| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

অকুতোভয় নেত্রী ও দূরদৃষ্টিসম্পন্ন রাষ্ট্রনায়ক ছিলেন খালেদা জিয়া: মির্জা ফখরুল

reporter
  • আপডেট টাইম: মার্চ ১২, ২০২৬ ইং | ১৫:৩৫:৫৮:অপরাহ্ন  |  ৫৬৬৮৪০ বার পঠিত
অকুতোভয় নেত্রী ও দূরদৃষ্টিসম্পন্ন রাষ্ট্রনায়ক ছিলেন খালেদা জিয়া: মির্জা ফখরুল

রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: বিএনপি মহাসচিব ও এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, খালেদা জিয়া ছিলেন একজন মহীয়সী নারী, অকুতোভয় ও অসীম সাহসী নেত্রী এবং দূরদৃষ্টিসম্পন্ন রাষ্ট্রনায়ক। তিনি বলেন, বাংলাদেশের ৫৪ বছরের ইতিহাসে প্রায় ৪৩ বছর তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন এবং দেশের গণতন্ত্রের জন্য আপসহীন সংগ্রাম করে গেছেন।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে আনা শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল।

বক্তব্যের শুরুতে তিনি স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে শহীদ লাখো মানুষ, দীর্ঘ ১৮ বছরের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে প্রাণ দেওয়া ও নিখোঁজ নেতাকর্মী এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে নিহত তরুণদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

খালেদা জিয়ার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, তিনি তিনবার বিপুল ভোটে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এবং দুবার বিরোধীদলীয় নেত্রী নির্বাচিত হয়েছিলেন। প্রতিটি দায়িত্ব পালনের সময় তার প্রধান লক্ষ্য ছিল দেশে গণতন্ত্রকে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করানো।

মির্জা ফখরুল বলেন, রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা থেকে সংসদীয় সরকার ব্যবস্থায় উত্তরণ, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে খালেদা জিয়ার ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক।

নারী শিক্ষা বিস্তারে খালেদা জিয়ার অবদানের কথাও তুলে ধরেন তিনি। বলেন, তার সময়েই মেয়েদের জন্য দশম শ্রেণি পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষা চালু করা হয় এবং প্রাথমিক শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করা হয়।

তিনি আরও বলেন, দেশের উচ্চশিক্ষা বিস্তারের লক্ষ্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল খালেদা জিয়ার উদ্যোগেই। পাশাপাশি কৃষকদের স্বস্তি দিতে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করা হয় এবং ২৫ বিঘা পর্যন্ত জমির খাজনা মাফ করে দেওয়া হয়েছিল।

অর্থনৈতিক সংস্কারের প্রসঙ্গ তুলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, মুক্তবাজার অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) চালু করা হয় এবং বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের সুযোগ বাড়ানো হয়। একই সঙ্গে দারিদ্র্য বিমোচন, স্থানীয় সরকার শক্তিশালীকরণ এবং পরিবেশবান্ধব বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে একটি স্বনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলার চেষ্টা করেছিলেন তিনি।

বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবেও খালেদা জিয়ার সংগ্রামী ভূমিকার কথা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, তার পুরো রাজনৈতিক জীবনের মূল লক্ষ্যই ছিল গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা। ৪৩ বছরের রাজনৈতিক জীবনে তিনি কখনো গণতন্ত্র কিংবা বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আপস করেননি। এ কারণেই তিনি আজও দেশের মানুষের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি কবি আল মাহমুদ-এর লেখা খালেদা জিয়াকে উৎসর্গ করা ‘তোমার মুখের দিকে চেয়ে আছে বাংলার ভোরের আকাশ’ শীর্ষক কবিতার অংশ আবৃত্তি করে শোনান।

কবিতা পাঠ শেষে তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট শক্তি তাকে রাজনৈতিকভাবে নিশ্চিহ্ন করার যে ষড়যন্ত্র করেছিল, তা শেষ পর্যন্ত সফল হয়নি।

তিনি স্মরণ করেন, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে খালেদা জিয়া মুক্ত হয়েছিলেন এবং তখন জাতির উদ্দেশে তিনি বলেছিলেন— প্রতিশোধ নয়, প্রতিহিংসা নয়; বরং ভালোবাসা ও কল্যাণের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।


রিপোর্টার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪