চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: চট্টগ্রাম নগরীর তিনটি হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ২৫ জন শিশু ভর্তি আছে। এখন পর্যন্ত জেলায় দুই জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে বলে স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে। সোমবার চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন জাহাঙ্গীর আলম এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি লেন, এখন পর্যন্ত নগরীর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, মা ও শিশু হাসপাতাল ও জেনারেল হাসপাতালে হামের উপসর্গ সর্দি, কাশি ও জ্বর নিয়ে ২৫ জন শিশু ভর্তি আছে।
চট্টগ্রাম মহানগর এবং ১৫টি উপজেলা থেকে এখন পর্যন্ত ৪০ জনের নমুনা নিয়ে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। তাদের মধ্যে ৩৮ জনের নেগেটিভ এবং দুজন শিশুর হাম পজেটিভ এসেছে। হাম আক্রান্ত দুই শিশুর মধ্যে একজন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং অন্যজন আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতালে ভর্তি আছে বলে সিভিল সার্জন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, চট্টগ্রামে হামে আক্রান্ত হয়ে কারো মৃত্যু হয়নি।
চট্টগ্রামে হাম আক্রান্ত হয়ে শিশু মৃত্যুর তথ্য ছড়ানোর বিষয়ে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এটা সঠিক নয়। তবে গত কয়েকদিনে সন্দেহভাজন নিউমোনিয়া আক্রান্ত হয়ে পাঁচজনের মত শিশু মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে তিনজন মা ও শিশু হাসপাতালে মারা গেছে বলে জানতে পেরেছি। এসব শিশুর নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, “হ্যাঁ, তাদের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। তাদের শরীরে হাম শনাক্ত হয়নি।
এদিকে, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন করে সিটি মেয়র শাহাদাত হোসেন জানিয়েছেন সেখানে হামে আক্রান্ত একজন এবং নিউমোনিয়ার উপসর্গ নিয়ে ১৭ জন শিশু ভর্তি আছে।
সোমবার দুপুরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শনে আসেন মেয়র শাহাদাত হোসেন। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দিন।
চিকিৎসক মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেন, আমি সরেজমিনে দেখেছি, এখানে টোটাল রোগী আছে ১৮ জন। সাসপেক্টেড নিউমোনিয়ার রোগী ১৭ জন, একজন রোগী হচ্ছে মিসেলস (হাম)। আরেকটা রোগী আমরা দেখেছি রুবেলা।
তিনি আরো বলেন, আল্টিমেটলি যে রোগীগুলো মারা যাচ্ছে এগুলো কিন্তু নিউমোনিয়া থেকে মারা যাচ্ছে। ডিউ টু কার্ডিও রেসপিরেটরি ফিলিউর অ্যান্ড রেসপিরেটরি ডিসট্রেস। ডেথ রেট যেটা আজকে পেপারে এসছে প্রায় ৫ জনের মত। এখানে হাসপাতালের ডিরেক্টর এবং শিশু বিশেষজ্ঞরাও আছেন। ভয়ের কিছু নেই। নিউমোনিয়া রোগী তো সবসময় আসছে। সর্দি কাশি থেকে ফুসফুস ইনফেকশন হলে আমরা নিউমোনিয়া বলি।
চট্টগ্রাম মেডিকেলে চিকিৎসা সুবিধা বিষয়ে মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেন, নিউমোনিয়ার জন্য সিরিয়াস রোগী হলে এখানে নিউনেটাল আইসিইউ এবং পেডিয়াট্রিক আইসিইউ আছে ২০ বেডের। সিরিয়াস কোনো কেস তৈরি হলে আইসিইউ ফ্যাসিলিটি দিতে পারবে। সবাই প্রস্তুতি নিয়ে আছে।
অন্য এক প্রশ্নের জবাবে মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেন, “চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে কোনো ঘাটতি নেই। আমাদের পর্যাপ্ত পরিমাণে টিকা রয়েছে এবং টিকা দিচ্ছে। একজন মেয়র হিসেবে নয় একজন ডাক্তার হিসেবে এবং সচেতন নগর সেবক হিসেবে বলতে চাই, যে টিকাগুলো জন্মের পর থেকে দেওয়া শুরু করেছি, সব ভ্যাকসিনেসনের অধীনে আনতে পারলে এ ধরণের কোনো ভ্যাকসিন ডেফিসিয়েনসি রিলেটেড রোগ হবে না।”
এর আগে রোববার বিকাল পর্যন্ত আগের এক সপ্তাহে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ‘হাম ও হামজনিত নিউমোনিয়ার লক্ষণ নিয়ে’ ১২ জন শিশু ভর্তির তথ্য জানিয়েছিল হাসপাতালটির কর্তৃপক্ষ।
হাসপাতালের শিশু স্বাস্থ্য বিভাগে পৃথক একটি কর্নার চালু করা হয়েছে। সেখানে আক্রান্ত এবং হাম ও নিউমোনিয়ার উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া শিশুদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
রিপোর্টার্স২৪/মিতু