সিনিয়র রিপোর্টার: রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় টিকটক কনটেন্ট নির্মাতা ও কলেজছাত্র রাকিব ইসলাম হত্যাকাণ্ডের পেছনে এক তরুণীর সঙ্গে তার যোগাযোগকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সন্দেহই মূল কারণ বলে জানিয়েছে পুলিশ। ওই তরুণীর স্বামী সাজিদের নির্দেশে ভাড়াটে খুনিদের দিয়ে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে দাবি করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।
বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর মিন্টু রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে রমনা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম এ তথ্য জানান।
পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন শিহাব, জয়, রাফিন, সাগর ও সালাউদ্দিন। এর মধ্যে রাফিনকে ঘটনাস্থল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে শিহাব ও জয়কে খুলনা থেকে, সাগরকে পটুয়াখালী থেকে এবং সালাউদ্দিনকে গোপালগঞ্জ থেকে আটক করা হয়।
ডিসি মাসুদ আলম বলেন, খুলনা অঞ্চলের মাদক কারবারি সাজিদের সঙ্গে একসময় রাকিবের সুসম্পর্ক ছিল। তবে সাজিদের স্ত্রী জান্নাত মুনের সঙ্গে রাকিবের যোগাযোগ নিয়ে সন্দেহ তৈরি হলে, সেই সন্দেহ থেকেই হত্যার পরিকল্পনা করা হয়।
তিনি জানান, জান্নাত মুনের সঙ্গে রাকিবের সম্পর্ক কতদূর গিয়েছিল তা এখনও নিশ্চিত নয়। তবে সাজিদ বিষয়টি সন্দেহের চোখে দেখে দীর্ঘদিন ধরে রাকিবকে হুমকি দিয়ে আসছিলেন। পরবর্তীতে ভাড়াটে খুনিদের অর্থের বিনিময়ে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়।
পুলিশের তথ্যমতে, গ্রেপ্তার পাঁচজনের মধ্যে চারজন সরাসরি হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয়। গুলি চালানো ব্যক্তি আলামিন এখনও পলাতক। শিহাব, জয় ও রাফিন ধারালো অস্ত্র দিয়ে রাকিবকে আঘাত করে, সাগর ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকলেও সরাসরি হামলায় অংশ নেয়নি। অন্যদিকে সালাউদ্দিন অস্ত্র সরবরাহ ও পুরো ঘটনার সমন্বয়ের দায়িত্বে ছিল।
তদন্তে আরও জানা গেছে, হত্যাকারীরা পরিকল্পিতভাবে খুলনা থেকে ঢাকায় আসে এবং রাজধানীর বিভিন্ন হোটেলে অবস্থান নেয়। ফকিরাপুলের একটি হোটেল ও সোনারগাঁও হোটেলে তাদের অবস্থানের তথ্য সিসিটিভি ফুটেজে পাওয়া গেছে।
পুলিশ জানায়, হত্যার আগে তারা রাকিবকে নিয়মিত অনুসরণ (রেকি) করে। রাকিব প্রায় প্রতিদিন রাতে শহীদ মিনার এলাকায় যেতেন এবং টিকটক কনটেন্ট তৈরির কারণে তার একটি পরিচিত মহল ছিল।
ঘটনার দিন পরিকল্পনা অনুযায়ী চারজন সরাসরি হামলায় অংশ নেয় এবং অন্যরা ব্যাকআপে ছিল।ডিসি মাসুদ আলম জানান, এ ঘটনায় আরও সাত থেকে আটজনকে শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
এদিকে তদন্তে উঠে এসেছে, রাকিব দুই থেকে তিন বছর আগে প্রথম বিয়ে করেন। পরে চার থেকে পাঁচ মাস আগে ‘সাফা’ নামে আরেক তরুণীকে বিয়ে করেন। এছাড়া জান্নাত মুন নামে এক কনটেন্ট নির্মাতার সঙ্গে তিনি নিয়মিত টিকটক ভিডিও করতেন।পুলিশের দাবি, এই জান্নাত মুনের স্বামী সাজিদই খুলনা থেকে ভাড়াটে খুনি পাঠিয়ে রাকিবকে হত্যা করিয়েছে।
ডিসি মাসুদ আলম বলেন, তদন্ত এখনো চলমান। কোথাও কোনো ঘাটতি থাকলে তা যাচাই করে পূর্ণ চিত্র তুলে ধরা হবে।তিনি আরও বলেন, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কিছু অপরাধী চক্র অর্থের বিনিময়ে ভয়ংকর অপরাধে জড়িত থাকে এবং এ ধরনের চক্র অত্যন্ত সংগঠিত ও দুর্ধর্ষ।
গত রোববার (১৫ মার্চ) রাতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় বন্ধুদের সঙ্গে অবস্থানকালে রাকিবকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করা হয় এবং পরে মাথায় গুলি করলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। তিনি বোরহান উদ্দিন কলেজের বিএ দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
রাকিবের বাড়ি ভোলা সদর উপজেলার চৌমুহনী গ্রামে। তিনি ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডে পরিবারের সঙ্গে বসবাস করতেন।ঘটনার পরদিনই তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছিলেন, ‘নারী-সংক্রান্ত বিরোধ’কে কেন্দ্র করেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি