জয়পুরহাট প্রতিনিধি : জ্বালানি তেলের সংকট শুধু সড়কে নয়, প্রভাব ফেলেছে সরাসরি বাজারেও। জয়পুরহাটে মোটরসাইকেল ব্যবসা এখন এক ধরনের নীরব মন্দার মুখে। পাম্পে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে তেল না পাওয়ার হতাশা, সঙ্গে কঠোর নিয়মনীতির চাপ- সব মিলিয়ে নতুন মোটরসাইকেল কেনার আগ্রহ হারাচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
জেলার বেশিরভাগ জ্বালানি পাম্পে সরবরাহ বন্ধ বা সীমিত থাকায় প্রতিদিনই দেখা যাচ্ছে ভোগান্তির চিত্র। যেখানে তেল পাওয়া যাচ্ছে, সেখানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও নিশ্চিত মিলছে না জ্বালানি। এর ওপর রেজিস্ট্রেশন, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও হেলমেট বাধ্যতামূলক করায় অনেক চালকই পড়ছেন বাড়তি ঝামেলায়।
এই বাস্তবতায় মোটরসাইকেল বাজারে তৈরি হয়েছে অস্বাভাবিক স্থবিরতা। শোরুমগুলোতে ক্রেতা উপস্থিতি অর্ধেকে নেমে এসেছে। ঈদ মৌসুমেও প্রত্যাশিত বিক্রি হয়নি, আর ঈদের পর তো অনেক শোরুমে দিন পার হচ্ছে একটিও গাড়ি বিক্রি ছাড়াই। আকর্ষণীয় ছাড় ও অফার থাকলেও ক্রেতারা আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, শুধু তেল সংকটই নয়- কৃষিনির্ভর এই অঞ্চলে আলুর কম দামও ক্রয়ক্ষমতায় প্রভাব ফেলেছে। ফলে একদিকে আয় কমেছে, অন্যদিকে জ্বালানি অনিশ্চয়তা- দুটির চাপে মানুষ নতুন বাইক কেনা থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন।
এ পরিস্থিতিতে মোটরসাইকেলের পাশাপাশি সেচযন্ত্রের বাজারেও নেমে এসেছে মন্দা। জ্বালানি না থাকায় কৃষি সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতির চাহিদাও কমে গেছে।
প্রশাসন অবশ্য বলছে, জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনতেই কঠোরতা। প্রতিটি পাম্পে তদারকি জোরদার করা হয়েছে। তবে ব্যবসায়ী ও ভোক্তারা মনে করছেন, দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে এই স্থবিরতা দীর্ঘমেয়াদি সংকটে রূপ নিতে পারে।
রিপোর্টার্স২৪/আরকে