ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: আকাশসীমায় উগ্রবাদের এক ভয়ংকর ষড়যন্ত্র থেকে রক্ষা পেয়েছে ফ্লাইদুবাইর দুবাই-তেল আবিব ফ্লাইট। বোয়িং ৭৩৭ বিমানটিকে ইসরায়েলে ক্র্যাশ করানোর পরিকল্পনা ছিল ওমানি কো-পাইলট হামাম আলহামমামির। নিজ দেশ ওমানে বিমান চালনায় নিষিদ্ধ এ পাইলট কীভাবে আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট চালানোর সুযোগ পেলেন, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে।
দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ও সিএনএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওমানি পিতা ও সিরীয় মায়ের সন্তান আলহামমামি শৈশবের বেশিরভাগ সময় সিরিয়ায় কাটিয়েছেন। সেখান থেকেই উগ্রবাদী ভাবধারায় প্রভাবিত হন তিনি। ২০২৪ সালে ওমান এয়ারে ট্রেইনি কো-পাইলট হিসেবে কাজ করার সময় তার কাছে উগ্রপন্থি নথিপত্র পাওয়া যায়। নিরাপত্তাঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করে তাকে ওমানে বিমান চালনায় নিষিদ্ধ করা হয়। কিন্তু সেই নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে তিনি চলতি বছরের জানুয়ারিতে দুবাইভিত্তিক ফ্লাইদুবাইয়ে যোগ দেন।
হামলার সময় ২৪ শিশুসহ ১৭০ জনের বেশি যাত্রী নিয়ে ৩৪ হাজার ফুট উঁচুতে থাকা বিমানটি হঠাৎ প্রতি মিনিটে ২৩ হাজার ফুট বেগে নিচে নামতে শুরু করে। সহকারী পাইলটের ছুরিকাঘাতে রক্তাক্ত হওয়া সত্ত্বেও প্রধান ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছার অসীম সাহসিকতায় ককপিটের দরজা খুলে দেন। ফলে যাত্রীরা ভেতরে ঢুকে আক্রমণকারী আলহামমামিকে কাবু করেন। পরে পেছনের আসনে থাকা দুজন রিলিফ পাইলট বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সৌদি আরবের তাবুকে নিরাপদে জরুরি অবতরণ করান।
তদন্তে উঠে এসেছে, ঘটনার পরপরই আলহামমামির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলকায়দা নেতা আয়মান আল-জাওয়াহিরির ছবি এবং উগ্রবাদী পোস্ট প্রকাশ করা হয়। এ ঘটনা আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও নিয়োগ প্রক্রিয়ার ভয়াবহ গলদ উন্মোচিত করেছে। সূত্র: এনডিটিভি
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব