ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁও শহরের একটি ছাত্রী নিবাস থেকে রিতা আক্তার (২১) নামের এক নার্সিং শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার গভীর রাতে শহরের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কলেজপাড়া এলাকার ‘শীলা ভিলা’ নামের একটি ছাত্রী নিবাস থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়।
নিহত রিতা আক্তার ঠাকুরগাঁওয়ের ‘গোল্ডেন লাইফ নার্সিং অ্যান্ড মিডওয়াইফারি ইনস্টিটিউট’-এর তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার গোয়ালকাড়ী গ্রামের আব্দুর রহমানের মেয়ে। চার মাস আগে একই উপজেলার মোমিন টোলা গ্রামের মালয়েশিয়া প্রবাসী রাজিওর রহমানের (২৩) সঙ্গে পারিবারিক সম্মতিতে তাঁর বিয়ে হয়।
পরিবার ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, গতকাল রাত আনুমানিক ১টা ১৫ মিনিটের দিকে প্রবাসী স্বামী রাজিওর রহমান ফোন করে রিতার পরিবারকে জানান যে, রিতা মেস কক্ষে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। খবর পেয়ে রাত দুইটার দিকে রিতার চাচা আব্দুর রাজ্জাক ও বকুল ইসলাম ওই ছাত্রী নিবাসে ছুটে যান। সেখানে গিয়ে তাঁরা রিতার শয়নকক্ষের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ পান। কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হলে ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা এসে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। ভেতরে জানালার গ্রিলের সঙ্গে ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় রিতাকে ঝুলন্ত দেখতে পাওয়া যায়।
পরে ঝুলন্ত অবস্থা থেকে উদ্ধার করে দ্রুত ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল, ঠাকুরগাঁওয়ে নিয়ে যাওয়া হলে রাত ২টা ৫০ মিনিটের দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। পরিবারের স্বজনদের ধারণা, মানসিক চাপের কারণে অভিমান করে রিতা আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন।
এ ঘটনায় নিহতের চাচা আব্দুর রাজ্জাক বাদী হয়ে ঠাকুরগাঁও সদর থানায় একটি অপমৃত্যুর (ইউডি) আবেদন জমা দিয়েছেন। ঠাকুরগাঁও সদর থানার ওসি শাহজাহান আলী বলেন, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব