| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

সংবিধান সংশোধনে বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠক আজ

reporter
  • আপডেট টাইম: অগাস্ট ০৪, ২০২৬ ইং | ১১:০৮:০২:পূর্বাহ্ন  |  ১২৭৪৬ বার পঠিত
সংবিধান সংশোধনে বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠক আজ

অনলাইন ডেস্ক: বিরোধী জোটের অংশগ্রহণ ছাড়াই সংবিধান সংশোধনের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করছে সরকার। এ লক্ষ্যে গঠিত ১২ সদস্যের সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠক আজ মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) অনুষ্ঠিত হবে।

সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে বেলা ১২টায় অনুষ্ঠিতব্য বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ। সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রথম বৈঠকে সদস্যদের পরিচিতি, কমিটির কর্মপরিধি, কর্মকৌশল এবং সংবিধান সংশোধনের প্রাথমিক রূপরেখা নিয়ে আলোচনা হবে। পরবর্তী বৈঠক থেকে সংশোধনী-সংক্রান্ত সুপারিশ প্রণয়নের কাজ শুরু হবে এবং একটি রোডম্যাপ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে।

গত ১৩ জুলাই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে এই বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির দায়িত্ব হলো সংবিধানের প্রয়োজনীয় সংশোধন বিষয়ে সুপারিশ তৈরি করে সংসদে প্রতিবেদন উপস্থাপন করা। তবে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়নি।

সরকারি দল বিরোধী জোটকে কমিটিতে পাঁচজন সদস্য মনোনয়নের আহ্বান জানালেও তারা কোনো প্রতিনিধি দেয়নি। কমিটি গঠনের দিনই বিরোধী সদস্যরা সংসদ থেকে ওয়াকআউট করে জানায়, তারা সংবিধান সংশোধনের পরিবর্তে সংবিধান সংস্কারের পক্ষে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জুলাই-পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতায় সংবিধান সংস্কারের বিষয়টি নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে। নির্বাচনব্যবস্থা, রাষ্ট্রক্ষমতার ভারসাম্য, মৌলিক অধিকার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি এবং ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণসহ বিভিন্ন বিষয়ে সংস্কারের দাবি উঠেছে। তবে বিরোধী দলের প্রতিনিধি ছাড়া বিশেষ কমিটির আলোচনা কতটা অন্তর্ভুক্তিমূলক হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, সংবিধানের মতো মৌলিক বিষয়ে সর্বদলীয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত হলে পুরো প্রক্রিয়ার গ্রহণযোগ্যতা আরও বাড়বে।

বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের আলোকে সংবিধান সংস্কার পরিষদের মাধ্যমে সংস্কার বাস্তবায়নের পক্ষেই তারা অঙ্গীকারবদ্ধ। এ কারণে বর্তমান বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব তারা প্রত্যাখ্যান করেছেন।

অন্যদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, বর্তমান সংবিধানের কাঠামোর মধ্যেই প্রয়োজনীয় সংশোধন আনা হবে। তিনি জানান, বিচার বিভাগ, আইন বিশেষজ্ঞ, বুদ্ধিজীবী, সম্পাদক, বিভিন্ন অংশীজন ও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে মতবিনিময়ের ভিত্তিতে কমিটি সুপারিশ তৈরি করবে। সেই সুপারিশের আলোকে সংবিধানের ১৮তম সংশোধনী বিল সংসদে উত্থাপন করা হবে।

উল্লেখ্য, ১৯৭২ সালে বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নের পর এ পর্যন্ত ১৭ বার সংশোধন করা হয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্র সংস্কারের দাবি জোরালো হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সংবিধান, বিচার বিভাগ, পুলিশ, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), নির্বাচনব্যবস্থা ও জনপ্রশাসনসহ ১১টি খাতে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এসব কমিশনের সুপারিশ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দীর্ঘ সংলাপের পর ২০২৫ সালের ১৭ অক্টোবর ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ গৃহীত হয়।

পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ’ জারি করেন, যার ভিত্তিতে গণভোট অধ্যাদেশ প্রণয়ন করা হয়। ওই আদেশ অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও শপথ নেওয়ার বিধান রাখা হয়। বিরোধী জোটের ৭৭ জন সদস্য উভয় শপথ নিলেও সরকারি দল বিএনপি জোটের সংসদ সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি।

রিপোর্টার্স২৪/রাফিদ

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪