রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার ৪ নম্বর পলাশবাড়ী ইউনিয়নের মধ্য আটরাই গ্রামের নাসিমা বেগম (৪০), যিনি ২০১৩ সালের রানা প্লাজার ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত উদ্ধার হন, রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ায় বাস দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। তার সঙ্গে ভাগনি আজমিরা খাতুন, ভাগনির স্বামী আব্দুল আজিজ আজাদ ও চার বছরের শিশু আব্দুর রহমানও প্রাণ হারান।
পরিবারের অনুসারে, নাসিমা জীবিকার তাগিদে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি ঢাকার সাভারে ভাগনি আজমিরার বাড়িতে যান, তবে চাকরি না পাওয়ায় ঈদ উপলক্ষে ফরিদপুরে শ্বশুরবাড়িতে যান। ঈদের পর তারা বাসযোগে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন। রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ফেরিঘাট এলাকায় পৌঁছলে বাসটি পদ্মা নদীতে পড়ে। আব্দুল আজিজ জীবিত উদ্ধার হলেও অন্যরা ডুবে যান।
নিহতদের লাশ উদ্ধার করে অ্যাম্বুলেন্সে বাড়ির পথে নেওয়া হলে কুষ্টিয়া এলাকায় গাড়িটি ছোট ধরনের দুর্ঘটনার শিকার হয়। তবে এতে গুরুতর ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। শুক্রবার জুমার পর নিহতদের পারিবারিক কবরে দাফন করা হয়েছে।
নাসিমার চাচাতো ভাই জুলফিকার আলী জানান, রানা প্লাজার সময় তিনি তিন দিন ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে ছিলেন এবং অলৌকিকভাবে বেঁচে যান। স্বামীর মৃত্যুর পর জীবিকার তাগিদে তিনি ঢাকা ফিরে যান, যা তার জন্য শেষ হয়ে দাঁড়াল।
পার্বতীপুর মডেল থানার ওসি আ. ওয়াদুদ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাদ্দাম হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে ২৫ হাজার টাকা নগদ সহায়তা প্রদান করেন।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি