ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি সমঝোতা চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে এবং এর ফলে আজ রাত থেকেই চলমান যুদ্ধ ও সামরিক অভিযান স্থায়ীভাবে বন্ধ হবে বলে দাবি করেছে ইরান। দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চুক্তি কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন ফ্রন্টে সংঘাত বন্ধ হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস অব ইসরায়েল–এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, সমঝোতার আওতায় লেবাননসহ বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান সংঘাতেরও অবসান ঘটবে। একইসঙ্গে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের প্রক্রিয়াও আজ রাত থেকেই শুরু হবে।
ভারতে অবস্থিত ইরানের কূটনৈতিক মিশন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) ঘারিবাবাদির বক্তব্য প্রকাশ করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, যুদ্ধ বন্ধের ঘোষণা তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো চুক্তির শর্ত বাস্তবায়নে কাজ শুরু করবে।
ঘারিবাবাদি আরও জানান, একটি পূর্ণাঙ্গ ও চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে নতুন দফা আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। তবে কোনো পক্ষ চুক্তি লঙ্ঘন করলে ইরান প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করবে না বলেও সতর্ক করেন তিনি।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা সম্পন্ন হওয়ার ঘোষণা দেন। তিনি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং ইরানি বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের বিষয়েও ইঙ্গিত দেন।
তবে এই সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ইসরায়েলের কয়েকজন কর্মকর্তা। তাদের মতে, চুক্তির মাধ্যমে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা এবং আঞ্চলিক মিত্র গোষ্ঠীগুলোর কার্যক্রম সংক্রান্ত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ঘোষিত লক্ষ্যগুলো কতটা অর্জিত হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘদিনের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে এই সমঝোতার ঘোষণা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এখন চুক্তির বাস্তবায়ন এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর অবস্থানই নির্ধারণ করবে অঞ্চলটির ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি কোন দিকে এগোবে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম