জামালপুর প্রতিনিধি: জামালপুর-২ সংসদীয় আসনে এবার জনপ্রিয়তা প্রমাণ করতে চায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। অন্যদিকে, আসন পুনরুদ্ধারে বড় চ্যালেঞ্জ নিয়ে মাঠে নেমেছে বিএনপি। এই আসনটিতে দীর্ঘ সময় ধরে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে আসলেও রাজনৈতিক সমীকরণে এবার ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে।
২০০১ সালে বিএনপির বর্তমান প্রার্থী সুলতান মাহমুদ বাবু আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট প্রার্থী ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী রাশেদ মোশারফকে পরাজিত করে আসনটি উদ্ধার করেছিলেন।
জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. ছামিউল হক ফারুকী অতীতে এই আসন থেকে নির্বাচন করলেও আশানুরূপ ফল পাননি। তবে এবারের নির্বাচনে দলটির সাংগঠনিক তৎপরতা ও ভোটের মাঠে সক্রিয় উপস্থিতি নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
যমুনা ও ব্রহ্মপুত্র নদীবিধৌত জামালপুর-২ আসনে প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই জমে উঠেছে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা। প্রার্থীরা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে সমর্থন চাইছেন।
ইসলামপুর উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এই সংসদীয় আসনটি জাতীয় সংসদের ১৩৯ নম্বর আসন হিসেবে পরিচিত। প্রজাপতির আকৃতির মানচিত্রের এই উপজেলাটি ভৌগোলিকভাবে যমুনা ও ব্রহ্মপুত্র নদীর কারণে তিনটি অঞ্চলে বিভক্ত।
এর মধ্যে পশ্চিমাঞ্চলে যমুনা নদীর তীরবর্তী ৬টি ইউনিয়ন, মধ্যাঞ্চলে একটি পৌরসভা ও ২টি ইউনিয়ন এবং পূর্বাঞ্চলে রয়েছে ৪টি ইউনিয়ন।
এই আসনে বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা চারজন। বিএনপির প্রার্থী সুলতান মাহমুদ বাবুর বাড়ি ব্রহ্মপুত্র নদের পূর্বাঞ্চলের গাইবান্ধা ইউনিয়নে। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. ছামিউল হক ফারুকী এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী সুলতান মাহমুদ সিরাজীর বাড়ি পশ্চিমাঞ্চলের চিনাডুলী ইউনিয়নে। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী অর্ণব ওয়ারেছ খানের বাড়ি পশ্চিমাঞ্চলের কুলকান্দি ইউনিয়নে।
জামালপুর-২ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৮২ হাজার ৮৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৪২ হাজার ৮০৭ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৩৭ হাজার ৩৩৫ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন একজন।
পোস্টাল ভোটার হিসেবে নিবন্ধন করেছেন পুরুষ ১ হাজার ৬১ জন এবং নারী ২৯৪ জন।
ভোটের মাঠে বর্তমানে এগিয়ে রয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সুলতান মাহমুদ বাবু (ধানের শীষ) এবং জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. ছামিউল হক ফারুকী (দাঁড়িপাল্লা)। তবে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী সুলতান মাহমুদ (হাতপাখা) প্রতীক নিয়ে সক্রিয় প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী অর্ণব ওয়ারেছ খান (ঘোড়া) প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও আলোচনায় তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে রয়েছেন।
সব মিলিয়ে এই আসনে মূল লড়াই হবে বিএনপির সুলতান মাহমুদ বাবু ও জামায়াতে ইসলামীর মো. ছামিউল হক ফারুকীর মধ্যে।
ঐক্যবদ্ধ বিএনপির সমর্থন এবং পূর্বে এমপি থাকাকালীন বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কারণে সুলতান মাহমুদ বাবু কিছুটা ফুরফুরে মেজাজে রয়েছেন। অন্যদিকে জামায়াতের প্রার্থী ড. ছামিউল হক ফারুকীও জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।
তবে আওয়ামী লীগ নির্বাচনে না থাকায় নৌকার ভোট কোন দিকে যাবে, সেটিই হতে পারে জয়-পরাজয়ের গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক। আওয়ামী লীগের ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে যাবেন কি না, আর গেলে ধানের শীষ না দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেবেন—সে সিদ্ধান্তের ফল জানা যাবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোট গণনার পর।
এই আসনে ৯২টি ভোটকেন্দ্রে প্রায় দেড় যুগ পর ২ লাখ ৮২ হাজার ৮৮ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।
রিপোর্টার্স২৪/এসএন