| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

মন্ত্রী ছাড়া কোনো দেশের প্রতিনিধির সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন না বালেন্দ্র

reporter
  • আপডেট টাইম: মে ১১, ২০২৬ ইং | ২৩:০৩:১২:অপরাহ্ন  |  ২৪৪৮ বার পঠিত
মন্ত্রী ছাড়া কোনো দেশের প্রতিনিধির সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন না বালেন্দ্র

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: ভারতীয় পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রির নির্ধারিত কাঠমান্ডু সফর হঠাৎ স্থগিত করা হয়েছে। নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।

সোমবার (১১ মে) দুই দিনের সফরে বিক্রম মিশ্রির কাঠমান্ডু পৌঁছানোর কথা ছিল। নতুন সরকার গঠনের পর নেপালের অগ্রাধিকার ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ দিক নির্ধারণে এই সফরকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছিল। তবে শেষ মুহূর্তে সফর স্থগিত হওয়ায় দুই দেশের সম্পর্কে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

লিপুলেখ সীমান্ত ইস্যুতে সাম্প্রতিক ভারত-নেপাল উত্তেজনাকে এই সিদ্ধান্তের পেছনের প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর বালেন্দ্র শাহ মন্ত্রী ছাড়া কোনো দেশের প্রতিনিধির সঙ্গে সাক্ষাৎ করছেন না।

নেপালের সরকারি সূত্রগুলো জানিয়েছে, ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে অন্যান্য ব্যস্ততার কথা উল্লেখ করে সফর স্থগিতের কথা জানালেও প্রকৃত কারণ ভিন্ন। একদিকে প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র ভারতীয় পররাষ্ট্র সচিবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে রাজি হননি, অন্যদিকে ভারত ও চীনের মধ্যে বিতর্কিত লিপুলেখ হয়ে কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রা পুনরায় চালুর সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ কাঠমান্ডু।

সম্প্রতি ভারত ও চীন লিপুলেখ হয়ে তিব্বতের মানস সরোবর যাত্রা পুনরায় শুরু করার সিদ্ধান্ত নেয়। নেপাল দাবি করছে, লিপুলেখ তাদের ভূখণ্ডের অংশ। ফলে বিষয়টি নিয়ে কূটনৈতিক বিরোধ তৈরি হয়েছে।

এর আগে মরিশাসে নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল এবং ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর-এর বৈঠকে মিসরির সফর নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। সেই অনুযায়ী সফরের প্রস্তুতিও শুরু হয়েছিল দুই দেশে। এমনকি প্রধানমন্ত্রী শাহের জন্য ভারত সফরের আমন্ত্রণপত্রও নিয়ে আসার কথা ছিল মিশ্রির।

নেপালের কূটনৈতিক মহল বলছে, প্রধানমন্ত্রী শাহ সাম্প্রতিক সময়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নিচের পর্যায়ের কোনও বিদেশি কর্মকর্তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করছেন না। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূতের সঙ্গেও তিনি সাক্ষাৎ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন। একই নীতি ভারতীয় পররাষ্ট্র সচিবের ক্ষেত্রেও বজায় রাখা হয়।

এদিকে লিপুলেখ ইস্যুতে নেপাল ভারত ও চীনের কাছে কূটনৈতিক নোট পাঠিয়েছে। জবাবে ভারত বলেছে, সীমান্ত বিরোধ আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে তারা প্রস্তুত। তবে দিল্লি স্পষ্ট করেছে, নেপালের একতরফা ভূখণ্ড দাবি তারা মেনে নেবে না।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জস্বওয়াল বলেন, ভারত ও নেপালের মধ্যে যে কোনো অমীমাংসিত বিষয় আলোচনার মাধ্যমে সমাধান সম্ভব। তবে একতরফাভাবে ভূখণ্ড দাবি করা গ্রহণযোগ্য নয়।

অন্যদিকে নেপালের শিক্ষামন্ত্রী সসমিত পোখারেল জানিয়েছেন, সীমান্ত ইস্যুতে ইতোমধ্যে ভারতের সঙ্গে আলোচনা শুরু হয়েছে। নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও কূটনৈতিক উপায়ে সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।

নেপালের দাবি, সুগৌলি চুক্তি অনুযায়ী লিম্পিয়াধুরা, লিপুলেখ ও কালাপানি অঞ্চল দেশটির অবিচ্ছেদ্য অংশ। সরকার এ অবস্থান ভারত ও চীন; উভয় দেশকেই আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে।

তবে কূটনৈতিক টানাপড়েনের মধ্যেও দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে দিল্লি। ভারত বলেছে, বিদ্যমান চুক্তি অনুযায়ী নেপালে জ্বালানি তেল ও রাসায়নিক সার সরবরাহ চালু থাকবে। সূত্র: দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪