| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

ধ্বংসস্তূপের পাশেই চলছে শিশুদের টিকাদান কার্যক্রম

reporter
  • আপডেট টাইম: সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬ ইং | ১২:২৬:৫৭:অপরাহ্ন  |  ২৬৯২ বার পঠিত
ধ্বংসস্তূপের পাশেই চলছে শিশুদের টিকাদান কার্যক্রম

রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: চারপাশে ধ্বংসস্তূপ, ভেতরে ভাঙাচোরা ভবনের ধ্বংসাবশেষ। চিকিৎসা সরঞ্জাম ও ওষুধপত্রও নেই। তবুও থেমে নেই স্বাস্থ্যসেবা। রাজধানীর মিরপুর-১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়ার পরও ধ্বংসস্তূপের পাশের সরু গলিতে অস্থায়ীভাবে চলছে শিশুদের টিকাদান কার্যক্রম।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, কেন্দ্রটির মূল ফটক বন্ধ। ভেতরে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে ভাঙা ভবনের ইট-পাথর ও ধ্বংসাবশেষ। আর গেটের বাইরে টেবিল-চেয়ার পেতে বসেছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। সেখানেই স্থানীয় মায়েরা শিশুদের নিয়মিত টিকা দেওয়ার পাশাপাশি চলমান বিশেষ হাম-রুবেলা (এমআর) টিকাদান কর্মসূচির টিকাও দিচ্ছেন।

ধ্বংসস্তূপের মাঝেও শিশুদের টিকা দেওয়ার দৃশ্য দেখে স্থানীয় অনেক বাসিন্দা সেখানে ভিড় করেন। কেউ ক্ষতিগ্রস্ত কেন্দ্রের অবস্থা দেখছেন, আবার কেউ সন্তানকে নিয়ে এসেছেন টিকা দিতে।

কেন্দ্রটি পরিদর্শনে আসা একাধিক স্থানীয় বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে মুখোশধারী প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ জন দুর্বৃত্ত দেশীয় অস্ত্র নিয়ে কেন্দ্রে হামলা চালায়। এ সময় তারা নিরাপত্তাকর্মীদের বেঁধে রেখে একটি পাকা ও তিনটি আধাপাকা ভবন গুঁড়িয়ে দেয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ভবন ভাঙার পর হামলাকারীরা কেন্দ্রের বিভিন্ন মালামালও নিয়ে যায়। এর মধ্যে ছিল এসি, ফ্রিজ, ওষুধ, টিকা, টাকা, আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন চিকিৎসা সরঞ্জাম। এসব মালামাল কয়েকটি ট্রাকে করে সরিয়ে নেওয়া হয় বলে জানান তারা।

হামলার পর কেন্দ্রের জায়গায় ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’ নামে সাইনবোর্ড ও ব্যানার টানিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও স্থানীয়রা জানান।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, ১৯৭৪ সালে প্রতিষ্ঠিত রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারটি দীর্ঘদিন ধরে সরকারি অংশীদারত্বে এলাকার দরিদ্র ও অসহায় নারী-শিশুদের বিনা মূল্যে স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসছে। টিকাদানের পাশাপাশি এখানে মাতৃস্বাস্থ্য, প্রসূতি ও পরিবার পরিকল্পনা সেবাও দেওয়া হতো।

কেন্দ্রটির কর্মকর্তা ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রটির জমি দখলের উদ্দেশ্যেই হামলা, ভবন ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা নজরুল ইসলাম চৌধুরী দুই বছর বয়সী ছেলে জায়ান চৌধুরীকে হামের টিকা দিতে কেন্দ্রে এসেছেন। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, তাঁর বাবা ছোটবেলায় তাঁকেও এই কেন্দ্র থেকে টিকা দিয়েছেন। পরে নিজের বড় ছেলেকেও এখান থেকেই টিকা দিয়েছেন তিনি।

নজরুল ইসলাম বলেন, হঠাৎ করে গত পরশু এসে কেন্দ্রটি ভেঙে দেওয়া হলো, যা আমাদের জন্য খুবই কষ্টের। গত ৫০ বছর ধরে এই এলাকার মানুষ এখান থেকে স্বাস্থ্যসেবা নিয়েছে। কখনও শুনিনি এটি অন্য কারও জমি।

তিনি আরও বলেন, আমরা চাই, এখান থেকেই আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম স্বাস্থ্যসেবা পাক। সরকার দ্রুত কেন্দ্রটি সংস্কার করে সেবা নিশ্চিত করুক।

রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক ডা. নাসরিন আখতার বলেন, পরিস্থিতি যত কঠিনই হোক, তারা স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।

তিনি বলেন, আমরা যেকোনো পরিস্থিতিতেই কার্যক্রম চালিয়ে যাব। বর্তমানে ইপিআইর সব টিকাদান কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। তবে পরিবার পরিকল্পনার সব সামগ্রী লুট হয়ে যাওয়ায় সেই সেবা দিতে পারছি না।

তিনি জানান, নারীরা পরিবার পরিকল্পনা বা অন্যান্য চিকিৎসাসেবা নিতে কেন্দ্রে এলে চিকিৎসকরা প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে তাদের ফিরিয়ে দিচ্ছেন।

ডা. নাসরিন আখতার আরও বলেন, কেন্দ্রটির কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চালু করতে তারা জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেছেন।

তিনি বলেন, আমরা জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন জানিয়েছি, গেটে যে সিলগালা করা হয়েছে তা খুলে দেওয়া হোক। তাহলে আমরা আবার কেন্দ্রের ভেতরে স্বাভাবিকভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারব। তবে বাইরে বসে এভাবে স্বাস্থ্যসেবা কতদিন চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

ধ্বংসস্তূপের পাশে অস্থায়ীভাবে হলেও শিশুদের টিকাদান কার্যক্রম চালু থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি রয়েছে। তবে দীর্ঘদিনের এই স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রটি দ্রুত পুনরুদ্ধার ও স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফেরানোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।


রিপোর্টার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪