| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

ঢাবি শিক্ষার্থীকে মারধর শেষে থানার সামনে ফেলে রেখে যায় তারা

reporter
  • আপডেট টাইম: মার্চ ০৯, ২০২৬ ইং | ১৪:০১:৪৮:অপরাহ্ন  |  ৫৬৬২৯৩ বার পঠিত
ঢাবি শিক্ষার্থীকে মারধর শেষে থানার সামনে ফেলে রেখে যায় তারা
ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত

স্টাফ রিপোর্টার: নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এক শিক্ষার্থীকে মধ্যরাতে আটক করে কয়েক দফা মারধরের অভিযোগ উঠেছে জাতীয় ছাত্রশক্তির কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে শাহবাগ থানার সামনে রেখে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী।

ভুক্তভোগী রাহিদ খান পাভেল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের ২০২০–২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার সঙ্গে জাতীয় ছাত্রশক্তির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতা সাইফুল্লাহ, হাসিব আল ইসলাম, সর্দার নাদিম মোহাম্মদ শুভ, মোহাম্মদ মহিউদ্দিন ও আবরারসহ আরও কয়েকজন জড়িত ছিলেন।

রাহিদ খান পাভেলের দাবি, তিনি সেহরি খাওয়ার জন্য বুয়েটের কাজী নজরুল ইসলাম হলে গিয়েছিলেন। সেখানে অভিযুক্ত কয়েকজন নেতাকর্মীর নেতৃত্বে প্রায় ২০–২৫ জন তাকে কোনো কারণ ছাড়াই দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা মারধর করেন।

তিনি বলেন, আমার কোনো অপরাধ থাকলে আমাকে পুলিশের হাতে তুলে দিতে বলেছিলাম। কিন্তু তারা আমার কোনো কথা শোনেনি।

পাভেলের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথমে বুয়েট ক্যাম্পাসের ভেতরে তাকে মারধর করা হয়। পরে রিকশায় তুলে সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের সামনে নেওয়া হয় এবং সেখানে আবারও তাকে পেটানো হয়। এরপর ভিসি চত্বরে নিয়ে গিয়ে মারধর করা হয় এবং রাজু ভাস্কর্যের সামনেও কিছু সময় আটকে রাখা হয়। পরে শাহবাগ থানার সামনে এনে তাকে ফেলে রেখে যাওয়া হয়। এমনকি থানার গেটের সামনেও তাকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, মারধরের সময় একটি মোবাইল ফোন, বাইকের চাবি ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। বাইকের চাবি দিয়ে মুখে ঘুষি মারা হয়েছে এবং বেল্ট দিয়ে পেটানো হয়েছে। এ সময় তাকে মাটিতে ফেলে লাথিও মারা হয়। বর্তমানে তার শরীরজুড়ে তীব্র ব্যথা রয়েছে এবং মুখ দিয়ে রক্ত বের হয়েছে বলেও জানান তিনি।

রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করে পাভেল বলেন, তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নন। তিনি নিয়মিত ক্লাস করা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং বিষয়টি যাচাই করতে চাইলে দর্শন বিভাগের শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলার আহ্বান জানান।

তবে অভিযুক্তদের একজন, জাতীয় ছাত্রশক্তির ঢাবি শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল্লাহ দাবি করেন, পাভেল জিয়া হলে থাকতেন এবং গত জুলাই আন্দোলনের সময় হামলায় জড়িত ছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিভাগ থেকেও তাকে বয়কট করা হয়েছে এবং এর আগে শিক্ষার্থীরা তাকে থানায় দিয়েছিল। তখন শর্ত দেওয়া হয়েছিল যে তিনি আর ক্যাম্পাসে আসবেন না।

সাইফুল্লাহ আরও বলেন, সম্প্রতি পাভেল ক্যাম্পাসে এসে সাবেক ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে ইফতার মাহফিল ও বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন এবং পোস্টারিংও করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তাকে আটক করার পর মোবাইল ফোন দেখতে চাইলে তিনি দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং প্রতিক্রিয়া দেখান। পরে শিক্ষার্থীরা তাকে থানায় দেয় বলে দাবি করেন তিনি।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক নেতা মোহাম্মদ সাকিবও দাবি করেন, পাভেল ছাত্রলীগের সদস্য ছিলেন এবং হল ও বিভাগ উভয় জায়গা থেকে বয়কটেড। তবে তার ছাত্রলীগের কোনো পদ বা আনুষ্ঠানিক প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি বলেও জানান তিনি।

এদিকে শাহবাগ থানার পরিদর্শক (অপারেশন) মো. খোকন মিয়া বলেন, একদল শিক্ষার্থী ছাত্রলীগ করার অভিযোগ তুলে তাকে থানায় রেখে যায়। বিষয়টি নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। সকাল ১০টার পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হতে পারে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দিন বলেন, বিষয়টি তিনি জানেন। তবে এ বিষয়ে পুলিশের সঙ্গে এখনো তার কথা হয়নি। তিনি বলেন, যদি ওই শিক্ষার্থী কোনো মামলার আসামি হন বা অপরাধে জড়িত থাকেন, তাহলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রিপোর্টার্স২৪/এসসি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪