জামালপুর প্রতিনিধি: জামালপুরের ইসলামপুরে বিএনপির ৩ নেতাসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে সাবেক পৌর কাউন্সিলরের কাছে চাঁদা দাবি অভিযোগ উঠেছে। চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় বাড়িতে হামলা, ভাংচুর, লুটপাট, মারধর ও তার দুই মেয়েকে লাঞ্ছিত ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে ।
এ ঘটনায় বিএনপির ৩ নেতাসহ ৭ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ২০-২৫ জনের বিরুদ্ধে ইসলামপুর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী সাবেক পৌর কাউন্সিলর সামিউল হকের স্ত্রী নাজমা বেগম।
জানা যায়, পলবান্ধা উজানপাড়া গ্রামের পিতামৃত-রফিকুলের ছেলে আব্দুর রাজ্জাক (৩৯), নটারকান্দা গ্রামের মনিরুজ্জামান নুতু ছেলে মোঃ হাসান, পিতামৃত-ওমর আলীর ছেলে মোঃ হাসমত (৩৭), মোঃ আলীনুর ইসলাম (৪৮) পিতা-অজ্ঞাত, সাং-দর্জিপাড়া, মোঃ নুরুজ্জামান (৩৫) পিতা-মোঃ সুলতান, উত্তর দরিয়াবাদ, মোঃ মোছাদ (২৩) পিতা-মোঃ সাবানুর, পলবান্ধা উজানপাড়া, ইসলামপুর এবং মোঃ রোকনুজ্জামান খান (রোকন) (৪৫) পিতা-মৃত-আহাম্মেদ আলী খান (লোটন) সুরুলিয়া মেলান্দহসহ অজ্ঞাতনামা ২০/২৫ জন চাঁদাবাজ।
গত ২৩ মার্চ গভীর রাতে ইসলামপুর পৌর শহরের পলবান্ধা উত্তানপাড়ায় বাদীর বসত বাড়ীতে হামলা চালায়। নাজমা বেগম অভিযোগে উল্লেখ করেন, ঘটনার ৪-৫ দিন আগে বিবাদী আব্দুর রাজ্জাক আমার স্বামী মোঃ সামিউল হকের নিকট পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। আমার স্বামী অন্যায় দাবিকৃত চাঁদার টাকা না দেওয়ায় ২৩ মার্চ রাত অনুমান ১২.২০ মিনিটে আমার বাড়ীর আঙ্গিনায় অর্তকিত ভাবে প্রবেশ করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। আমি গালিগালাজ করতে নিষেধ করলে বিরাদীরা আমার উপর উত্তেজিত ও ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে এবং আমার স্বামী মোঃ সামিয়াল হককে খুন করার হুমকি দেয়।
আব্দুর রাজ্জাকের নির্দেশে অন্যান্যরা আমার ঘরের কেচি গেইট ও বারান্দার গ্রিলে লোহার রড় দিয়ে এলোপাতারি হামলা চালায়। এসময় পুরা এলাকায় আতঙ্কের সৃষ্টি হয়।
আমার ডাকচিৎকারে মনিরা বেগম ঘুম থেকে উঠে মারমুখি অবস্থায় দেখে তাদের অনুরোধ করে। এসময় হাসান আমার ভাতিজি মনিরা বেগমকে এলোপাথারীভাবে কিল-ঘুষি লাথি মারতে থাকে। ওই সময় উক্ত বিবাদী আমার ভাতিজা বউকে ধাক্কাতে ধাক্কাতে ঘরের সামনে মাটিতে ফেলে দেয়। আলীনুর আমার ভাতিজার বউয়ের পরিহিত কাপড় টানা হেচড়া করে।
বিএনপির দলীয় সুত্র জানায়, মোঃ আসমত আলী উপজেলা বিএনপির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক, মোঃ হাসান পৌর বিএনপির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক এবং আলীনুর ইসলাম উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক বলে জানা গেছে।
ইসলামপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নবাবের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। এ ব্যাপারে ইসলামপুর থানা ওসি আব্দুল কাইয়ুম গাজী বলেন, কাউন্সিলের স্ত্রীর একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
রিপোর্টার্স২৪/মিতু