স্টাফ রিপোর্টার: ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসিতে সম্প্রতি চেয়ারম্যান ও এমডির পদায়ন ইস্যুতে আন্দোলন ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান বলেছেন, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসিতে সরকার কোনো অবৈধ হস্তক্ষেপ করেনি।
শুক্রবার (১২ জুন) রাজধানী ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অর্থমন্ত্রীর প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
গভর্নর বলেন, আমরা যখন কাজ শুরু করি ব্যাংকিং সেক্টরের প্রায় ওয়ান-থার্ড (এক তৃতীয়াংশ) টাকা চুরি হয়ে গেছে। আর ৩৫ থেকে ৩৬ শতাংশ এনপিএল দিয়ে আমাদের যাত্রা শুরু। শুরু থেকে আমাদের যেটা চেষ্টা ছিল, সেক্টরটাকে স্ট্যাবিলাইজ (স্থিতিশীল) করা। তারপরে রিক্যাপিটালাইজ করা, এটা হচ্ছে নিয়ম, সেটাই আমরা করার চেষ্টা করছি স্বাভাবিক নিয়মেই।
তিনি বলেন, সোশ্যাল মিডিয়াতে প্রথম গুজব ছিল সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক নিয়ে যে, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে দায়িত্ব নেই ২৬ ফেব্রুয়ারি, আর আসার পরে আমি দেখতে পাই যে আমাদের সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান রিজাইন করেছেন।
কিছুদিন পরে যাকে এমডি হিসেবে সিলেক্ট করা হয়েছে উনি অপারগতা প্রকাশ করেন। সো আমরা কিন্তু আসলে বসে থাকিনি। আমরা সঙ্গে সঙ্গে একজন এমডি নিয়োগের জন্য অ্যাড দেই। অ্যাড দেওয়ার পরে ২৫ মার্চ ছিল লাস্ট ডেট, অ্যাপ্লিকেশনের। এরপর বাছাই প্রক্রিয়া। আপনারা জানেন বিভিন্ন সংস্থা থেকে রিপোর্ট দিতে হয়। এই প্রক্রিয়া শেষ করতে প্রায় এক মাস সময় লাগে। এরপরে আমরা তাদের ইন্টারভিউ নেই ১০ মে এবং একজন এমডিকে সিলেক্ট করি আমরা ১২ বা ১৩ তারিখের দিকে।
তিনি জানান, অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একটা কমিটি আছে সেখানে অ্যাপ্রুভাল করতে হয়, পরে এটা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অ্যাপ্রুভাল নিতে হয়। এই প্রক্রিয়াগুলো করতে করতে মে মাসের শেষে আমাদের এই প্রক্রিয়াটা সম্পন্ন হয়। একইভাবে আমাদের যে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের বোর্ডও গঠন প্রক্রিয়া করতে কিছু সময় লাগে এবং সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের বোর্ডে আমরা আসার পরে যাকে নিয়োগ দেওয়া হয়, উনি গত মঙ্গলবারে প্রথম সভাটা করেন এবং এটার প্রক্রিয়া, এই কার্যক্রম খুব স্বাভাবিকভাবে আছে। এখানে যেটি আমরা পাই, পাঁচটি ইসলামী ব্যাংকের সিবিএস, যেটা কোর ব্যাংকিং সফটওয়্যার, সেটা নিয়ে কোনো কাজ হয়নি আসলে। এটা ইন্টিগ্রেশনটা একটা বড় চ্যালেঞ্জ। আমরা এই কাজগুলো করব। সো আমরা ভেতরের ভেতরে বিআরপিডি, আমাদের ডিপার্টমেন্ট যেটা, ওরা এই কাজগুলো এগিয়ে রাখে এবং আপনারা আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে দেখতে পারবেন যে এর কার্যক্রম কীভাবে দ্রুততার সঙ্গে এগোয় ইনশাআল্লাহ।
গভর্নর বলেন, আমাদের প্রথম দরকার, একই কথা বললাম, স্ট্যাবিলিটি। ইসলামী ব্যাংকের ক্ষেত্রেও একটা গোষ্ঠী অভিযোগ করছে যে অবৈধ হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে। ইসলামী ব্যাংকে আমরা এসে একটি বোর্ড পাই। যেই বোর্ডটি অন্তর্বর্তী সরকার কর্তৃক গঠিত। এখানে পাঁচজনের একটি বোর্ড ছিল। এর মধ্যে একজন সদস্যের ব্যাপারে কিছু অনিয়মের অভিযোগ আসে। আমরা তাকে বদলাই হচ্ছে মার্চ মাসের ১৬ তারিখে। এর বাইরে আমাদের কোনো কার্যক্রম ছিল না এবং ইসলামী ব্যাংকে আমরা কোনো লোনের জন্য বলি না, কাউকে বদলির জন্য বলি না, কাউকে প্রমোশনের জন্য বলিনি। এই অভিযোগ নাই। কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়া গরম যে অবৈধ হস্তক্ষেপ করছে সরকার। সো এখন যেটা হয়েছে যে, আমাদের ঈদের আগের দিন সকাল থেকে দেখলাম স্লোগান হচ্ছে যে চেয়ারম্যানের পদত্যাগ চাচ্ছে। তৎকালীন তিনি চেয়ারম্যান ছিলেন, উনি বিকেলে পদত্যাগ করেন। স্বাভাবিকভাবে এখানে যেহেতু পাঁচজনের বোর্ড আর একটা সিস্টেমিক ব্যাংকে আসলে বোর্ড, এই মিনিমাম পাঁচজন ছাড়া এটা চলবে না। আমাদের তাৎক্ষণিক একটা নিয়োগ দিতে হয় খুব অল্প সময়ের মধ্যে। যেটা আমাদের কাছে অপ্রত্যাশিত ছিল। অল্প সময়ে আমরা নিয়োগ করি। এরপর থেকে দেখলাম যে, অস্থির করার একটা প্রচেষ্টা আছে।
‘আমরা আশা করছি যে বাংলাদেশ ব্যাংকে আমাদের কিছু নিয়ম-কানুন আছে, কিছু রুলস আছে, সেই রুলসগুলো আমরা প্রয়োগ করব। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে এটাতে আমার মনে হয় না যে যারা আমানতকারী তাদের কোনো অসুবিধা হবে। তারা তাদের আমানত যে কোনো সময় ফ্রি তুলতে পারবেন। একটা ব্যাংকিং সিস্টেমকে স্ট্যাবিলাইজ করতে সবাইকে ধৈর্য ধরতে হবে এবং আমি সমস্ত জনগণের সহযোগিতা চাই, ডিপোজিটরদের সহযোগিতা চাই। পর্যায়ক্রমে দেখবেন আপনারা, দীর্ঘদিন জমে থাকা প্রবলেম, ইনশাআল্লাহ আগামী সপ্তাহ বা পরের সপ্তাহ থেকে, কয়েকটা এনবিএফআই নিয়ে প্রবলেম আছে... আমাদের সমাধান প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। যেটা ১২ বছর ধরে যেই আমানতকারীরা টাকা পাচ্ছিল না, ইনশাআল্লাহ দেখবেন যে আগামী এক বা দুই সপ্তাহ পরে যে এনবিএফআই নিয়ে যে প্রবলেম আছে, সেটা নিয়ে আমাদের সমাধান প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে’, যোগ করেন গভর্নর।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব