| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

বন্দর ইজারা বিরোধী আন্দোলন: ১৫ কর্মচারীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

reporter
  • আপডেট টাইম: ফেব্রুয়ারী ০৬, ২০২৬ ইং | ০২:০৫:২০:পূর্বাহ্ন  |  ৭৯৮৮১৪ বার পঠিত
বন্দর ইজারা বিরোধী আন্দোলন: ১৫ কর্মচারীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আন্দোলনে জড়িত ১৫ কর্মচারীর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। আন্দোলনের জেরে ইতোমধ্যে যাদের মোংলা ও পায়রা বন্দরে বদলি করা হয়েছিল, সেই কর্মচারীদের এবার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের উৎস তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর চিঠি পাঠানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রাম বন্দর সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিমের সই করা ওই চিঠিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়। চিঠির অনুলিপি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই)-কেও পাঠানো হয়েছে, যাতে তারা বিষয়টি তদন্ত করে দেখেন।

চিঠিতে যাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার কথা বলা হয়েছে, তারা হলেন—চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক ও জাতীয়তাবাদী বন্দর শ্রমিক দলের সমন্বয়ক মো. হুমায়ুন কবির, শ্রমিক দল নেতা ও সমন্বয়ক মো. ইব্রাহিম খোকন, মো. ফরিদুর রহমান, মোহাম্মদ শফি উদ্দিন, রাশিদুল ইসলাম, আবদুল্লাহ আল মামুন, মো. জহিরুল ইসলাম, খন্দকার মাসুদুজ্জামান, মো. হুমায়ুন কবির, মো. শাকিল রায়হান, মানিক মিঝি, মো. শামসু মিয়া, মো. লিয়াকত আলী, আমিনুর রসুল বুলবুল এবং মো. রাব্বানী।

‘আন্দোলনের নামে নৈরাজ্য সৃষ্টিকারী কর্মচারীদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা ও স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ তদন্তকরণ’ শীর্ষক চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, চট্টগ্রাম বন্দরে সম্প্রতি আন্দোলনের নামে নৈরাজ্য ও রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে এসব কর্মচারীকে গত ২ ফেব্রুয়ারি মোংলা ও পায়রা বন্দরে বদলি করা হয়। চিঠিতে আরও বলা হয়, তাদের বিরুদ্ধে বর্তমানে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারা যেন দেশত্যাগ করতে না পারেন, সে জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

একই সঙ্গে এসব কর্মচারীর স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের উৎস যাচাই করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য দুদককে অনুরোধ করা হয়েছে। পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এনএসআইকেও বিষয়টি নজরদারিতে রাখার আহ্বান জানানো হয়।

এ বিষয়ে বন্দর সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিমের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে চট্টগ্রাম বন্দরের চিফ পারসোনেল অফিসার নাসির উদ্দিন সাংবাদিকদের কাছে বন্দর সচিবের সই করা চিঠির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

উল্লেখ্য, নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল বিদেশি প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ গত শনিবার থেকে তিন দিন প্রতিদিন আট ঘণ্টা করে কর্মবিরতি পালন করে। পরে মঙ্গলবার থেকে তারা লাগাতার কর্মবিরতিতে যান। এ সময় বন্দর কর্তৃপক্ষ আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় না গিয়ে বদলির সিদ্ধান্ত নেওয়ায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম বন্দরে লাগাতার কর্মবিরতি দুই দিনের জন্য স্থগিত ঘোষণা করা হয়। বিকেলে বন্দর ভবনে নৌপরিবহন উপদেষ্টা এম. সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে বৈঠক শেষে কর্মসূচি স্থগিতের ঘোষণা দেন সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মো. হুমায়ুন কবির। তিনি জানান, নৌ উপদেষ্টার দেওয়া আশ্বাস অনুযায়ী দাবি পূরণ না হলে রোববার থেকে আবারও কর্মবিরতি শুরু করা হবে।

রিপোর্টার্স২৪/বাবি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪