জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি: চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় হাফিজুর ইসলাম (৪৫) নামের জামায়াতে ইসলামীর এক কর্মী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের আরও ৬ জন আহত হয়েছেন।
শনিবার (১ মার্চ) রাত ৮টার দিকে উপজেলার হাসাদাহ বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
এ ঘটনায় উপজেলার জামায়াত কর্মী সুটিয়া গ্রামের মৃত ওহাবের ছেলে হাফিজুর রহমান (৪৫) নিহত হয়েছেন। আহতরা হলেন মফিজুল ইসলাম (৪২) ও মাহফুজ হোসেন (২৫), এবং হাসাদাহ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মেহেদী হাসান (৩৬) ও তাঁর পিতা জসিম উদ্দিন (৬৫), তৌফিক (২৫)।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি পূর্ব শত্রুতার জের ধরে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মেহেদী হাসান জামায়াত-সমর্থকদের মারার উদ্দেশ্যে হাসুয়া নিয়ে সুটিয়া গ্রামে যান। সুটিয়া গ্রামের লোকজন বিষয়টি বুঝতে পেরে মেহেদী হাসানকে মারধর করে সুটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে আটকে রাখেন। পরে থানা-পুলিশ মেহেদী হাসানকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয়।
এই ঘটনার জের ধরে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে সুটিয়া গ্রামের বাসিন্দা খায়রুল ইসলাম হাসাদাহ বাজারে আসলে মেহেদী হাসান, জসিম উদ্দিন, ইমরান ও বাপ্পা মিলে তাঁকে কিল-ঘুষি মেরে আহত করে ছেড়ে দেয়। পরবর্তীতে এই ঘটনার আহত খায়রুল ইসলাম জামায়াতে ইসলামীর দলীয় লোকজন নিয়ে ইফতারির পর মেহেদী হাসানের বাড়িতে এসে ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ সময় লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে উভয় পক্ষের সমর্থকরা মুখোমুখি অবস্থান নেয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
হামলায় ৬ জনকে গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসক আহতদের মধ্যে ৪ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোরে রেফার করেন। যশোরে নেওয়ার পর হাফিজুর রহমানের অবস্থা আরও সংকটাপন্ন হলে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার পথে তিনি মারা যান। এ ঘটনার পর থেকে হাসাদাহ বাজার এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ঘটনার পর থেকেই ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন আছে।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেন চুয়াডাঙ্গার সহকারী পুলিশ সুপার (দামুড়হুদা সার্কেল) মো. আনোয়ারুল কবীর ও জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলাইমান শেখ।
জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলাইমান শেখ বলেন, ‘হাসাদাহ এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমান পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। এ ঘটনায় একজন মারা গেছেন। বাকি আহতরা চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় এখনো কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি। তবে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
রিপোর্টার্স২৪/এসএন