| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

মেয়েকে নিয়ে সাঁতরে পল্টুনের কাছে আসেন শাকিলা, আনতে পারেননি ছেলেকে

reporter
  • আপডেট টাইম: মার্চ ২৬, ২০২৬ ইং | ১৬:১৯:৩০:অপরাহ্ন  |  ৪৫২১১৭ বার পঠিত
মেয়েকে নিয়ে সাঁতরে পল্টুনের কাছে আসেন শাকিলা, আনতে পারেননি ছেলেকে

রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: ঈদের ছুটি শেষে স্বপ্নভরা ঢাকামুখী যাত্রা মুহূর্তেই রূপ নেয় ভয়াবহ ট্র্যাজেডিতে। রাজবাড়ী থেকে ঢাকায় আসার পথে পদ্মায় বাস দুর্ঘটনায় সন্তান হারিয়ে শোকের সাগরে ডুবে গেলেন শাকিলা বেগম।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, ঈদের ছুটিতে ননদ নিশি বাবার বাড়িতে এসেছিলেন। ঘুরতে যাওয়ার ইচ্ছা ছিল শাকিলারও। তাই ছুটি শেষে শাকিলা, তার ছেলে সাবিত (৮), মেয়ে সাবিহা, ননদ নিশি ও নিশির মেয়ে সোহানাকে নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন। কিন্তু দৌলতদিয়ায় পন্টুন থেকে বাসটি নদীতে পড়ে গেলে ঘটে মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনা।

প্রতিবেশী মরিয়ম আক্তার জানান, বাসটি পদ্মায় পড়ে যাওয়ার পর শাকিলা এক হাতে মেয়েকে নিয়ে প্রাণপণে সাঁতরে পল্টুনের দিকে আসেন। সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা লোকজনকে তিনি আকুলভাবে বলেন, ভাই, আমার মেয়েটাকে ধরেন, আমি বাস থেকে ছেলেকে নিয়ে আসি।

কিন্তু উপস্থিত লোকজন পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝে মা-মেয়ে দুজনকেই টেনে তুলে নেন। তারা জানতেন, আবার নদীতে নামলে শাকিলা হয়তো আর ফিরে আসতে পারবেন না। পল্টুনে ওঠার পরই অজ্ঞান হয়ে পড়েন তিনি। এই দুর্ঘটনায় শাকিলার ছেলে সাবিত এবং ননদের মেয়ে সোহানা (১০) প্রাণ হারায়। বেঁচে ফিরেছে তার মেয়ে সাবিহা ও ননদ নিশি।

স্থানীয়রা জানান, শাকিলা দাদশী ইউনিয়নের আগমাড়াই গ্রামের বাসিন্দা। তার স্বামী শরিফুল ইসলাম পেশায় একজন রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী। নিহত সাবিত স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির ছাত্র ছিল।

নিশি আক্তার ঢাকায় একটি গার্মেন্টসে কাজ করতেন। স্বামী ও একমাত্র মেয়ে সোহানাকে নিয়ে সেখানেই বসবাস করতেন। ঈদের ছুটিতে বাড়িতে এসে আবার ঢাকায় ফেরার পথেই ঘটে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) দুপুরে আগমাড়াই গ্রামে শরিফুলের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, দুই শিশুর মরদেহ পাশাপাশি রাখা। পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ।

সন্তান হারানো বাবা শরিফুল ছেলের নিথর দেহের পাশে বসে বিলাপ করছেন। শোকে বাকরুদ্ধ মা শাকিলা মাঝে মাঝে ছেলের নাম ধরে কাঁদছেন। আর মেয়ে হারানো নিশি যেন স্তব্ধ চোখের জলও যেন শুকিয়ে গেছে, মাঝেমধ্যে মূর্ছা যাচ্ছেন।

স্বজন সিরাজুল ইসলাম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, এ দৃশ্য দেখা যায় না। একটা সুখী পরিবারে এমন কালো ছায়া নেমে আসবে কেউ ভাবেনি। একটি আনন্দভ্রমণ মুহূর্তেই পরিণত হলো আজীবনের বেদনায় এই দুর্ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল, এক মুহূর্তেই বদলে যেতে পারে জীবনের সব হিসাব।


রিপোর্টার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪