আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে টানাপোড়েনের মধ্যেই আগামী এপ্রিলের শেষ দিকে রাষ্ট্রীয় সফরে যাচ্ছেন ব্রিটিশ রাজা রাজা তৃতীয় চার্লস। এই সফরের মাধ্যমে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছে যুক্তরাজ্য সরকার।
মঙ্গলবার বাকিংহাম প্যালেস জানায়, রাজা চার্লস ও রানি রানী ক্যামিলার দীর্ঘদিনের পরিকল্পিত এই যুক্তরাষ্ট্র সফর। যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে সফর শেষে তারা বারমুডাও পরিদর্শন করবেন।
বলা হয়েছে, এই সফর দুই দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্ক এবং বর্তমান দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতাকে তুলে ধরবে। ব্রিটিশ সরকারের পরামর্শেই সফরটি আয়োজন করা হচ্ছে।
প্রিয় পাঠকবৃন্দ নিশ্চয়ই সংবাদ জানেন যে, সাম্প্রতিক সময়ে ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন-লন্ডন সম্পর্ক কিছুটা উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমার যুদ্ধের শুরুতে সরাসরি অংশ নিতে অনীহা দেখান এবং যুক্তরাষ্ট্রকে ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহার করে হামলা চালানোর অনুমতি দেননি। এ নিয়ে ট্রাম্প প্রকাশ্যে স্টারমারের সমালোচনা করেন এবং বলেন, তিনি উইনস্টন চার্চিল নন। এমনকি যুক্তরাজ্যকে নিজস্ব প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর পরামর্শও দেন।যদিও পরে যুক্তরাষ্ট্রকে সীমিত ‘প্রতিরক্ষামূলক’ হামলার অনুমতি দেওয়া হয়, তবুও দুই দেশের ঐতিহ্যগত ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে চাপ তৈরি হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে রাজপরিবারকে কূটনৈতিক ‘সফট পাওয়ার’ হিসেবে ব্যবহার করছে লন্ডন। ট্রাম্প রাজা চার্লস ও ব্রিটিশ রাজপরিবারের প্রতি প্রকাশ্যে সম্মান প্রদর্শন করায়, সম্পর্ক উন্নয়নে এই সফর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
এর আগে ২০২৫ সালে যুক্তরাজ্যে সফরে গিয়ে ট্রাম্পকে জাঁকজমকপূর্ণ অভ্যর্থনা দেওয়া হয় উইন্ডসর ক্যাসেলে। সেই সফরে তিনি দুই দেশের সম্পর্ককে অটুট ও অবিচ্ছেদ্য বলে উল্লেখ করেছিলেন।
তবে এই সফর রাজা চার্লসের জন্য কিছুটা অস্বস্তিকর পরিস্থিতিও তৈরি করতে পারে। যুক্তরাজ্যে জনমত জরিপ অনুযায়ী, ট্রাম্প খুব একটা জনপ্রিয় নন। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুতে ট্রাম্পের অবস্থান রাজা চার্লসের দীর্ঘদিনের পরিবেশবাদী অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাজ্য সরকার আশা করছে,এই সফরের মাধ্যমে দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্কের টানাপোড়েন কিছুটা কমবে এবং বৈশ্বিক ইস্যুগুলোতে সহযোগিতা জোরদার হবে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি