রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়লেও বাংলাদেশের তেলবাহী জাহাজ চলাচলে বাধা না দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে ইরান। সরকারের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশের জ্বালানি পরিবহন অব্যাহত রাখতে সম্মতি জানিয়েছে দেশটি।
জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ করে। পরবর্তীতে ইরান জানিয়েছে, বাংলাদেশের জ্বালানিবাহী জাহাজগুলোকে বাধা দেওয়া হবে না। তবে এসব জাহাজ প্রণালিতে প্রবেশের আগে ইরানকে তথ্য জানাতে অনুরোধ করেছে তেহরান।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সচিবালয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত জলিল রহীমি জাহানাবাদীর বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জ্বালানি বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন।
একজন কর্মকর্তা জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জাহাজ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় বাংলাদেশের তেলবাহী জাহাজগুলোকে অব্যাহতি দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ইরান জানিয়েছে, জাহাজগুলো হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশের আগে তাদের অবহিত করতে হবে।
এদিকে দেশের জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে একাধিক উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ইতোমধ্যে সিঙ্গাপুর থেকে ২৭ হাজার টন ডিজেল নিয়ে একটি জাহাজ সোমবার চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে। চলতি সপ্তাহে আরও চারটি জাহাজ প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টনের বেশি জ্বালানি নিয়ে বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, বিদ্যমান দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির বাইরে বিকল্প উৎস থেকে প্রায় তিন লাখ টন ডিজেল সরাসরি ক্রয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরবরাহ অনিশ্চয়তার কারণে ডাইরেক্ট প্রোকিউরমেন্ট মেথড (ডিপিএম) ব্যবহার করে দ্রুত আমদানি নিশ্চিত করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
সরকারের তথ্য অনুযায়ী, স্বাভাবিক সময়ে দেশে প্রতিদিন প্রায় ১২ হাজার টন ডিজেলের চাহিদা থাকলেও বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ৯ হাজার টন সরবরাহ করা হচ্ছে। আসন্ন পাঁচটি চালানে আসা প্রায় ১ লাখ ৪৭ হাজার টন জ্বালানি দিয়ে প্রায় ১৬ দিনের জাতীয় চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে।
এদিকে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশকে সহায়তার আগ্রহ দেখিয়েছে চীন ও ভারতও। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, সম্ভাব্য জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।
বর্তমানে বাংলাদেশ মালয়েশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, চীন, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, ভারত, ওমান ও কুয়েতসহ আটটি দেশ থেকে পরিশোধিত জ্বালানি আমদানি করে থাকে।
সরকার বলছে, বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে সরবরাহ শৃঙ্খলে ঝুঁকি তৈরি হলেও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বিকল্প উৎস খোঁজাসহ সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/আরকে