের স্থানীয় স্তরে দীর্ঘদিন কাজ করে আসছেন। গত কয়েক বছর ধরে দলীয় মাঠি‌য়ে সক্রিয় থাকার দরুণ তিনি তৃণমূল পর্যায়ে প্রসার ঘটাতে সক্ষম হয়েছেন। পরবর্তীতে এনসিপিসহ ১১ দলের সমর্থন পেয়ে তার আন্দোলন আরও জোরালো হয়েছে।

এ আসনের ইতিহাস ও প্রেক্ষাপটও এবারের লড়াইকে বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে। শেরপুর-১ আসনে দীর্ঘ ৪১ বছর ধরে বিএনপি থেকে কোনো এমপি নির্বাচিত হয়নি এবং গত কিছুক্ষণ ধরে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকটিও অনুপস্থিত ছিল বলে জানানো হয়। ১৯৭৯ সালের পর থেকে দীর্ঘ সময় ধরে বিএনপি-সমর্থকরা এই আসনকে ফের তাদের দখলে দেখার আকাঙ্ক্ষা রাখে; এ কারণে এবারের প্রতিদ্বন্দ্বিতা অনেকে মনে করছেন আবেগ, প্রত্যাশা ও রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের লড়াই।

মাঠ পর্যায়ের ভোটারদের দাবিও বেশ স্পষ্ট। তরুণ ভোটাররা রেললাইন স্থাপন, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজসহ অবকাঠামোগত উন্নয়ন চাইছেন। প্রবীণ ভোটাররা চান এমন জনপ্রতিনিধি যিনি ব্যক্তিগত স্বার্থের চেয়ে এলাকার দীর্ঘমেয়াদি দাবি সংসদে জোরালোভাবে তুলতে পারবেন। স্থানীয় বাজার, চায়ের দোকান ও গ্রামবাংলার বিস্তারিত আলাপ-আলোচনায় এখন প্রিয়াঙ্কার তারুণ্য, মাসুদের ব্যক্তিগত প্রভাব এবং রাশেদুল ইসলামের সাংগঠনিক শক্তি—এই তিনটির সমন্বয় নিয়েই ভোট ের নির্বাচন থমথমে চলছে।

অঞ্চলের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, অভিজ্ঞতা বনাম সমন্বয় ও নতুন প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষার লড়াই এখানে উদ্বোধনী আকার ধারণ করেছে। চরাঞ্চলের ভোটে বিভাজন থাকায় ফল অনিশ্চিত; স্থানীয় দলের আবেশ, বিদ্রোহী প্রার্থীর অংশগ্রহণ ও রাজনৈতিক ঐতিহ্যের সংঘাত—এসব মিলিয়ে এই আসনটি নির্বাচনকালীন গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যতিক্রমী হয়ে উঠেছে। ভোটের দিন ও ফলাফলের পর শেরপুরবাসী হয়তো একটি ইতিহাস-সংবলিত সিদ্ধান্তের সাক্ষী হবেন—কেউ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করে বলছেন না, তবে প্রত্যাশা ও উত্তেজনা স্পষ্ট।

রিপোর্টার্স২৪/বাবি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪