| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

শার্শায় শামুক বিক্রিতে জীবিকা তিন শতাধিক দরিদ্র পরিবারের

reporter
  • আপডেট টাইম: অক্টোবর ১৫, ২০২৬ ইং | ১৬:২৭:১৬:অপরাহ্ন  |  ১১৭৫ বার পঠিত
শার্শায় শামুক বিক্রিতে জীবিকা তিন শতাধিক দরিদ্র পরিবারের

বেনাপোল প্রতিনিধি: যশোরের শার্শা উপজেলায় প্রাকৃতিক জলাশয় থেকে শামুক সংগ্রহ করে বিক্রি করেই জীবিকা নির্বাহ করছেন তিন শতাধিক দরিদ্র পরিবারের সদস্যরা। গ্রামাঞ্চলে কাজের অভাব ও বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ না থাকায় নারী-পুরুষের পাশাপাশি শিশুরাও জড়িয়ে পড়ছে এ পেশায়। প্রতিদিন কেজিপ্রতি মাত্র ৭ টাকা দরে শামুক বিক্রি করে কোনো রকমে সংসার চালাচ্ছেন তারা। অন্যদিকে, নির্বিচারে শামুক আহরণে জলজ পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার ডিহি, লক্ষণপুর, বাহাদুরপুর, শার্শা সদর ও নিজামপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন খাল-বিল ও জলাশয়ে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত শামুক সংগ্রহ করছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। কেউ হেঁটে, আবার কেউ ডিঙি নৌকায় করে জলাশয়ে নেমে শামুক কুড়াচ্ছেন। পরে বিকেলে ইউনিয়নভিত্তিক নির্ধারিত স্থানে সেগুলো জড়ো করে ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করছেন।

সংগ্রহকারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একজন দিনে ৩০ থেকে ৭০ কেজি পর্যন্ত শামুক সংগ্রহ করতে পারেন। প্রতি কেজি ৭ টাকা দরে বিক্রি করে আয় হয় ২১০ থেকে ৪৯০ টাকা। এই সামান্য আয় দিয়ে বর্তমান বাজারে পরিবারের নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় মেটানো কঠিন হয়ে পড়েছে। তবু কৃষিকাজসহ অন্যান্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত হওয়ায় জীবিকার তাগিদে এ পেশায় থাকতে হচ্ছে তাদের।

শামুক সংগ্রহকারী জয়দেব চক্রবর্তী বলেন, বর্ষা মৌসুমে কৃষিকাজ বা অন্য কোনো কাজের সুযোগ না থাকায় পেটের দায়ে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সহায়তায় এ পেশায় যুক্ত হয়েছেন তারা। শামুক সংগ্রহ করে প্রতিদিন জনপ্রতি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত আয় হয় বলে জানান তিনি।

ডিহি ইউনিয়নের তেবাড়িয়া জেলেপল্লীর শামুক সংগ্রহকারী দীলিপ মন্ডল, বিজয়, রিনা রাণী, আরতি দাসী, রাধে বালা ও রফিকুল ইসলাম এবং নিজামপুর ইউনিয়নের পোতাপাড়ার পবন মন্ডল, অসিম তরফদার, আলো বিশ্বাস, মিলন রাণী ও নলিতা রাণীসহ অনেকে জানান, ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত বিভিন্ন জলাশয়ে ঘুরে শামুক সংগ্রহ করেন তারা।

তাদের ভাষ্য, মাঠে কাজ না থাকায় বাধ্য হয়ে শামুক সংগ্রহ করতে হচ্ছে। দিন শেষে শামুক বিক্রির টাকা দিয়েই পরিবারের সদস্যদের মুখে খাবার তুলে দিতে হয়। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে স্বল্প আয়ে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের।

শার্শা উপজেলার স্বরূপদাহ এলাকার শামুক ব্যবসায়ী কামাল হোসেন, আকরম আলী ও নিত্য মন্ডল জানান, দক্ষিণ ও উত্তর শার্শায় পৃথক দুটি ব্যবসায়ী গ্রুপ এ বছর কয়েকটি ইউনিয়নের সংগ্রহকারীদের কাছ থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২০০ মণ শামুক কিনছে। প্রতি কেজি শামুকের ক্রয়মূল্য ৭ টাকা।

ব্যবসায়ী আব্দুল মমিন জানান, এ ব্যবসার সঙ্গে এলাকায় ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ২০ থেকে ২৫ জন ব্যবসায়ী জড়িত। বর্ষা মৌসুমের তিন থেকে চার মাস তাদের পাইকারি কেনাবেচা চলে। স্থানীয় সংগ্রহকারীদের কাছ থেকে শামুক কিনে বিভিন্ন জেলার বড় আড়তে সরবরাহ করেন তারা।

ব্যবসায়ীরা জানান, সংগৃহীত শামুক খুলনার চেঁচুড়ি-কাপালিয়া এলাকার ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করা হয়। সেখানে যন্ত্রের সাহায্যে প্রক্রিয়াজাত করার পর শামুক চিংড়ি ও পাঙ্গাশ মাছের খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

তাদের দাবি, এ বছর খাল-বিল ও জলাশয়ে পানির পরিমাণ কম থাকায় এবং পানির সংস্পর্শে অ্যালার্জিজনিত সমস্যার কারণে আগের বছরের তুলনায় শামুক সংগ্রহকারী পরিবারের সংখ্যা কমেছে।

শার্শা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা পলাশ বালা বলেন, শামুক-ঝিনুক সংরক্ষণে সরকারের প্রকল্প থাকলেও তা এ অঞ্চলে প্রযোজ্য নয়। শামুক জলাশয়ের প্রাকৃতিক পরিশোধন প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পানির বিভিন্ন দূষিত পদার্থ পরিশোধনে সহায়তা করে জলজ প্রাণীর বসবাসের উপযোগী পরিবেশ বজায় রাখতে ভূমিকা রাখে এটি।

তিনি আরও বলেন, অতিরিক্ত শামুক আহরণ বা নিধন করা হলে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। শামুক সংগ্রহ ও বিক্রিতে জড়িত ব্যক্তিদের নিরুৎসাহিত করার পাশাপাশি এ বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফজলে ওয়াহিদ বলেন, এ অঞ্চলে অবৈধভাবে শামুক ও ঝিনুক সংগ্রহের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো হবে। পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় প্রয়োজনে শামুক সংগ্রহকারী এবং এ কাজে জড়িত অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শার্শায় শামুক আহরণকে ঘিরে একদিকে কর্মসংস্থানের অভাবে দরিদ্র মানুষের জীবিকার লড়াই, অন্যদিকে জলজ পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এ সংকট মোকাবিলায় দরিদ্র পরিবারগুলোর জন্য বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং একই সঙ্গে প্রাকৃতিক জলজ সম্পদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি।

রিপোর্টার্স২৪/রাফিদ

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪