কুমিল্লা ডেস্ক: কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় ১২ জন নিহত ও অন্তত ১৪ জন আহত হয়েছেন। রোববার (২২ মার্চ) সকালে সংঘটিত এই দুর্ঘটনায় ঈদ আনন্দের পরিবর্তে স্বজনরা ব্যথার সাগরে ভেসে যাচ্ছেন।
শুক্রবার (২১ মার্চ) রাত পৌনে ৩টার দিকে চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী ওয়ান-আপ ট্রেন ধাক্কা দেয় চুয়াডাঙ্গা থেকে লক্ষ্মীপুরগামী মামুন স্পেশাল পরিবহনের একটি বাসকে। সংঘর্ষের তীব্রতা এতটাই ছিল যে, বাসটি প্রায় এক কিলোমিটার টেনে নিয়ে যায় ট্রেনটি।
স্থানীয় ও যাত্রীদের অভিযোগ, দুর্ঘটনার মূল কারণ গেটম্যানের অবহেলা। ক্রসিংয়ে যথাযথ সতর্ক সংকেত ছিল না বলে দাবি করেছেন তারা। একজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, প্রথম দেখছি একজন মহিলা দরজার কোণায় পড়ে আছে। আমরা কয়েকজন মিলে যারা বের করা যায় তাদের উপরের কাঁচ ভেঙে বের করেছি।
ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক মো. ইদ্রিস জানিয়েছেন, রাস্তার যে সিগন্যালম্যান থাকে, তিনি উপস্থিত ছিলেন কি না, বা ব্লক করতেন কি না, তা স্পষ্ট নয়। হয়তো তিনি ব্লক করলে এত বড় দুর্ঘটনা হতো না।
এ ঘটনায় জেলা প্রশাসনের একটি এবং রেলওয়ের পক্ষ থেকে দুইটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ রেজা হাসান জানান, “রেল মন্ত্রণালয় থেকে দুইটি এবং জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি কমিটি গঠন করেছি। এর মাধ্যমে দুর্ঘটনার পূর্ণাঙ্গ কারণ জানা যাবে।”
এই দুর্ঘটনা ব্যস্ত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের জন্য একটি সতর্কবার্তা। এখন প্রশ্ন উঠছে। এটি কি শুধুই দুর্ঘটনা, নাকি অব্যবস্থাপনা ও অবহেলার ফলাফল? তদন্ত শেষে অবশ্য উত্তর মিললেও, পরিবারগুলোকে ঈদকে স্মরণ করতে হবে রক্তাক্ত ও শোকাবহ হিসেবে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম