রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: পবিত্র ঈদুল ফিতরের দীর্ঘ ছুটিকে কেন্দ্র করে পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি ও সাজেক ভ্যালি পর্যটকের পদে পদে মুখরিত। তবে জ্বালানি তেলের সংকট ভ্রমণপিপাসুদের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অকটেন ও পেট্রোলের অপ্রতুলতায় অনেক পর্যটকই তাদের পরিকল্পনা বাতিল বা সংক্ষিপ্ত করতে বাধ্য হচ্ছেন।
ঈদ উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেলে হাজারো পর্যটক খাগড়াছড়ি ও সাজেকের উদ্দেশ্যে ছুটে আসেন। কিন্তু জেলায় হঠাৎ দেখা দেওয়া তেল সংকট তাদের ভ্রমণে বড় বিঘ্ন সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে সাজেকগামী পর্যটকদের একটি বড় অংশ খাগড়াছড়িতে এসে অকটেন বা পেট্রোল না পেয়ে বিপাকে পড়ছেন। অনেকেই সাজেক যাওয়ার পরিকল্পনা বাতিল করছেন, কেউ কেউ সংক্ষিপ্ত ভ্রমণ শেষে ফিরে যাচ্ছেন।
আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্রে ঘুরতে আসা তরুণরা জানিয়েছেন, জেলার একাধিক ফিলিং স্টেশনে খোঁজ নিয়েও তারা তেল পাননি। ফলে তাদের কাঙ্ক্ষিত সাজেক ভ্রমণ আর সম্ভব হয়নি।
তেল সংকটে ভোগান্তি
খাগড়াছড়ি জেলার ‘মেসার্স মেহেরুন্নেচ্ছা ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, ‘অকটেন নেই’ লেখা ফেস্টুন টানানো রয়েছে। স্টেশন কর্তৃপক্ষ জানায়, মজুদ তেলের স্তর ফিল্টার লাইনের নিচে নেমে যাওয়ায় সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে মোটরসাইকেল আরোহীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও তেল না পেয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে।
এই সংকটে শুধু পর্যটকরাই নয়, স্থানীয় বাসিন্দারাও বিপাকে পড়েছেন। দৈনন্দিন কাজে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত যানবাহনের জন্য তেল না পাওয়ায় সমস্যায় পড়ছেন অনেকেই।
ফিলিং স্টেশনটির ব্যবস্থাপক প্রবীর কুমার দাশ জানান, শনিবার দুপুরের পর থেকেই অকটেন শেষ হয়ে গেছে। ডিপো থেকে সরবরাহ বন্ধ থাকায় নতুন তেল আনা সম্ভব হয়নি। তবে সোমবার দুপুরের পর সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার আশা প্রকাশ করেন তিনি।
খাগড়াছড়ি পর্যটন মোটেলের ব্যবস্থাপক ক্যাচিং মারমা বলেন, তেল সংকটের কারণে ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেলের সংখ্যা কমে যাওয়ায় প্রত্যাশার তুলনায় পর্যটকের আগমন কিছুটা কমেছে। এতে স্থানীয় পর্যটন শিল্পে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত জানান, ঈদ উপলক্ষে যানবাহনের চাপ বেড়ে যাওয়ায় ফিলিং স্টেশনগুলোতে অস্থায়ী তেল সংকট সৃষ্টি হয়েছে। তবে জেলায় স্থায়ী কোনো জ্বালানি সংকট নেই।
সূত্র জানায়, খাগড়াছড়ি জেলায় প্রতিদিন গড়ে ২৫–৩০ হাজার লিটার তেলের চাহিদা থাকে। ঈদসহ দীর্ঘ ছুটিতে পর্যটকের চাপ বাড়লে চাহিদা আরও বেড়ে যায়, যা সাময়িক সংকটের কারণ হিসেবে দেখা দেয়।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম