কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: ঠাকুরের জন্মদিন ঘিরে স্বাধীনতার পর থেকেই দেখে আসছি কুঠিবাড়ির মেলা। মেলার কয়েকদিন আগে থেকেই মেয়ে - জামায়, আত্মীয় - স্বজনরা শিলাইদহে ভিড় করতেন। এখন আর সেই মেলা নাই। তারপরে এবার নাকি একেবারেই হচ্ছেনা মেলা। দোকানদার সব চলে চলে যাচ্ছে।' বৃহস্পতিবার বিকেলে আক্ষেপ করে কথা গুলো বলছিলেন কুমারখালীর শিলাইদহ ইউনিয়নের কসবা গ্রামের ষাটোর্ধ রবিউল ইসলাম। কুঠিবাড়ির পিছনে তাঁর মুদিখানার ব্যবসা আছে।
মাদারীপুর থেকে প্রায় ২০ বছর ধরে কুঠিবাড়ির মেলায় আসছেন মো. আনোয়ার হোসেন (৪৭)। তিনি বলেন, আমরা গরিব মানুষ। টাকা - পয়সা খচ্চা করে আমরা আসছি। মেলার নাকি অনুমতি নেই। এখন সবাই চলে যাচ্ছি। সবাই ক্ষতিগ্রস্থ। সামনের বছর থেকে আর এই মেলায় আসবনা।
জানা গেছে, ২৫ বৈশাখ বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫ তম জন্মজয়ন্তী। এই উৎসব ঘিরে শিলাইদহের রবীন্দ্র কুঠিবাড়িতে তিনদিন ব্যাপী আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়। গতবছরও জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে কুঠিবাড়ির সামনের আমবাগানে বসেছিল গ্রামীণ মেলা। ২৫ বৈশাখের আগেই এবছরও দুর দুরান্ত থেকে এসেছেন কসমেটিক্স, খেলনা, চশমাসহ হরেক রকম পণ্যের ব্যবসায়ীরা। তবে অদৃশ্য কারণে এবার মেলা হচ্ছেনা। সেজন্য দোকানপাট গুছিয়ে দুঃখ ভরা মন নিয়ে ফিরে যাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।
আজ (৭ মে)বৃহস্পতিবার বিকেলে সরেজমিন গিয়ে এমন দৃশ্য দেখা গেছে।
এ সময় শরিয়তপুর থেকে আগত খেলনা ব্যবসায়ী মীর বাবুল (৫৫) বলেন, ১৫ বছর ধরে কুঠিবাড়ির মেলায় ব্যবসা করে আসছি। এবারও দুইদিন আগে এসে কুঠিবাড়ির দেওয়াল ঘেঁষে দোকান দিছিলাম। কিন্তু বুধবার বিকেলে প্রশাসনের লোকজন এক ঘণ্টার মধ্যে দোকান ভেঙে চলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। গতকাল বৃষ্টি ছিল। তাই এখন দুঃখভরা মন নিয়ে চলে যাচ্ছি।' তাঁর ভাষ্য, প্রায় শতাধিক ব্যবসায়ী দোকান বসিয়েছিল। ভেঙে চলে যাওয়ায় প্রত্যেকের পাঁচ - দশ হাজার টাকা করে লোকসান হয়েছে।
প্রতিবছরই কুঠিবাড়ির মেলা করি। কিন্তু এবার আইসা এভাবে ভাঙা মন নিয়ে চলে যাবো। তা কল্পনাও করিনি। ' আক্ষেপ করে কথা গুলো বলছিলেন শরিয়তপুর জেলার দরিয়া থানা থেকে আগত আব্দুস সাত্তার ব্যাপারী। তিনি বলেন, সবাই দুঃখভরা মন নিয়ে চলে যাচ্ছি। অনেক গুলো টাকা লস ( লোকসান) হয়ে গেল। সামনের বছর থেকে আর আসবনা। কুঠিবাড়ি মেলার ঐতিহ্য এবারই হারিয়ে গেল।
শিলাইদহ গ্রামের ৭২ বছর বয়সি আব্দুস সাত্তার বলেন, দেশ স্বাধীনের পর থেকে দেখছি কুঠিবাড়ির মেলা। কোনো বছরই ঐতিহ্যবাহী মেলা মিস যায়নি। তবে এবার যে কি কারণে মেলা হচ্ছেনা। তা জানা নেই। তবে যেকোনোভাবেই হোক ঐতিহ্যবাহী কুঠিবাড়ির গ্রামীণ মেলা টিকিয়ে রাখতে হবে।
জানতে চাইলে কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ( সার্বিক) জাকির হোসেন মুঠোফোনে বলেন, কবিগুরর জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে তিনদিন ব্যাপী আলোচনা সভা ও কালচারাল অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। তবে প্রস্তুতি সভায় সিদ্ধান্ত না হওয়ায় এবার মেলা হচ্ছেনা। এ বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করতে চাচ্ছিনা।
রিপোর্টার্স২৪/মিতু