আন্তর্জাতিক ডেস্ক: কোনো আঞ্চলিক দেশের সহায়তায় ইরানের একটি দ্বীপ দখলের চেষ্টা হলে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানানো হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ বলেছেন, এমন উদ্যোগ নিলে সংশ্লিষ্ট দেশের ‘গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে’ টানা হামলা চালানো হবে।
বুধবার সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তিনি জানান, গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী ইরানের ‘শত্রুরা’ একটি আঞ্চলিক দেশের সহায়তায় ইরানি দ্বীপ দখলের পরিকল্পনা করছে। ইরানি বাহিনী এসব তৎপরতা নজরদারিতে রেখেছে।
এ সতর্কবার্তা এমন সময় এলো, যখন ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন একদিকে ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনার কথা বলছে, অন্যদিকে নতুন করে সেনা মোতায়েন ও হুমকি জারি রাখছে। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইরানকে ‘বাস্তবতা মেনে নিতে হবে’, না হলে আরও কঠোর হামলার মুখে পড়তে হবে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র উপসাগরীয় অঞ্চলে অতিরিক্ত সেনা পাঠাচ্ছে। খবর অনুযায়ী, প্রায় ২ হাজার সেনা এবং মেরিন বাহিনীর ইউনিট মোতায়েন করা হচ্ছে, যা সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা বাড়িয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সম্ভাব্য লক্ষ্য হতে পারে খার্গ দ্বীপ, যা ইরানের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কিছু সূত্রের ধারণা, এ ক্ষেত্রে সংযুক্ত আরব আমিরাত যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করতে পারে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সূত্র জানিয়েছে, দেশটির ভূখণ্ডে কোনো সামরিক হামলা হলে তারা নতুন ফ্রন্ট খুলতে পারে, বিশেষ করে বাব আল-মান্দেব প্রণালী এলাকায়। এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে চাপ সৃষ্টি করার সক্ষমতা ইরানের রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
এ ছাড়া ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরাও প্রয়োজনে এই প্রণালী নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে, যুদ্ধ অবসানে যুক্তরাষ্ট্র একটি ১৫ দফা প্রস্তাব দিয়েছে বলে জানা গেছে, আর ইরানও নিজস্ব শর্ত দিয়েছে। যদিও তেহরান আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার কথা অস্বীকার করেছে, তবু আড়ালে মধ্যস্থতার মাধ্যমে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি