| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

স্টারমারের পদত্যাগ দাবিতে সরব মন্ত্রী এমপিরা

reporter
  • আপডেট টাইম: মে ১২, ২০২৬ ইং | ০৮:১৮:১৮:পূর্বাহ্ন  |  ১৩১৭ বার পঠিত
স্টারমারের পদত্যাগ দাবিতে সরব মন্ত্রী এমপিরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপ আরও বেড়েছে। সাম্প্রতিক নির্বাচনী ধাক্কার পর তার পদত্যাগ দাবি জোরালো হয়েছে দলীয় ভেতরেই। মন্ত্রিসভার একাধিক সদস্য তাকে সরে দাঁড়ানোর সময়সূচি ঘোষণার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ৭০ জনের বেশি লেবার এমপি প্রকাশ্যে তার পদত্যাগ দাবি করেছেন।

সোমবার স্টারমার বলেন, নেতৃত্ব পরিবর্তন নিয়ে নতুন করে বিশৃঙ্খলা তৈরি করলে জনগণ লেবার পার্টিকে, কখনোই ক্ষমা করবে না। তিনি জানান, দল ও দলের বাইরের সমালোচকদের ভুল প্রমাণ করাই এখন তার লক্ষ্য।

তবে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ স্টারমারকে সুশৃঙ্খলভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করার পরামর্শ দিয়েছেন।

এছাড়া প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলি এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামিও স্টারমারের সঙ্গে ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি, দায়িত্বশীল ও মর্যাদাপূর্ণ উপায়ে সামাল দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করেছেন বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে কয়েকজন মন্ত্রী এখনো স্টারমারের পাশে রয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন রিচার্ড হারমার ও স্টিভ রিড।

দলীয় একটি সূত্র জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ব্যাকবেঞ্চ এমপিদের মনোভাব নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। প্রধান হুইপ জনাথন রেনল্ডস দিনভর ডাউনিং স্ট্রিটে অবস্থান করে এমপিদের অবস্থান সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরকে অবহিত করেছেন।

স্টারমারের সম্ভাব্য উত্তরসূরি নিয়েও জল্পনা শুরু হয়েছে। স্বাস্থ্যসচিব ওয়েস স্ট্রিটিং–এর ঘনিষ্ঠ কয়েকজন এমপি দ্রুত নেতৃত্ব পরিবর্তনের সময়সূচি ঘোষণার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। যদিও স্ট্রিটিংয়ের ঘনিষ্ঠরা দাবি করছেন, তিনি এখনই বড় ধরনের বিভাজন চান না।

এদিকে অ্যান্ডি বার্নহাম–এর সমর্থকেরাও স্টারমারের পদত্যাগ দাবি করে চিঠি প্রকাশ করেছেন। লেবার পার্টির ভেতরে ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের আলোচনায় বার্নহামের নাম জোরেশোরে উঠছে। উপপ্রধানমন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা রেইনারও তাকে সংসদে ফেরানোর পক্ষে মত দিয়েছেন বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে।

তবে রেইনারের নিজের নেতৃত্বের সম্ভাবনাও সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা দুর্বল হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দলীয় সূত্রগুলো বলছে, তিনি হয়তো সরাসরি নেতৃত্বে না গিয়ে ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব কাঠামোর অংশ হিসেবেই থাকতে চান।

সোমবার ৭০ জনের বেশি লেবার এমপি প্রকাশ্যে জানান, স্টারমার আগামী সাধারণ নির্বাচন পর্যন্ত দলকে কার্যকরভাবে নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা হারিয়েছেন। বিদ্রোহী এমপিদের সংখ্যা দলটির ব্যাকবেঞ্চ সদস্যদের প্রায় এক-চতুর্থাংশ।

তবে পদত্যাগের দাবির মুখেও অনড় অবস্থানে রয়েছেন স্টারমার। সোমবার দেওয়া বক্তব্যে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, তিনি দায়িত্ব ছাড়ছেন না এবং যেকোনো নেতৃত্ব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করবেন।

তিনি বলেন, আমি দায়িত্ব থেকে পালিয়ে যাচ্ছি না। কনজারভেটিভরা যেভাবে দেশকে বারবার বিশৃঙ্খলার মধ্যে ফেলেছে, লেবার সরকার তা করবে না।

স্টারমার আরও বলেন, আমি জানি মানুষ বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে হতাশ। রাজনীতি নিয়ে হতাশ। কেউ কেউ আমাকে নিয়েও হতাশ। কিন্তু আমি আমার সমালোচকদের ভুল প্রমাণ করব।

এদিকে জ্বালানিমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ডও এক সপ্তাহ আগে স্টারমারকে পদত্যাগের সময়সূচি বিবেচনার পরামর্শ দিয়েছেন বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে।

রাজনৈতিক চাপের মধ্যেই সোমবার চারজন জুনিয়র ফ্রন্টবেঞ্চ সদস্য পদত্যাগ করেছেন। তারা হলেন— জো মরিস, টম রুটল্যান্ড, নওশাবাহ খান ও মেলানি ওয়ার্ড। পদত্যাগের পাশাপাশি তারাও স্টারমারের সরে দাঁড়ানোর দাবি জানান।

তবে লেবার পার্টির ভেতরে সবাই নেতৃত্ব পরিবর্তনের পক্ষে নন। কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন, এতে ডানপন্থি নেতা নাইজেল ফারাজ রাজনৈতিকভাবে লাভবান হতে পারেন।

এক লেবার এমপি বলেন, নাইজেল ফারাজের চাপে নেতা বদলালে আমরা আর ঘুরে দাঁড়াতে পারব না।

রিপোর্টার্স২৪/বাবি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪