রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের পেছনে রাজনৈতিক ও বিচারিক সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল বলে মন্তব্য করেছেন আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া। তিনি বলেন, তৎকালীন আপিল বিভাগের বিচারপতি খায়রুল হকের নেতৃত্বে দেওয়া রায়ের মাধ্যমে এই ব্যবস্থা বাতিল করা হয়, যা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলেছে।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর মতিঝিলে নিজ কার্যালয়ে ত্রয়োদশ সংশোধনীর রায় নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
সংবাদ সম্মেলনে ড. শরীফ ভূঁইয়া দাবি করেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলের রায়টি ছিল একটি বিতর্কিত ও বিকৃত সিদ্ধান্ত, যার ফলে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন সংকটের সূচনা হয়। তার মতে, এই সিদ্ধান্তের পর থেকে দেশে দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নানা প্রশ্নের মুখে পড়ে।
তিনি আরও বলেন, প্রায় ১৬ বছর ধরে যে স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থার কথা বলা হচ্ছে, তার সূচনাও এই সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়েই। তার ভাষায়, দলীয় প্রভাবিত বিচারিক সিদ্ধান্ত দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেয়।
ড. শরীফ ভূঁইয়া উল্লেখ করেন, এই সিদ্ধান্তের দায় থেকে সুপ্রিম কোর্টও পুরোপুরি মুক্ত নয়। তবে পরবর্তীতে আপিল বিভাগ তাদের আগের অবস্থান পুনর্বিবেচনার উদ্যোগ নেয়, ফলে বিষয়টি আবার আলোচনায় আসে এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার। তিনি বলেন, দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শক্তিশালী করতে একটি গ্রহণযোগ্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধান নির্বাচনের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলো দায়িত্বশীলতা ও প্রজ্ঞার পরিচয় দেবে। তার মতে, একটি নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচন করা গেলে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
বদিউল আলম মজুমদার আরও বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও সমঝোতা তৈরি করা জরুরি। কারণ একটি গ্রহণযোগ্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার নির্বাচন প্রক্রিয়ার ওপর জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, নির্বাচনকে অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য করতে হলে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্যমত্য গড়ে তোলা প্রয়োজন। সংবিধান ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে একটি কার্যকর পদ্ধতির মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধান নির্বাচন করা উচিত।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত অন্যান্য বক্তারাও বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অপরিহার্য। এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল ভূমিকা, আইনের সঠিক প্রয়োগ এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের চর্চা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম