রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে একটি পীরের দরবারে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। একই সঙ্গে এ ঘটনার পেছনে জড়িত উসকানিদাতা, পরিকল্পনাকারী ও হামলাকারীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে দলটি।
শনিবার (১১ এপ্রিল) রাতে এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব (দপ্তর) সালেহ উদ্দিন সিফাত স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব কথা বলা হয়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শনিবার দুপুরে ধর্ম অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে একটি দরবারে হামলা চালায় একদল উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তি। হামলায় দরবারে ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। এ ঘটনায় দরবারের প্রধান ও পীর শামীম রেজা ওরফে জাহাঙ্গীর নিহত হন।
এনসিপি তাদের বিবৃতিতে জানায়, ধর্ম অবমাননার মতো সংবেদনশীল অভিযোগের তদন্ত ও বিচার করার একমাত্র বৈধ কর্তৃপক্ষ আদালত। এ ধরনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া এবং ‘মব-সহিংসতা’র মাধ্যমে অগ্নিসংযোগ ও হত্যাকাণ্ড সংঘটন একটি গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ।
দলটি আরও উল্লেখ করে, এ ধরনের সহিংসতা স্থানীয় ক্ষমতাধরদের ছত্রচ্ছায়া ছাড়া সম্ভব নয়। গত বছর রাজবাড়ীতে মাজার ভাঙচুর ও লাশ পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনাতেও রাজনৈতিক প্রভাবের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে বলে দাবি করা হয় বিবৃতিতে।
সরকারের সমালোচনা করে এনসিপি বলেছে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বারবার ‘মব কালচার’ বন্ধ করার ঘোষণা দিলেও বাস্তবে তা নিয়ন্ত্রণে সরকার ব্যর্থ হচ্ছে। বরং জাতীয় নির্বাচনের পর বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)-এ সরকার-সমর্থিত গোষ্ঠীর ‘মব’ তৎপরতার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দুই কর্মীকে পদত্যাগে বাধ্য করার অভিযোগও তুলে ধরা হয়।
দলটির অভিযোগ, একদিকে সরকার ‘মব কালচার’ নির্মূলের কথা বললেও অন্যদিকে সরকার-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোকে প্রশ্রয় দিচ্ছে। পাশাপাশি ‘মব কালচার’ শব্দটিকে রাজনৈতিক ভিন্নমত দমনের হাতিয়ার হিসেবেও ব্যবহার করা হচ্ছে বলে দাবি করে এনসিপি।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে উল্লেখ করে বিবৃতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়, তিনি যেন সরকারের মুখপাত্রের ভূমিকা পালন না করে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম