| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

রয়টার্স প্রতিবেদন

‘আয়রন লেডি’ তাকাইচির ভূমিধস জয়, জাপানে নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়

reporter
  • আপডেট টাইম: ফেব্রুয়ারী ০৮, ২০২৬ ইং | ২১:৪০:০৯:অপরাহ্ন  |  ৭৭০১৭০ বার পঠিত
‘আয়রন লেডি’ তাকাইচির ভূমিধস জয়, জাপানে নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়
ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত

স্টাফ রিপোর্টার: জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির নেতৃত্বাধীন জোট রোববার অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে ঐতিহাসিক জয় পেয়েছে। এই জয়ের মধ্য দিয়ে কর ছাড়সহ একাধিক অর্থনৈতিক সংস্কার এবং চীনকে মোকাবিলায় সামরিক ব্যয় বাড়ানোর পথ অনেকটাই সহজ হলো যদিও এসব নীতির কারণে ইতোমধ্যে আর্থিক বাজারে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

জাপানের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী তাকাইচির নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এলডিপি) পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের ৪৬৫টি আসনের মধ্যে সর্বোচ্চ ৩২৮টি আসন পেতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। শুধু এলডিপিই নির্বাচনের ফল ঘোষণার দুই ঘণ্টার মধ্যেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় ২৩৩টি আসন ছাড়িয়ে যায়, যা দলটির ইতিহাসের অন্যতম সেরা ফল।

জোটসঙ্গী জাপান ইনোভেশন পার্টি (ইশিন)-এর সঙ্গে মিলিয়ে তাকাইচির জোট এখন দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনের নিয়ন্ত্রণে। এর ফলে উচ্চকক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকলেও তিনি আইন পাসে বাধা অতিক্রম করতে পারবেন।

শীতকালীন নির্বাচন, ভোটের ঝড়

নির্বাচনের ফল আসার সময় এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে তাকাইচি বলেন,

এই নির্বাচন ছিল বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তন নিয়ে বিশেষ করে অর্থনৈতিক ও রাজস্ব নীতি এবং নিরাপত্তা জোরদারের বিষয়ে। এসব নীতি নিয়ে প্রবল বিরোধিতা ছিল। জনগণ যদি আমাদের সমর্থন দিয়ে থাকে, তাহলে পূর্ণ শক্তি দিয়েই আমাদের এগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে।

৬৪ বছর বয়সী তাকাইচি গত অক্টোবর মাসে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকায় বিরল এক শীতকালীন আকস্মিক নির্বাচন ডাকেন। ভোটারদের একটি বড় অংশ তার স্পষ্টভাষী ও পরিশ্রমী ভাবমূর্তিতে আকৃষ্ট হয়েছে।

তবে জাতীয়তাবাদী অবস্থান, নিরাপত্তা ইস্যুতে কড়া দৃষ্টিভঙ্গি এবং কর ছাড়ের প্রতিশ্রুতি জাপানের শক্তিশালী প্রতিবেশী চীনের সঙ্গে সম্পর্ককে টানাপোড়েনে ফেলেছে এবং আর্থিক বাজারকে অস্থির করেছে।

নির্বাচনের দিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রেকর্ড তুষারপাত হয়। কোথাও কোথাও যান চলাচল ব্যাহত হয়, এমনকি কিছু ভোটকেন্দ্র আগেভাগে বন্ধও করতে হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এটি ছিল মাত্র তৃতীয়বারের মতো ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচন।

নিগাতা প্রদেশের পার্বত্য শহর উওনুমার একটি ভোটকেন্দ্রের বাইরে শিক্ষক কাজুশিগে চো (৫৪) বলেন,মনে হচ্ছে তিনি দেশটাকে একটা দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন সবাই যেন একসঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছে।

কর ছাড় নিয়ে উদ্বেগ, বাজারে অস্থিরতা

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি হিসেবে তাকাইচি খাদ্যপণ্যের ওপর ৮ শতাংশ ভোক্তা কর স্থগিত করার ঘোষণা দেন, যাতে মূল্যস্ফীতিতে চাপ কমে। কিন্তু উন্নত অর্থনীতিগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ ঋণভার বহনকারী জাপান এই ব্যয় কীভাবে মেটাবেতা নিয়ে বিনিয়োগকারীরা উদ্বিগ্ন।

রোববার তাকাইচি বলেন, কর ছাড়ের বিষয়টি দ্রুত বিবেচনা করা হবে, তবে একই সঙ্গে রাজস্বের টেকসই ব্যবস্থাও নিশ্চিত করতে হবে।

দাইওয়া ক্যাপিটাল মার্কেটস ইউরোপের গবেষণা প্রধান ক্রিস স্কিকলুনা বলেন,ভোক্তা কর কমানোর পরিকল্পনা অর্থায়ন নিয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি করছে। হিসাবটা তিনি কীভাবে মেলাবেন, তা স্পষ্ট নয়।

ট্রাম্পের সমর্থন, চীনের অসন্তোষ

জাপানের শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠন কেইদানরেনের প্রধান ইয়োশিনোবু ত্সুতসুই তাকাইচির জয়কে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফেরার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, টেকসই ও শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির জন্য জাপানের অর্থনীতি এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে।

এর আগে তাকাইচির পূর্বসূরি শিগেরু ইশিবার আমলে গত ১৫ মাসে একাধিক নির্বাচনে এলডিপি উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিল। তাকাইচি ক্ষমতায় এসে বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের সমর্থন আদায় করতে সক্ষম হন। তাকে ঘিরে ‘সানাকাতসু’ বা ‘সানায়ে-ম্যানিয়া’ নামের এক ধরনের উন্মাদনাও দেখা গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত সপ্তাহে তাকাইচিকে ‘সম্পূর্ণ সমর্থন’ দেওয়ার কথা জানান এবং আগামী মাসে হোয়াইট হাউসে আমন্ত্রণ জানান।

অন্যদিকে চীন এই ফলাফল গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তাইওয়ান ইস্যুতে জাপানের সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া প্রকাশ্যে তুলে ধরে তাকাইচি বেইজিংয়ের সঙ্গে গত এক দশকের সবচেয়ে বড় উত্তেজনার জন্ম দেন। জবাবে চীন নাগরিকদের জাপান ভ্রমণ না করার আহ্বানসহ একাধিক পাল্টা পদক্ষেপ নেয়।

তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে তাকাইচিকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, এই জয় জাপান ও এ অঞ্চলের অংশীদারদের জন্য আরও সমৃদ্ধ ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ বয়ে আনবে।

বিশ্লেষকদের মতে, শক্তিশালী এই গণরায় তাকাইচির প্রতিরক্ষা জোরদারের পরিকল্পনাকে আরও গতি দেবে, যা চীনের অসন্তোষ বাড়াতে পারে।

এশিয়া গ্রুপের ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি বিশ্লেষক ডেভিড বোলিং বলেন,বেইজিং তাকাইচির এই জয়কে স্বাগত জানাবে না। এখন চীনের সামনে বাস্তবতা হলো তিনি শক্ত অবস্থানে আছেন, আর তাকে পুরোপুরি একঘরে করার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।

রিপোর্টার্স২৪/এসসি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪