স্পোর্টস ডেস্ক: ভারত সফরে যেতে অস্বীকৃতি জানানোয় চলমান ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেলেও টাইগার সমর্থকদের জন্য স্বস্তির খবর দিয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। র্যাঙ্কিংয়ের ভিত্তিতে ২০২৮ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে যৌথভাবে আয়োজিত এই আসরের মূল পর্বে লাল-সবুজ জার্সিধারীরা সরাসরি অংশ নেবে।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আইসিসি ২০২৮ বিশ্বকাপের সরাসরি অংশগ্রহণকারী ১২টি দলের নাম চূড়ান্ত করে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আয়োজক দুই দেশ অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড স্বাগতিক হিসেবে সরাসরি মূল পর্বে খেলবে। এছাড়া নির্ধারিত কাট-অফ তারিখে টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষ অবস্থানে থাকা দলগুলোও সরাসরি সুযোগ পেয়েছে। সেই তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশ।
চলমান ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশের বাদ পড়া নিয়ে ক্রিকেটাঙ্গনে নানা আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হলেও, আইসিসির র্যাঙ্কিং কাঠামো অনুযায়ী ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবেই ২০২৮ আসরে সরাসরি অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত হয়েছে। গত কয়েক বছরে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ ও বৈশ্বিক আসরে প্রতিযোগিতামূলক পারফরম্যান্সের ফলেই টাইগাররা র্যাঙ্কিংয়ের সুবিধাজনক অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
২০২৮ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে মোট ২০টি দল অংশ নেবে। এর মধ্যে ১২টি দল সরাসরি খেলবে এবং বাকি ৮টি দল আঞ্চলিক বাছাইপর্ব ও গ্লোবাল কোয়ালিফায়ারের মাধ্যমে মূল আসরে জায়গা করে নেবে। ফলে সরাসরি সুযোগ পাওয়া দলগুলোকে অতিরিক্ত বাছাইপর্বের চাপ নিতে হবে না। প্রস্তুতির জন্য তারা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের সুযোগ পাবে।
ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, সরাসরি অংশগ্রহণ নিশ্চিত হওয়ায় দল গঠনে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, তরুণ খেলোয়াড়দের প্রস্তুত করা এবং কন্ডিশনভিত্তিক কৌশল নির্ধারণে বাংলাদেশ বাড়তি সময় পাবে। অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের উইকেট সাধারণত বাউন্সি ও গতিময় হওয়ায় পেস আক্রমণ শক্তিশালী করা এবং টপ অর্ডারের ব্যাটিং দৃঢ় করা হবে বড় চ্যালেঞ্জ।
দেশের ক্রিকেট প্রশাসন ও সমর্থকদের কাছে এই ঘোষণা স্বস্তির বার্তা হিসেবে এসেছে। ২০২৬ আসর নিয়ে সৃষ্ট অনিশ্চয়তার পর ২০২৮ বিশ্বকাপে সরাসরি জায়গা পাওয়া বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অবস্থান যে এখনও শক্ত রয়েছে, সেটিরই প্রমাণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এখন লক্ষ্য ২০২৮ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতি, দলীয় সমন্বয় এবং ধারাবাহিক সাফল্যের মাধ্যমে বৈশ্বিক মঞ্চে নিজেদের আরও প্রতিষ্ঠিত করা। টাইগারদের সামনে তাই নতুন উদ্দীপনা ও সম্ভাবনার দুয়ার খুলে গেছে।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি