| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন বাড়াতে ২২ বিলিয়ন ডলার খরচ করবে যুক্তরাষ্ট্র

reporter
  • আপডেট টাইম: অক্টোবর ০২, ২০২৬ ইং | ১৫:১৬:০৪:অপরাহ্ন  |  ৮৭৬ বার পঠিত
ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন বাড়াতে ২২ বিলিয়ন ডলার খরচ করবে যুক্তরাষ্ট্র

 ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: ইরান যুদ্ধে বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের পর যুক্তরাষ্ট্রের মজুত কার্যত কমে এসেছে। সেই ঘাটতি পূরণ করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান অস্ত্র সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান রেথিয়নের সঙ্গে ২২.৪ বিলিয়ন ডলারের চুক্তির ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর।

এসএম-৬ ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন বাড়াতে স্থানীয় সময় গতকাল বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) এই চুক্তির ঘোষণা দেওয়া হয়। খবর আরব নিউজের।

পেন্টাগন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ‘আকাশপথ ও সমুদ্রপৃষ্ঠের লক্ষ্যবস্তু ধ্বংসের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাঁচ বছর মেয়াদি এই চুক্তিতে আরও দুই বছর মেয়াদ বাড়ানোর সুযোগ রাখা হয়েছে, যা উৎপাদন প্রক্রিয়াকে আরও ত্বরান্বিত করবে।’

মার্কিন নৌবাহিনী জানিয়েছে, এই চুক্তির উদ্দেশ্য হলো ‘স্ট্যান্ডার্ড মিসাইল-৬’ (এসএম-৬) ইন্টারসেপ্টর বা প্রতিহতকারী ক্ষেপণাস্ত্রের একটি নিরবচ্ছিন্ন ও নির্ভরযোগ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা। এই ক্ষেপণাস্ত্র একই সঙ্গে আক্রমণাত্মক অভিযান এবং ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা—উভয় ক্ষেত্রেই সক্ষম।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, চুক্তিটি প্রতিরক্ষা শিল্পকে দীর্ঘমেয়াদি নিশ্চয়তা দেবে, যা তাদের জনবল বা কর্মীবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ ব্যবস্থা সুরক্ষিত রাখার জন্য অপরিহার্য।

দ্রুত উৎপাদন বাড়াতে ঠিকাদারদের ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য পেন্টাগন চলতি বছর যেসব বড় ধরনের সামরিক চুক্তি করেছে, তার সর্বশেষ সংযোজন নতুন চুক্তিটি। এর আগে গত সেপ্টেম্বরে আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রের জন্য রেথিয়ামের সঙ্গে ২০.৭ বিলিয়ন ডলার এবং প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টরের জন্য লকহিড মার্টিনের সঙ্গে ৫৮.৬ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি করে পেন্টাগন। অস্ত্র উৎপাদনকে অগ্রাধিকার দেওয়ার যে উদ্যোগ ট্রাম্প প্রশাসন নিয়েছে, এই চুক্তিগুলো তারই অংশ।

তবে শিল্প খাতের নির্বাহীরা সতর্ক করেছেন, মার্কিন আইনসভা কংগ্রেস এখনও চুক্তিগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ করেনি। এর অর্থ হলো, আইনপ্রণেতারা চূড়ান্ত পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত ঠিকাদারদের পক্ষে বড় আকারের বিনিয়োগ করা কঠিন হতে পারে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যুদ্ধ শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্রের গোলাবারুদের মজুতে যে ব্যাপক ঘাটতি দেখা দিয়েছে, সে সংক্রান্ত প্রশ্নকে খুব বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন না ট্রাম্প।

তবে গত মাসে প্রতিরক্ষা বিভাগের মহাপরিদর্শক জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত এই অভিযানের ফলে গোলাবারুদ ব্যবহারের কারণে কৌশলগত মজুতে ঘাটতি দেখা দিয়েছে এবং নতুন করে গোলাবারুদ সরবরাহের ক্ষেত্রে শিল্প-উৎপাদন কাঠামোর সীমাবদ্ধতা উন্মোচিত হয়েছে।

এ ছাড়া ১৫ সেপ্টেম্বর কংগ্রেশনাল বাজেট অফিসের একটি প্রতিবেদনে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সরঞ্জামের ওপর বিরূপ প্রভাবের কথা উল্লেখ করে বলা হয়, এর ফলে আগামী কয়েক বছর যুক্তরাষ্ট্রের হাতে ‘ইন্টারসেপ্টর’ বা ক্ষেপণাস্ত্র-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত সীমিত হয়ে পড়বে।

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার সাত মাস পরেও কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর ওপর তেহরান নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে। অন্যদিকে ওয়াশিংটন ইরানের বন্দরগুলো অবরোধ করে রেখেছে।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প তার সহযোগীদের জানিয়েছেন যে তিনি নভেম্বরের শেষ নাগাদ ইরানের ওপর পুনরায় বোমা হামলা শুরুর আশা করছেন। এমনটি ঘটলে আরও বেশি পরিমাণে মার্কিন গোলাবারুদ ব্যবহারের পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে।


রিপোর্টার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪