| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

ভুতের বাড়ির মতো স্কুল, ধসে পড়ছে দেয়াল,ঝুঁকিতে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা

reporter
  • আপডেট টাইম: সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬ ইং | ১৪:৫৯:৩৫:অপরাহ্ন  |  ২১৬১৫৫ বার পঠিত
ভুতের বাড়ির মতো স্কুল, ধসে পড়ছে দেয়াল,ঝুঁকিতে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা

বগুড়া প্রতিনিধি: ধসে গেছে স্কুলের পুরাতন শ্রেণিকক্ষের দেয়াল। খসে পড়ছে পলেস্তারা, জানালা দরজার অবস্থাও নড়বড়ে। বৃষ্টি হলেই মরচে পড়া টিন চুয়ে পানিতে স্যাঁতসেঁতে মেঝে। সংস্কার বঞ্চনার কারণে নষ্ট হচ্ছে আসবাবপত্র। ভেঙে পড়া দেয়াল ঘেঁষে লতাগুল্ম আগাছা জন্মেছে। যেন পরিত্যক্ত কোনো ভুতের বাড়ি। ঝুকিপূর্ণ শ্রেণিকক্ষে নিরাপত্তা শঙ্কা থাকলেও চলছে নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম। 

বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার করমজা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নানা সমস্যায় জর্জরিত। শিক্ষার্থীদের মুখে হাসির বদলে আতঙ্কের ছাপ। জরাজীর্ণ অবকাঠামো, শ্রেণিকক্ষ সংকট, প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণের অভাবসহ বিভিন্ন সমস্যার কারণে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক পাঠদান। শত বছরের ঐতিহ্য বহন করা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংস্কার ও অবকাঠামো উন্নয়ন জরুরি। ঝুকিপূর্ণ শ্রেণিকক্ষের কারণে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, সম্প্রতি ঝড়ে ধসে পড়া দেয়াল আজতক পর্যন্ত সংস্কার করা হয়নি। বিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কোন টিউবওয়েল নেই। প্রতিদিন কাঁধে বইয়ের ব্যাগ, চোখে ভবিষ্যৎ স্বপ্ন নিয়ে স্কুলে আসে একঝাঁক শিশু। কিন্তু তাদের স্বপ্নগুলো ফিকে হয়ে যাচ্ছে জরাজীর্ণ ভবনের কারণে। ঝুঁকি নিয়ে চলছে নিয়মিত পাঠদান। দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়ছে। যেকোন সময় পুরো ঘর ভেঙে পড়ার শঙ্কায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। 

প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্টরা জানান, সোনাতলা উপজেলার শতবর্ষী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান করমজা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এলাকার শিক্ষার প্রসারে বরাবরের মতোই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এখান থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে অনেক শিক্ষার্থী বর্তমানে বিভিন্ন পেশায় প্রতিষ্ঠিত। বর্তমানে বিদ্যালয় অবকাঠামোর বেহাল দশায় একেবারেই নড়বড়ে অবস্থা। শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় শ্রেণিকক্ষ ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার ঘাটতি রয়েছে। সংস্কার অভাবে পাঠদানের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ নেই। নানা সমস্যায় পিছিয়ে পড়ছে শিক্ষা কার্যক্রম। পুরোনো ঘর সংস্কার ও অবকাঠামো উন্নয়নের দাবি জানানো হয়েছে। 

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানায়, টিউবওয়েল না থাকায় তারা বিশুদ্ধ পানি থেকে বঞ্চিত। তাদের নিরাপদ সুন্দর পরিবেশে পড়াশোনা করার আগ্রহ। একটি শতবর্ষী প্রতিষ্ঠানে আধুনিক শিক্ষার পরিবেশ, পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ, নিরাপদ ভবন, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থাসহ স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন নিশ্চিত করা জরুরি। 

এলাকার শিক্ষানুরাগী সিরাজুল ইসলাম, আইয়ুব হোসেন নান্টু, ফসি উদ্দিন, তোজাম্মেল হক জানান, এই বিদ্যালয় শত বছরের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। এটি শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, এলাকার শিক্ষা সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রতিষ্ঠানের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

করমজা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবু সাইদ বলেন, বর্তমান সরকার শিক্ষা সহায়ক সরকার। সম্প্রতি ঝড়ে ধসে যাওয়া একটি ভবন অর্থ সংকটের কারণে সংস্কার করা সম্ভব হচ্ছে না। ঝুকিপূর্ণ শ্রেণিকক্ষে নিরাপত্তা শঙ্কা রয়েছে। 

এ প্রসঙ্গে প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ইতি আরা পারভীন জানান, এখানকার পড়ালেখার মান ও পরীক্ষার রেজাল্ট সন্তোষজনক। প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে বরাদ্দ চেয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন করা হয়েছে।


রিপোর্টার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪