আশিস গুপ্ত, নয়াদিল্লি : শনিবার নেপালের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী কে.পি. শর্মা ওলিকে তাঁর ভক্তপুরের বাসভবন থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে জেন-জেড প্রজন্মের নেতৃত্বে পরিচালিত দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনে ‘অপরাধমূলক অবহেলা’র অভিযোগে এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। ওলির পাশাপাশি নেপালি কংগ্রেসের নেতা তথা প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখককেও কাঠমান্ডু থেকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।
নেপালের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের দায়ের করা একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হওয়ার পর এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
কাঠমান্ডু পুলিশ জানিয়েছে, গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে সরকার যেভাবে আন্দোলন দমন করেছিল, সেই সংক্রান্ত তদন্ত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই এই আটক। উল্লেখযোগ্য যে, গত বছরের সেই আন্দোলনে অন্তত ৭০ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন এবং ওলি সরকারের পতন ঘটেছিল।
এই গ্রেপ্তারির ঘটনায় নেপালের রাজনৈতিক মহলে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। ওলির দল সিপিএন-ইউএমএল (CPN-UML) এই পদক্ষেপকে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ বলে অভিহিত করেছে। গ্রেপ্তারির পর ওলি তাঁর আইনজীবীদের জানিয়েছেন যে, এই পদক্ষেপ প্রতিশোধমূলক এবং তিনি এর আইনি লড়াই লড়বেন। তিনি কোনো প্রকার হিংসাত্মক ঘটনায় তাঁর ভূমিকা অস্বীকার করেছেন। দলের পক্ষ থেকে বিষ্ণু পৌডেল এবং রাম বাহাদুর থাপা ‘বাদল’কে অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে আলোচনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং গোকর্ণ বিষ্ট আইনি লড়াইয়ের বিষয়টি সমন্বয় করবেন।
অন্যদিকে, রমেশ লেখকের গ্রেপ্তারির পর নেপালি কংগ্রেসও জরুরি আলোচনা শুরু করেছে এবং শীঘ্রই একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়ার কথা জানিয়েছে। কাঠমান্ডু উপত্যকা পুলিশের মুখপাত্র ওম অধিকারী জানিয়েছেন যে, সরকার গঠিত একটি তদন্ত কমিশনের সুপারিশ মেনেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং বর্তমানে পুরো বিষয়টি আইন মেনে এগোবে। যদিও এখন পর্যন্ত তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।
এই গ্রেপ্তারির নেপথ্যে রয়েছে গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসের সেই রক্তাক্ত গণআন্দোলন। প্রাথমিকভাবে সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ করার প্রতিবাদে শুরু হলেও পরে তা দুর্নীতি ও অর্থনৈতিক স্থবিরতার বিরুদ্ধে একটি বৃহত্তর সরকার বিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। সেই সময় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটেছিল। যদিও তদন্ত কমিশন গুলিবর্ষণের সরাসরি কোনো নির্দেশ খুঁজে পায়নি, তবে হিংসা নিয়ন্ত্রণে র্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের চরম ব্যর্থতা ও অবহেলার কথা উল্লেখ করেছে। কাকতালীয়ভাবে, এই গ্রেপ্তারি এমন এক সময়ে ঘটল যখন নেপালের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জনপ্রিয় র্যাপার তথা রাজনীতিবিদ বালেন্দ্র শাহ (বালেন) শপথ নেওয়ার ২৪ ঘন্টাও পার হয়নি। বালেন তাঁর নির্বাচনী প্রচারে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং আন্দোলনের সময় নিহতদের জন্য ন্যায়বিচারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
নতুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুদান গুরুং জানিয়েছেন যে, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয় এবং এটি কোনো ব্যক্তিগত প্রতিশোধ নয় বরং ন্যায়বিচারের শুরু। নেপালের এই নাটকীয় রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রভাব প্রতিবেশী দেশগুলিতেও পড়েছে; ভারতের দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল এই ঘটনাকে ‘অতীতের অপকর্মের ফল’ হিসেবে সোশ্যাল মিডিয়ায় বর্ণনা করেছেন।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি