| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

গেটে তালা, ভেতরে নিরাপত্তাপ্রহরীর লাশ; সাবেক প্রহরী গ্রেপ্তার

reporter
  • আপডেট টাইম: অগাস্ট ১৩, ২০২৬ ইং | ০৩:১৬:১০:পূর্বাহ্ন  |  ১৪১৭ বার পঠিত
গেটে তালা, ভেতরে নিরাপত্তাপ্রহরীর লাশ; সাবেক প্রহরী গ্রেপ্তার

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: প্রতিষ্ঠানের একটি ক্ষতিগ্রস্ত জানালার কাচ মেরামত করা হয়েছিল। কিন্তু সেই কাজের টাকা দিয়ে অতিরিক্ত আরও কিছু কাজ করানো নিয়ে প্রবীণ সহকর্মীর ওপর জমেছিল ক্ষোভ। সেই ক্ষোভের জের ধরেই মধ্যরাতে নয়, ভরা দুপুরে নিরাপত্তার দেয়াল টপকে ভেতরে ঢোকেন এক তরুণ। আড়াল থেকে আচমকা লাঠির আঘাতে প্রাণ কেড় নেন ৫৮ বছর বয়সী নিরাপত্তা প্রহরী আবদুর রহমানের।

ঠাকুরগাঁওয়ের জগন্নাথপুর ইউনিয়নের নিটল-টাটা সার্ভিসিং সেন্টারে সংঘটিত এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার করা হয়েছে অভিযুক্ত সাবেক নিরাপত্তা প্রহরী জুয়েলকে (১৯)।

বুধবার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে ঠাকুরগাঁও জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খোদাদাদ হোসেন।

পুলিশ ও ঘটনার বিবরণ থেকে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকাল সাড়ে সাতটায় কর্মস্থলে যোগ দেন আবদুর রহমান। সকাল ১১টার দিকে স্ত্রীর সঙ্গে ফোনে তাঁর শেষ কথা হয়। দুপুর পৌনে দুইটার দিকে নিহতের ছেলে বাবার জন্য খাবার নিয়ে গিয়ে প্রধান ফটক তালাবদ্ধ দেখে ফিরে যান। পরে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে নৈশপ্রহরী তোয়াবুর রহমান ও আবদুর রহমানের ছেলে একসঙ্গে গিয়েও ফটক বন্ধ পান। সন্দেহ হলে তোয়াবুর রহমান দেয়াল টপকে ভেতরে প্রবেশ করে আবদুর রহমানের নিথর দেহ দেখতে পান। রাত আটটার দিকে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে।

ঘটনার পরপরই তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় একই প্রতিষ্ঠানের সাবেক কর্মী জুয়েলকে শনাক্ত করা হয়। শহরের সেনুয়াপাড়ায় প্রথম দফায় পুলিশ দেখে পালিয়ে গেলেও পরে গোয়ালপাড়া এলাকায় নানার বাড়ি থেকে জুয়েলকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উদ্ধার করা হয় নিহত আবদুর রহমানের গায়েব হওয়া মোবাইল ফোন, বাইসাইকেল এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত লাঠি।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের তথ্য তুলে ধরে পুলিশ জানায়, প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকা অবস্থায় জানালার ঘাই গ্লাস ক্ষতিগ্রস্ত হলে তা মেরামতের টাকা কর্তৃপক্ষ আবদুর রহমানকে দেয়। জুয়েল কাচ মেরামত করলেও সেই টাকায় আবদুর রহমান আরও কিছু কাজ করাতে চান। জুয়েলের ধারণা হয়, আবদুর রহমান নিজেই স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে তাকে দিয়ে এসব বাড়তি কাজ করাচ্ছেন। এই ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকেই মঙ্গলবার সুযোগ বুঝে দেয়াল ডিঙিয়ে ভেতরে ঢুকে আবদুর রহমানের মাথায় সজোরে আঘাত করেন জুয়েল।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খোদাদাদ হোসেন জানান, ক্ষোভের জের ধরে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেলেও ঘটনার পেছনে অন্য কোনো কারণ বা কারও সম্পৃক্ততা আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে অধিকতর তদন্ত চলছে। আসামির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে।

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪