| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

১৩ মে টাঙ্গাইলে ভয়াল টর্নেডোর বিভীষিকা আজও তাড়া করে মানুষকে

reporter
  • আপডেট টাইম: মে ১৩, ২০২৬ ইং | ১৩:৩৭:০৬:অপরাহ্ন  |  ২৯৬ বার পঠিত
১৩ মে টাঙ্গাইলে ভয়াল টর্নেডোর বিভীষিকা আজও তাড়া করে মানুষকে

কালিহাতী (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি: আজ ১৩ মে। টাঙ্গাইলবাসীর জন্য এক শোকাবহ ও বেদনাময় দিন। ১৯৯৬ সালের এই দিনে ভয়ংকর টর্নেডোর তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড হয়ে গিয়েছিল জেলার বিস্তীর্ণ জনপদ। মুহূর্তের মধ্যেই শত শত প্রাণহানি, হাজারো ঘরবাড়ি ধ্বংস আর অসংখ্য পরিবারের স্বপ্নচূর্ণ হওয়ার সেই বিভীষিকা আজও ভুলতে পারেননি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মানুষ।

সেদিন বিকেল ৪টা ১৭ মিনিটে গোপালপুর উপজেলার হেমনগরের বেলুয়া গ্রাম থেকে শুরু হয় ভয়াল টর্নেডো। মাত্র ২ থেকে ৩ মিনিটের ব্যবধানে গোপালপুর, কালিহাতী, ঘাটাইল, বাসাইল ও সখীপুর উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ওই টর্নেডোয় প্রাণ হারান ২৩৭ জন এবং আহত হন ৩০ হাজারের বেশি মানুষ। তবে স্থানীয়দের দাবি, প্রকৃত মৃতের সংখ্যা সরকারি হিসাবের চেয়েও বেশি ছিল।

সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয় গোপালপুর উপজেলায়। বরভিটা, বরখালী, মির্জাপুর, জয়নগর ও আলমনগরসহ অন্তত ১৬টি গ্রাম প্রায় নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। শুধু গোপালপুরেই নিহত হন ১০৪ জন। পরে বিকেল সোয়া ৫টার দিকে কালিহাতীর রামপুর ও কুকরাইল এলাকায় দ্বিতীয় দফা টর্নেডোর আঘাতে আরও ১০৫ জনের মৃত্যু হয়। অনেক পরিবার সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। মরদেহ দাফনের জায়গা সংকট হওয়ায় অনেককে গণকবরে সমাহিত করতে হয়েছিল।

এদিকে বাসাইল উপজেলার মিরিকপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে ধান কাটতে আসা শ্রমিকরা আশ্রয় নিয়েছিলেন। কিন্তু টর্নেডোর আঘাতে বিদ্যালয় ভবন ধসে পড়ে বহু শ্রমিক নিহত হন। পরদিন বিভিন্ন খাল-বিল ও জলাশয় থেকে অসংখ্য মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ভয়াবহ ওই দুর্যোগে প্রায় ৮৫ হাজার ঘরবাড়ি, ৮৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ১৭টি মসজিদ ও ১৪টি মন্দির ধ্বংস হয়েছিল।

তিন দশক পেরিয়ে গেলেও সেই দিনের দুঃসহ স্মৃতি এখনো তাড়া করে ফেরে দুর্গত এলাকার মানুষকে। আকাশে কালো মেঘ জমলেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গ্রামগুলোতে। স্বজন হারানোর বেদনা এখনো বহন করে চলেছেন অনেকে।

দিবসটি উপলক্ষে এবারও গোপালপুরের আলমনগর, কালিহাতীর রামপুর খামারবাড়ি এবং বাসাইলের মিরিকপুর এলাকায় দোয়া মাহফিল, স্মরণসভা আয়োজন করা হয়।

টাঙ্গাইলবাসীর কাছে ১৩ মে শুধু একটি তারিখ নয়, এটি এক ভয়াল স্মৃতি, গভীর শোক এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ সম্পর্কে সতর্ক থাকার এক অনন্ত বার্তা।

রিপোর্টার্স২৪/এসএন

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪