স্টাফ রিপোর্টার: লিবিয়া থেকে স্বেচ্ছায় দেশে ফিরেছেন ১৬৫ জন বাংলাদেশি নাগরিক। শুক্রবার (৬ মার্চ) ভোরে বুরাক এয়ারের একটি ফ্লাইটে তারা ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। তাদের মধ্যে বেশিরভাগই লিবিয়ার বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে আটক ছিলেন এবং অনেকেই মানবপাচারের শিকার হয়ে সেখানে দুর্বিষহ পরিস্থিতির মধ্যে দিন কাটাচ্ছিলেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বার্তায় জানায়, প্রত্যাবাসিতদের মধ্যে বেনগাজীর গানফুদা ডিটেনশন সেন্টারে আটক ছিলেন ১৪৩ জন। এছাড়া বেনগাজী ও আশপাশের এলাকায় বসবাসকারী ২২ জন দুস্থ, অসহায় ও শারীরিকভাবে অসুস্থ বাংলাদেশিকেও একই ফ্লাইটে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত উদ্যোগে এ প্রত্যাবাসন কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। এতে সহযোগিতা করে লিবিয়া সরকার এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৫টার দিকে বুরাক এয়ারের ফ্লাইটটি ঢাকায় অবতরণ করে এবং বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাদের অভ্যর্থনা জানান।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, দেশে ফেরা বাংলাদেশিদের বেশিরভাগই মানবপাচারকারীদের প্ররোচনায় সমুদ্রপথে অবৈধভাবে ইউরোপে যাওয়ার উদ্দেশ্যে লিবিয়ায় প্রবেশ করেছিলেন। উন্নত জীবনের আশায় তারা বিপজ্জনক এই যাত্রায় অংশ নিলেও সেখানে গিয়ে অনেকে অপহরণ, নির্যাতন এবং অমানবিক পরিস্থিতির মুখোমুখি হন। অনেককে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী বা দালাল চক্র আটক করে মুক্তিপণ দাবি করার ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
প্রত্যাবাসনের পর বিমানবন্দরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে তাদের স্বাগত জানান এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যেন কেউ অবৈধ পথে বিদেশগমনের ঝুঁকিতে না পড়েন, সে বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে প্রত্যাবাসিতদের তাদের অভিজ্ঞতা সবার সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার পক্ষ থেকে প্রত্যাবাসিত প্রত্যেক ব্যক্তিকে প্রাথমিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পথখরচ, খাদ্যসামগ্রী, প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা এবং যাদের প্রয়োজন তাদের জন্য অস্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, লিবিয়ার বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে এখনও আটক থাকা বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, লিবিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাস এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা যৌথভাবে কাজ করে যাচ্ছে। পাশাপাশি মানবপাচার রোধ এবং অবৈধ অভিবাসন বন্ধে সরকার সচেতনতামূলক কার্যক্রমও জোরদার করছে।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব