ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরোতে মাঝআকাশে দুটি হেলিকপ্টারের মুখোমুখি সংঘর্ষে অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। ভয়াবহ এই দুর্ঘটনার পর দুটি হেলিকপ্টারই একটি বৈদ্যুতিক গাড়ির শোরুমের পার্কিং লটে আছড়ে পড়ে, এতে আগুনে পুড়ে যায় প্রায় ২০টি বৈদ্যুতিক গাড়ি।
স্থানীয় সময় রোববার সকালে শহরের পশ্চিমাঞ্চলীয় উপশহর রেক্রিও দোস বান্দেইরান্তেস এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই উদ্ধার ও অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রম শুরু হয় এবং দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় ফায়ার সার্ভিসের বরাত দিয়ে জানা গেছে, আকাশে সংঘর্ষের পর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুটি হেলিকপ্টার কাছাকাছি একটি বৈদ্যুতিক গাড়ি বিক্রয়কেন্দ্রের পার্কিং লটে বিধ্বস্ত হয়। আঘাতের সঙ্গে সঙ্গেই সেখানে থাকা একাধিক বৈদ্যুতিক গাড়িতে আগুন ধরে যায় এবং মুহূর্তের মধ্যে পুরো এলাকা ঘন ধোঁয়ায় ছেয়ে যায়।
ফায়ার সার্ভিসের মুখপাত্র ফাবিও কনট্রেইরাস জানান, বৈদ্যুতিক গাড়ির লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারিতে আগুন লাগার কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যাপক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়েছে। এ ধরনের ব্যাটারি থেকে অত্যন্ত বিষাক্ত গ্যাস নির্গত হয় এবং আগুনের তাপমাত্রা ও তীব্রতা দ্রুত বেড়ে যায়। সাধারণ গাড়ির তুলনায় বৈদ্যুতিক গাড়ির আগুন নেভাতে তিন থেকে চার গুণ বেশি পানি প্রয়োজন হয় বলেও জানান তিনি।
উদ্ধারকারীরা জানান, দুর্ঘটনাকবলিত এলাকাটি ছিল ঘনবসতিপূর্ণ। সৌভাগ্যবশত হেলিকপ্টার দুটি আবাসিক এলাকায় না পড়ে শোরুমের ফাঁকা পার্কিং লটে আছড়ে পড়ে। অন্যথায় প্রাণহানির সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারত।
উদ্ধার অভিযান চলাকালে জ্বলন্ত গাড়িগুলোর ভেতর থেকে একটি হেলিকপ্টারের ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার করা হয়। সেখানে পাঁচজন আরোহীর মরদেহ পাওয়া যায়। অপর হেলিকপ্টারটি প্রায় ১০০ মিটার দূরে পড়ে থাকতে দেখা যায়, যেখানে কেবল পাইলটের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
ব্রাজিলে বিমান ও হেলিকপ্টার দুর্ঘটনা নতুন নয়। দেশটির অ্যারোনটিক্যাল অ্যাকসিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড প্রিভেনশন সেন্টার (সিইএনআইপিএ)-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শুরু থেকে রোববারের এই দুর্ঘটনার আগ পর্যন্ত দেশটিতে অন্তত ৮৪টি বিমান ও হেলিকপ্টার দুর্ঘটনা ঘটেছে।
সূত্র: আল জাজিরা
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম