স্টাফ রিপোর্টার: ‘তওহীদ ভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় মৌলিক অধিকার ও বাকস্বাধীনতা রক্ষার রূপরেখা’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে কালো তালিকাভুক্ত সংগঠন হেযবুত তওহীদ।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে আয়োজিত এ বৈঠকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন হেযবুত তওহীদের এমাম হোসাইন মোহাম্মাদ সেলিম।
উল্লেখ্য, ১৯৯৫ সালে টাঙ্গাইলে মোহাম্মদ বায়েজীদ খান পন্নীর হাত ধরে কার্যক্রম শুরু হওয়া হেযবুত তওহীদ ২০০৮ সালে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কালো তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়। ২০১৪ সালে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে সংগঠনটি সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক সতর্কতা জারি করা হয় এবং ২০১৯ সালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একে নিষিদ্ধ করার একটি প্রস্তাব পর্যালোচনার কথা জানায়। যদিও ২০২৬ সালের শুরু পর্যন্ত সংগঠনটি বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘নিষিদ্ধ’ ঘোষিত হয়নি, তবে তাদের প্রতিটি কর্মসূচি প্রশাসনের কঠোর পর্যবেক্ষণে থাকে। বাংলাদেশ ব্যাংকও এই সংগঠনের আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে বিশেষ সতর্কবার্তা প্রদান করে রেখেছে। বিভিন্ন সময় নিষিদ্ধ করার কথা সামনে এলেও সংগঠনটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয় যে, তারা আইন মান্যকারী নাগরিক এবং তাদের বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ ভিত্তিহীন।
শনিবার প্রবন্ধ উপস্থাপনের সময় হেযবুত তওহীদের এমাম হোসাইন মোহাম্মাদ সেলিম বলেন, প্রচলিত বিচারব্যবস্থা মানুষের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। আদালত, আইনজীবী ও পুলিশের দ্বারে দ্বারে ঘুরে সাধারণ মানুষ হয়রানির শিকার হচ্ছে। ব্রিটিশ আমলে প্রবর্তিত এই বিচারব্যবস্থা পরিহার করে আল্লাহ প্রদত্ত বিচারব্যবস্থা গ্রহণ করাই সময়ের দাবি।
তিনি আরও বলেন, প্রচলিত বিচারব্যবস্থার প্রতি আপত্তির দুটি প্রধান কারণ রয়েছে। প্রথমত, যেসব বিষয়ে আল্লাহর সুস্পষ্ট বিধান রয়েছে, সে ক্ষেত্রে অন্য কোনো বিধান মানা ঈমানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। বর্তমান বিচারব্যবস্থা আল্লাহর বিধানের আলোকে পরিচালিত নয়; বরং ঔপনিবেশিক আমলে প্রবর্তিত আইন-কানুনের ওপর ভিত্তি করে চলছে।
দ্বিতীয়ত, এই ব্যবস্থা ন্যায়বিচার দিতে ব্যর্থ হয়েছে। আদালতে বিপুলসংখ্যক মামলা ঝুলে আছে এবং একটি মামলার নিষ্পত্তিতে বছরের পর বছর সময় লেগে যাচ্ছে, তবুও অনেক ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত বিচার পাওয়া যাচ্ছে না।
এমাম হোসাইন মোহাম্মাদ সেলিম বলেন, শুধু বিচারব্যবস্থাই নয়, রাষ্ট্রের প্রতিটি অঙ্গনে আল্লাহর বিধান কার্যকরের প্রস্তাব দিয়ে আসছে হেযবুত তওহীদ। তার মতে, চলমান অন্যায় ও অশান্তি দূর করে শান্তি প্রতিষ্ঠার একমাত্র উপায় হলো আল্লাহর হুকুম অনুযায়ী সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনা।
এই গোলটেবিল বৈঠকে বক্তব্য দেন বিচারপতি এমদাদুল হক আজাদ, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সাবেক ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সহ-সভাপতি গোলাম মোহাম্মদ চৌধুরী আলাল, সাবেক ডিএজি অপূর্ব কুমার ভট্টাচার্য, ব্যারিস্টার এবিএম গোলাম মোস্তফা তাজ, সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক আব্দুল হাই, অ্যাডভোকেট এ এস এম হাসান জহির, অ্যাডভোকেট মোরসেদুল ইসলাম সিকদারসহ আরও অনেকে।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন হেযবুত তওহীদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান, রুফায়দাহ পন্নী ও এস এম সামসুল হুদা, সাহিত্য সম্পাদক রিয়াদুল হাসান এবং সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক ইলা ইয়াসমিন প্রমুখ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন হেযবুত তওহীদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. মাহবুব আলম মাহফুজ।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব