কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: হাসপাতাল মানেই সুস্থতার আশ্রয়স্থল। কিন্তু কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে এসে রোগী ও তাদের স্বজনদের এখন নাকে রুমাল চেপে চলাফেরা করতে হচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, হাসপাতালের আবাসিক ভবনের ছাদে গড়ে তোলা হয়েছে বাণিজ্যিক ব্রয়লার মুরগির খামার। এতে মুরগির বিষ্ঠার তীব্র দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন রোগী, স্বজন ও পথচারীরা।
সোমবার সকালে সরেজমিনে কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের মূল ভবন থেকে প্রায় ৩০ মিটার দূরে অবস্থিত আবাসিক কোয়ার্টারের ছাদে সারি সারি খাঁচায় পালন করা হচ্ছে শতাধিক ব্রয়লার মুরগি। খামারটি হাসপাতালের গাইনি বিভাগ, অপারেশন থিয়েটার ও প্রসূতি বিভাগের একেবারে পাশেই হওয়ায় বাতাসের সঙ্গে ছড়িয়ে পড়ছে তীব্র দুর্গন্ধ। এতে রোগীদের স্বাভাবিকভাবে অবস্থান করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
ছেলের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে আসা আফসানা আক্তার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ছেলেকে পানি খাওয়াতে কোয়ার্টারের পাশের টিউবওয়েলে গিয়েছিলাম। সেখানে গিয়ে দম বন্ধ হওয়ার মতো অবস্থা। হাসপাতালের ভেতরে এমন খামার কীভাবে হয়?”
স্থানীয় পথচারী আব্দুস ছাত্তার বলেন, “আমি শ্বাসকষ্টের রোগী। এই রাস্তা দিয়ে এখন চলাচলই করা যায় না। যেখানে মানুষ রোগ সারাতে আসে, সেখানে এমন পরিবেশ খুবই দুঃখজনক।”
খামারের মালিক হাসপাতালের আয়া পলি খাতুন বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, “প্রায় এক মাস আগে খামারটি করেছি। বৃষ্টির কারণে একটু গন্ধ হচ্ছে। খামারে তিন শতাধিক ব্রয়লার মুরগি রয়েছে। আজই মুরগিগুলো সরিয়ে ফেলবো।”
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শামীমা আক্তার বলেন, “হাসপাতাল কোয়ার্টারের ছাদে মুরগির খামার গড়ে তোলার বিষয়টি আমার জানা ছিল না। আপনার মাধ্যমে জানলাম। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ বিষয়ে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক তৌহিদ বিন হাসান বলেন, “বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হবে।”
সরকারি হাসপাতালের মতো স্পর্শকাতর জায়গায় এমন অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ সৃষ্টি হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। দ্রুত খামারটি অপসারণসহ দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
রিপোর্টার্স২৪/এসএন