| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

সর্বোচ্চ ৭ টাকা ১১ পয়সায় সৌরবিদ্যুৎ কিনবে বিতরণ সংস্থা

reporter
  • আপডেট টাইম: সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬ ইং | ২৩:১৮:৩৯:অপরাহ্ন  |  ৪৩৬ বার পঠিত
সর্বোচ্চ ৭ টাকা ১১ পয়সায় সৌরবিদ্যুৎ কিনবে বিতরণ সংস্থা

স্টাফ রিপোর্টার: বেসরকারি বাণিজ্যিক সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ কেনার দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।

সংযোগের ভোল্টেজভেদে প্রতি ইউনিটের দাম পড়বে ৬ টাকা ৯৮ পয়সা এবং ৭ টাকা ১১ পয়সা।

নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক বাণিজ্যিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে গ্রাহকের কাছে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিতে সঞ্চালন ও বিতরণ লাইন ব্যবহারের মাশুলও নির্ধারণ করেছে কমিশন।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিইআরসির এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত তুলে ধরা বলা হয়, আগামী অক্টোবর থেকে নতুন হার কার্যকর হবে।

বিইআরসি বলেছে, সৌরবিদ্যুৎভিত্তিক বাণিজ্যিক কেন্দ্র থেকে একক ক্রেতা হিসেবে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) বিদ্যুৎ কিনতে পারবে। ৩৩ কিলোভোল্ট বা কেভিতে প্রতি ইউনিটের দাম হবে ৬ টাকা ৯৮ পয়সা। ১৩২ কেভিতে দাম হবে ৭ টাকা ১১ পয়সা।

বাণিজ্যিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বা মার্চেন্ট পাওয়ার প্ল্যান্টের (এমপিপি) উৎপাদিত বিদ্যুৎ সরাসরি বড় গ্রাহকের কাছে বিক্রির সুযোগ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে উৎপাদক ও ক্রেতা নিজেদের মধ্যে দাম ঠিক করবেন। তবে সরকারি সঞ্চালন ও বিতরণ লাইন ব্যবহার করলে আলাদা মাশুল দিতে হবে।

লাইন ব্যবহারের এই মাশুলকে বলা হচ্ছে ‘ওপেন অ্যাকসেস ট্যারিফ’। বিদ্যুৎকেন্দ্র ও গ্রাহকের সংযোগের ধরন অনুযায়ী মোট মাশুল হবে প্রতি ইউনিটে ১ টাকা ২২ পয়সা থেকে ১ দশমিক ৯০৯৭ টাকা।

বিইআরসির বিজ্ঞপ্তিতে তিন ধরনের সংযোগের জন্য এ মাশুল নির্ধারণ করা হয়েছে। বিদ্যুৎকেন্দ্র সরাসরি গ্রিডে এবং গ্রাহক সরকারি বিতরণ সংস্থার ব্যবস্থায় যুক্ত থাকলে সঞ্চালন ভোল্টেজ অনুযায়ী মাশুল দিতে হবে। এক্ষেত্রে ২৩০ কেভিতে প্রতি ইউনিটের মোট মাশুল ১ দশমিক ৫৯৮৯ টাকা। ১৩২ কেভিতে তা ১ দশমিক ৬০২৫ টাকা এবং ৩৩ কেভিতে পড়বে ১ দশমিক ৬০৯৭ টাকা।

এই মাশুলের মধ্যে সঞ্চালন, বিতরণ ও বিদ্যুতের হিসাব ব্যবস্থাপনা এবং বিল নিষ্পত্তির চার্জ রয়েছে। সঞ্চালন মাশুল ২৩০ কেভিতে প্রতি ইউনিটে ৩৭ দশমিক ৮৯ পয়সা। ১৩২ কেভিতে তা ৩৮ দশমিক ২৫ পয়সা এবং ৩৩ কেভিতে ৩৮ দশমিক ৯৭ পয়সা।

বিদ্যুৎ গ্রহণের প্রান্তে বিতরণ মাশুল প্রতি ইউনিটে ১ টাকা ১৭ পয়সা। হিসাব ব্যবস্থাপনা ও বিল নিষ্পত্তির জন্য প্রতি ইউনিটে আরও ৫ পয়সা দিতে হবে।

বিদ্যুৎকেন্দ্র ও গ্রাহক সঞ্চালন ব্যবস্থার দুই প্রান্তে আলাদা বিতরণ সংস্থায় যুক্ত থাকলে বিদ্যুৎ দেওয়ার প্রান্তে অতিরিক্ত ৩০ পয়সা বিতরণ মাশুল প্রযোজ্য হবে। তখন ২৩০ কেভিতে প্রতি ইউনিটের মোট মাশুল হবে ১ দশমিক ৮৯৮৯ টাকা। ১৩২ কেভিতে তা ১ দশমিক ৯০২৫ টাকা এবং ৩৩ কেভিতে ১ দশমিক ৯০৯৭ টাকা। তবে সঞ্চালন ব্যবস্থার দুই প্রান্তে বিদ্যুৎকেন্দ্র ও গ্রাহক একই বিতরণ সংস্থায় যুক্ত থাকলে অতিরিক্ত ৩০ পয়সা দিতে হবে না। বিদ্যুৎ দেওয়ার প্রান্তে বিতরণ লসও আরোপ করা হবে না। এই হিসাবের জন্য সব পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিকে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের আওতায় একই সংস্থা হিসেবে গণ্য করা হবে।

বিদ্যুৎকেন্দ্র ও গ্রাহক একই বিতরণ সংস্থায় যুক্ত থাকলে এবং সরবরাহে সঞ্চালন ব্যবস্থা ব্যবহার না হলে মোট মাশুল হবে প্রতি ইউনিটে ১ টাকা ২২ পয়সা।

মাশুলের পাশাপাশি বিদ্যুৎ সরবরাহের সময় অপচয় বা সঞ্চালন ও বিতরণ লসের হিসাবও প্রযোজ্য হবে। সঞ্চালন লসের ক্ষেত্রে পাওয়ার গ্রিডের প্রতি মাসে প্রকাশিত প্রকৃত গড় হার ব্যবহার করা হবে। বিতরণ লসের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ভোল্টেজে সর্বশেষ সমাপ্ত অর্থবছরের অর্জিত হার প্রযোজ্য হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে বিতরণ সংস্থাভেদে পৃথক মাশুলও উল্লেখ করা হয়েছে। পিডিবির জন্য প্রতি ইউনিটে এ হার ৭০ পয়সা। পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের জন্য ১ টাকা ৪৩ পয়সা, ডিপিডিসির জন্য ৮৫ পয়সা এবং ডেসকোর জন্য ৯৯ পয়সা। ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির জন্য হার ৮৭ পয়সা। নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানির জন্য তা ১ টাকা ৪ পয়সা।

বাণিজ্যিক কেন্দ্রের উৎপাদিত ও সরবরাহ করা বিদ্যুতের হিসাব ব্যবস্থাপনা এবং বিল নিষ্পত্তির সমন্বিত দায়িত্ব পালন করবে পিডিবি। নির্ধারিত হারে কেন্দ্রগুলোকে বিল করবে সংস্থাটি। পরে সংশ্লিষ্ট বিতরণ সংস্থাকে তাদের প্রযোজ্য মাশুল অনুযায়ী অর্থ পরিশোধ করবে।

২০২৫ সালে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে মার্চেন্ট পাওয়ার নীতিমালা করা হয়। এ ব্যবস্থায় এক এলাকায় স্থাপিত বিদ্যুৎকেন্দ্র সরকারি সঞ্চালন ও বিতরণ লাইন ব্যবহার করে অন্য এলাকার বড় গ্রাহকের কাছে বিদ্যুৎ বিক্রি করতে পারবে।

বাণিজ্যিক কেন্দ্রের ঘোষিত মাসিক উৎপাদনের সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ সরকারি বিতরণ সংস্থার কাছে বিক্রির সুযোগ রয়েছে। বাকি বিদ্যুৎ বড় গ্রাহকের কাছে সরাসরি বিক্রি করতে পারবেন উদ্যোক্তারা। এর আগে গত ২৩ অগাস্ট মার্চেন্ট পাওয়ারের বিদ্যুতের দাম ও গ্রিড ব্যবহারের মাশুল নিয়ে গণশুনানি করে বিইআরসি। কমিশনের কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি সরকারি বিতরণ সংস্থার কাছে বিক্রি করা সৌরবিদ্যুতের দাম প্রতি ইউনিটে ৬ টাকা ৪৮ পয়সা করার সুপারিশ করেছিল।

ওই শুনানিতে বড় শিল্পগ্রাহক হারিয়ে রাজস্ব কমার আশঙ্কা জানিয়েছিল পিডিবি ও কয়েকটি বিতরণ কোম্পানি। তাদের উদ্বেগ ছিল, শিল্পগ্রাহকরা দিনে মার্চেন্ট সৌরবিদ্যুৎ কিনে রাতে আবার বিতরণ কোম্পানির বিদ্যুৎ নিতে পারেন।

অন্যদিকে উদ্যোক্তারা বলেছিলেন, সঞ্চালন, বিতরণ ও অন্যান্য মাশুল বেশি হলে নবায়নযোগ্য বিদ্যুতে বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হবে।

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪