স্টাফ রিপোর্টার: ঈদযাত্রাকে সামনে রেখে যাত্রীদের স্বস্তিদায়ক ভ্রমণ নিশ্চিত করতে বাস মালিকরা নানা প্রস্তুতি নিলেও জ্বালানি তেলের সংকট সেই পরিকল্পনায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তেল না পাওয়ায় অনেক বাস নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যেতে পারছে না। ফলে একদিকে যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়ছেন, অন্যদিকে বাস কাউন্টারকর্মীরাও পড়ছেন চরম বিড়ম্বনায়।
সোমবার (১৬ মার্চ) রাজধানীর কল্যাণপুর ও সায়দাবাদ বাস টার্মিনাল ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। সরেজমিনে দেখা যায়, ইফতারের পর থেকেই বিভিন্ন বাস কাউন্টারে যাত্রীদের ভিড় বাড়তে থাকে। অনেকেই আগাম টিকিট কেটে নির্ধারিত বাসের অপেক্ষায় বসে আছেন। আবার কেউ টিকিট সংগ্রহের জন্য এক কাউন্টার থেকে আরেক কাউন্টারে ঘুরছেন। তবে নির্ধারিত সময়ে বাস না আসায় যাত্রীদের মধ্যে অসন্তোষও দেখা যাচ্ছে।
যাত্রীদের অভিযোগ, প্রায় সব বাসই নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দেরিতে ছাড়ছে। অনেকেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও বাস পাচ্ছেন না। কাউন্টারকর্মীরা বলছেন, পাম্পে তেল নিতে দেরি হওয়ায় বাসগুলো সময়মতো টার্মিনালে পৌঁছাতে পারছে না। ফলে নির্ধারিত সময়ের সিডিউলও ভেঙে যাচ্ছে।
শ্যামলী বাসের কাউন্টার মাস্টার কিশোর কুমার বলেন, যাত্রীচাপ কিছুটা বেড়েছে। তবে বাস সময়মতো ছাড়তে না পারায় ভিড়টা আরও বেশি মনে হচ্ছে। সময়মতো বাস ছাড়তে পারলে এতটা ভিড় হতো না।
বাস দেরিতে ছাড়ার কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, পাম্পে তেল নিতে অনেক সময় লাগছে। একটি পাম্প থেকে পুরো তেল পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে একটি বাসে তেল নিতে কখনো কখনো দুটি পাম্পে যেতে হচ্ছে। এতে বাস কাউন্টারে পৌঁছাতে দেরি হচ্ছে এবং নির্ধারিত সময়ে বাস ছাড়তে পারছি না।
তিনি আরও বলেন, সব বাস দেরি করছে না। যে বাসগুলো আগে তেল নিয়ে কাউন্টারে পৌঁছাতে পারছে, সেগুলো আগে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। আর যেগুলোর তেল নিতে বেশি সময় লাগছে, সেগুলো দেরিতে ছাড়ছে। এতে যাত্রীদের সামাল দিতে কাউন্টারকর্মীদেরও বেশ বেগ পেতে হচ্ছে।
হানিফ এন্টারপ্রাইজের কাউন্টার মাস্টার আকাশ বলেন, এখনো পুরোপুরি ঈদযাত্রার চাপ শুরু হয়নি, তবে দিন যত যাচ্ছে যাত্রীসংখ্যা ধীরে ধীরে বাড়ছে। প্রতি ঈদেই অতিরিক্ত যাত্রী সামাল দিতে কিছু বাস রিজার্ভ রাখা হয়। তবে এবার তেলের সংকট থাকায় সিডিউলের বাসগুলোই সময়মতো ছাড়তে সমস্যা হচ্ছে, তাই আপাতত রিজার্ভ বাস রাখার কোনো পরিকল্পনা নেই।
নীলফামারী যাওয়ার উদ্দেশ্যে অপেক্ষা করা যাত্রী মাজহারুল ইসলাম বলেন, ঈদের আগে আজই তার শেষ অফিস ছিল। বিকেল সাড়ে চারটার দিকে বাস কাউন্টারে এলেও পাঁচটার বাস এখনো আসেনি। বারবার কাউন্টারে খোঁজ নিলেও তাকে শুধু অপেক্ষা করতে বলা হচ্ছে।
আরেক যাত্রী বলেন, পাম্পগুলোতে নাকি তেল নিতে দীর্ঘ লাইন পড়ছে এবং পর্যাপ্ত তেল দেওয়া হচ্ছে না। অথচ সরকার বলছে গণপরিবহনের জন্য তেলের কোনো সংকট নেই। বাস্তবে পরিস্থিতি ভিন্ন বলেই মনে হচ্ছে।
এদিকে সড়ক ও সেতু, রেল ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানিয়েছেন, নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার কোনো অভিযোগ এখনো পাওয়া যায়নি। যাত্রীর চাপ সামাল দিতে পর্যাপ্ত বাস প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং টার্মিনালে যানবাহন প্রবেশ ও বের হওয়ার আলাদা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যাতে প্রধান সড়কে যানজট সৃষ্টি না হয়।
তিনি আরও জানান, আগামী দুই থেকে আড়াই দিনের মধ্যে প্রায় দেড় কোটি মানুষ ঢাকা ছাড়বেন। সরকারি বিভিন্ন সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করে নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক ঈদযাত্রা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে। তবে যাত্রীদের অভিযোগ, মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা অনেক ক্ষেত্রে ভিন্ন হওয়ায় ভোগান্তি এখনও পুরোপুরি কমেনি।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব