| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

নিহতদের নাম প্রকাশে সরকার উদ্যোগী হলেও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন; জাতিসংঘের অনুসন্ধান চায় সংস্কারপন্থীরা

ইরানে বিক্ষোভে নিহতের প্রকৃত সংখ্যা জানতে স্বাধীন তদন্তের দাবি

reporter
  • আপডেট টাইম: ফেব্রুয়ারী ০১, ২০২৬ ইং | ১৫:০৬:২৪:অপরাহ্ন  |  ৮০১৭১৭ বার পঠিত
ইরানে বিক্ষোভে নিহতের প্রকৃত সংখ্যা জানতে স্বাধীন তদন্তের দাবি
ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত ছবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সাম্প্রতিক সরকারবিরোধী বিক্ষোভে কতজন নিহত হয়েছেন এ প্রশ্নে ইরানের ভেতরেই স্বাধীন তদন্তের দাবি জোরালো হচ্ছে। সরকার নিহতদের নাম প্রকাশের তদারকি করবে বলে ঘোষণার পরও এই উদ্যোগকে অপর্যাপ্ত ও অস্বচ্ছ বলে মনে করছেন দেশটির সংস্কারপন্থী রাজনীতিক ও বিশ্লেষকেরা।

বৃহস্পতিবার ঘোষিত সরকারের এই ব্যতিক্রমধর্মী পদক্ষেপের উদ্দেশ্য হলো মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে এমন অভিযোগ এবং প্রায় ৩০ হাজার মানুষ নিহত হওয়ার দাবিকে নাকচ করা। শহীদ ফাউন্ডেশনের প্রকাশিত সরকারি হিসাবে নিহতের সংখ্যা ৩ হাজার ১১৭ জন, যার মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরাও রয়েছেন।

তবে ইরানের সংস্কারপন্থীদের মতে, সরকারের নিয়ন্ত্রণে নিহতদের পরিচয় প্রকাশের প্রক্রিয়া যথেষ্ট স্বচ্ছ নয় এবং এতে প্রকৃত নিহতের সংখ্যা নিয়ে চলমান বিতর্কের অবসান হবে না।

তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অধ্যাপক ও সরকারসমালোচক মোহসেন বোরহানি যিনি এর আগে ইভিন কারাগারে বন্দি ছিলেন বলেন, নিহতদের নাম প্রকাশ্যে জানানোর সরকারি প্রস্তাব একটি ইতিবাচক অগ্রগতি। কারণ অতীতের বড় বিক্ষোভগুলোতে নিহত ও আহতদের বিষয়ে প্রায় সম্পূর্ণ তথ্যশূন্যতার মুখে পড়তে হয়েছিল ইরানিদের।

বোরহানি বলেন, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে একটি ওয়েবসাইট চালু করা উচিত, যেখানে নিহতদের নাম প্রকাশ করা হবে যাতে তথ্য একতরফা না থাকে। তাঁর প্রস্তাব, নাগরিকরা যেন পরিচয় গোপন রেখে নিহতদের নাম ও তথ্য আপলোড করতে পারেন। পরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রতিটি নাম যাচাই করে প্রয়োজনীয় তথ্য প্রকাশ করবে।

তবে একটি বড় সমস্যা হলো যেসব পরিবার নিহতের পরিচয় প্রকাশ করতে চান, তারা প্রতিশোধের ঝুঁকিতে পড়তে পারেন, বিশেষ করে যদি তারা দাবি করেন যে তাদের স্বজন নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিহত হয়েছেন।

সরকারি পরিসংখ্যানের তুলনায় নিহতের সংখ্যা অনেক বেশি এমন ধারণার আরেকটি ইঙ্গিত পাওয়া যায় তেহরান শিক্ষক ইউনিয়নের এক বিবৃতিতে। সেখানে সব আটক ব্যক্তির মুক্তির দাবি জানিয়ে বলা হয়, এক সপ্তাহেরও কম সময়ে সমসাময়িক ইরানের ইতিহাসে দমন-পীড়নের সবচেয়ে রক্তাক্ত অধ্যায়গুলোর একটি সংঘটিত হয়েছে। হাজার হাজার শিশু ও নারীসহ অসংখ্য মানুষ রক্তে ভেসে গেছে।

সংস্কারপন্থী বিশ্লেষক আহমদ জেইদাবাদি বলেন, রাষ্ট্র ও সমাজের মধ্যে অবিশ্বাস এতটাই গভীর ও বিস্তৃত হয়েছে যে অনেক মানুষ আর সরকারি তথ্য বিশ্বাস করছেন না।

তিনি বলেন, সর্বোত্তম সমাধান হতে পারে জাতিসংঘের একটি নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য অনুসন্ধানী দলকে ইরানে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া।

নিজের টেলিগ্রাম চ্যানেলে জেইদাবাদি লেখেন, এই দায়িত্বটি কেন একটি বৈধ আন্তর্জাতিক সংস্থার ওপর ন্যস্ত করা হবে না, যাতে বিরোধী শক্তি ও দেশগুলো সহজে এর বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে না পারে?

এদিকে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের নির্বাচনে ভূমিকা রাখা সংস্কারপন্থী জোট ‘রিফর্ম ফ্রন্ট’ও একটি স্বাধীন কমিটি গঠনের আহ্বান জানিয়েছে। তারা বলেছে, এই কমিটির উচিত হবে এই নজিরবিহীন বিপর্যয় তদন্ত করে ইরানি জাতির সামনে একটি স্বচ্ছ ও সৎ প্রতিবেদন উপস্থাপন করা।

সংস্কারপন্থী আইনজীবী আলী মোজতাহেদজাদেহ বলেন, সরকারের উচিত অবিশ্বাসের মূল কারণগুলো দূর করা এবং শক্তিশালী নাগরিক সমাজ গড়ে তোলা।

এরই মধ্যে সাবেক প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি প্রথমবারের মতো এ বিষয়ে মুখ খুলেছেন। তিনি বলেন, ইসলামী প্রজাতন্ত্রে জন্ম ও বেড়ে ওঠা একটি প্রজন্মের নেতৃত্বে এই বিক্ষোভ প্রমাণ করে দেশে বড় ধরনের পরিবর্তন প্রয়োজন। তিনি রাজনৈতিক দল গঠনের সুযোগ বাড়ানো এবং নির্বাচনে প্রার্থীদের যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া (ফিল্টারিং) বন্ধের আহ্বান জানান।

অন্যদিকে, বিক্ষোভের তথাকথিত ‘উসকানিদাতাদের’ ধরতে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান চলার মধ্যে একটি বেসরকারি কমিটি এখনো আটক থাকা ব্যক্তিদের পরিচয় শনাক্তের কাজ শুরু করেছে। আটক ব্যক্তিদের কোনো সরকারি সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি, তবে ধারণা করা হচ্ছে, এই সংখ্যা কয়েক দশ হাজার।

১৮ বছরের কম বয়সী কত শিশু আটক রয়েছে, সে তথ্যও প্রকাশ করা হয়নি। তবে শিক্ষক ইউনিয়নের ওয়েবসাইটগুলোতে নিহত হিসেবে যাচাই হওয়া প্রতিটি শিশুর ছবি প্রকাশ করা হচ্ছে। সরকারি কর্মকর্তাদের আটক ব্যক্তিদের দেখতে যাওয়ার ছবিও সামনে এসেছে।

আইনজীবীরা ইরানি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, গ্রেপ্তার হওয়া অধিকাংশের জন্ম ১৯৮০ থেকে ১৯৮৫ সালের মধ্যে এবং তারা পরিবারের প্রধান উপার্জনকারী। অনেকের বিরুদ্ধে দুই থেকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের প্রাথমিক রায় দেওয়া হচ্ছে। তাদের বড় একটি অংশ শ্রমজীবী পরিবার থেকে আসা, যারা জামিনের অর্থ জোগাড় করতে পারছেন না। দ্য গার্ডিয়ান

রিপোর্টার্স২৪/এসসি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪