নিজস্ব প্রতিবেদক: পবিত্র ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফিরতে শুরু করেছে ঘরমুখো মানুষ। গতকাল শনিবার (১৫ মার্চ) সকাল ৬টা থেকে রাজধানী ঢাকা থেকে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ গ্রামের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন। রাজধানীর কমলাপুর রেল স্টেশন, সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল আর সায়েদাবাদ বাস স্টপেজে ভিড় বাড়ছে ঘরমুখো মানুষেন।
কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে রোববার (১৬ মার্চ) ৪৩টি আন্তঃনগর ট্রেন বিভিন্ন গন্তব্যে ছেড়ে গেছে। এছাড়া, বিভিন্ন রুটে কমিউটার ট্রেনও ঢাকা ছেড়েছে। আন্তঃনগর ট্রেনগুলোর মধ্যে শুধু রংপুর এক্সপ্রেস ২০ মিনিট বিলম্বে স্টেশন ত্যাগ করে।
অন্য আন্তঃনগর ট্রেনগুলো যথাসময়ে ছেড়েছে। তবে আখাউড়াগামী তিতাস কমিউটার, চট্টগ্রামগামী কর্ণফুলী কমিউটার, জামালপুরগামী জামালপুর কমিউটার, মোহনগঞ্জগামী মহুয়া কমিউটার, চাঁপাইনবাবগঞ্জগামী চাঁপাই কমিউটার, খুলনাগামী নকশিকাঁথা কমিউটার এবং জয়দেবপুরগামী তুরাগ কমিউটার সময়মতো না ছাড়ায় যাত্রীদের ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে।
সদরঘাট টার্মিনাল এলাকা ঘুরে দেখা যায়— টার্মিনাল ও পন্টুন এলাকায় উপচেপড়া ভিড় যাত্রীদের। যাত্রীদের ছোটাছুটি আর লঞ্চের স্টাফদের হাক-ডাকে পুরনো রূপে ফিরেছে সদরঘাট। কানায়-কানায় যাত্রী পূর্ণ লঞ্চগুলো ছেড়ে যাচ্ছে গন্তব্যে।
লঞ্চ সংশ্লিষ্টরা জানান, এদিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চাঁদপুর রুটের যাত্রী ছিল বেশি। সন্ধ্যার পর যাত্রীর চাপ কিছুটা কমেছে। যাত্রীর চাপ সামাল দিতে ছাড়া হচ্ছে বিশেষ লঞ্চ।
বিআইডব্লিউটিএ সূত্র জানায়, এদিন রাত ৮টা পর্যন্ত ৮০টা করে লঞ্চের আগমন ও নির্গমন হয়েছে। পর্যাপ্ত বিশেষ লঞ্চের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রয়োজন হলেই পন্টুনে বিশেষ লঞ্চ ভেড়ানো হচ্ছে।
বিআইডব্লিউটিএ ঢাকা নদীবন্দরের যুগ্ম পরিচালক মোবারক হোসেন বলেন, ‘সন্ধ্যা থেকে যাত্রীর চাপ কম। এখন বেশিরভাগই বরিশাল রুটের লঞ্চ ছেড়ে যাবে। সকাল থেকে বেশি চাপ ছিল যাত্রীর। আমরা পর্যাপ্ত বিশেষ লঞ্চের ব্যবস্থা রেখেছি। সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হচ্ছে, যেন যাত্রীরা কোনও বিপত্তি ছাড়ায় গন্তব্যে যেতে পারেন।’
গাবতলী বাস টার্মিনালে দেখা যায়, উত্তরবঙ্গগামী বাসে যাত্রীদের চাপ বেশি। পরিবার-পরিজন নিয়ে অনেকে ব্যাগ, ট্রলি ও নানা মালপত্রসহ বাসে উঠতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। কেউ আবার শিশু ও বয়স্ক সদস্যদের নিয়ে বাসের জন্য অপেক্ষা করছেন।
মহাখালী বাস টার্মিনালে ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল ও উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার যাত্রীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। যাত্রীরা জানান, ঈদের আগের কয়েকদিন যানজট ও অতিরিক্ত ভিড় এড়াতে তারা আগেভাগেই বাড়ির পথে রওনা হয়েছেন।
অন্যদিকে সায়েদাবাদ ও যাত্রাবাড়ী এলাকায় চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, নোয়াখালী ও ফেনীগামী বাসগুলোর কাউন্টারে যাত্রীদের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। অনেকে বাসে উঠতে হুড়োহুড়ি করলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন।
যাত্রীদের অনেকেই অভিযোগ করেন, কিছু বাস কাউন্টারে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে কেউ যেন অতিরিক্ত টাকা আদায় করতে না পারে সে বিষয়ে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
পরিবহন সংশ্লিষ্টরা জানান, ঈদের আগে যাত্রীদের চাপ আরও বাড়বে। তাই যাত্রীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় যাত্রা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত বাস চালানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/এসএন